আঠারো মাইল-কয়রা সড়ক নির্মাণে ঠিকাদারের অপরিকল্পিত ও স্বেচ্ছাচারি কার্যক্রমে জনভোগান্তি

বিজ্ঞাপন

খুলনার আঠারো মাইল -কয়রা ভায়া তালা-পাইকগাছা সড়ক নির্মাণে ঠিকাদারের অপরিকল্পিত ও স্বেচ্ছাচারি কার্যক্রমে বেড়েছে জনভোগান্তি। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নানা অসংগতির মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য বাজার সংলগ্ন সড়ক প্রস্থকরণ ও বাঁক সরলীকরণ। বাজার সংলগ্ন সড়ক প্রস্থকরণ কাজ দৃশ্যমান হলেও এখন পর্যন্ত বাঁক সরলীকরণ কাজের কোন অগ্রগতি তেমন লক্ষ করা যাচ্ছেনা।

এছাড়া নিম্নমানের উপকরণসহ কোন কোন এলাকায় পুরনো সড়কের অনেক স্থানে বø্যাক টপের মেয়াদোত্তীর্ণ বিটুমিন অপসারণ না করেই তার উপর পাথর-বালু মিশিয়ে কার্পেটিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে ।এছাড়া অপরিকল্পিত সড়কের নির্মাণ এলাকার আটকে পড়া শত শত বিভিন্ন পরিবহনের লম্বা সারি পার হতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে ঘন্টার পর ঘন্টা। এতে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে বৈ কমছেনা।

খুলনার আঠারো মাইল -কয়রা ভায়া তালা-পাইকগাছা সড়কটি অর্থনৈতিক দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্তে¡ও দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। সড়কটি অত্র এলাকার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। কয়রা-পাইকগাছা ও সাতক্ষীরার তালা উপজেলাসহ পাশর্^বর্তী কয়েকটি উপজেলার লাখ লাখ মানুষ জেলা ও রাজধানী শহরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অত্র সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে থাকে। বিগত কয়েক বছর আগে সংস্কারের অভাবে সড়কটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ার উপক্রম হয়।

এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের দীর্ঘ দিনের দাবী ব্যবহারের অনুপযোগী সড়ক সংস্কারের । এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের দাবীর বিষয়ে সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্শন করেন খুলনা-৬’র বর্তমান সংসদ মোঃ আকতারুজ্জামান বাবু এমপি। সংসদ সদস্যের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বর্তমান সরকার সড়কটির গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে এর উন্নয়নে একটি মেগা প্রকল্প অনুমোদন দেন।

সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, খুলনার আঠারো মাইল -কয়রা ভায়া তালা-পাইকগাছা ৬৪.৬০ কিঃমিঃ সড়ক উন্নয়নে ৩শ’ ৩৯ কোটি ৫৪ লাখ ৬৪ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেয় সরকার। বরাদ্ধ পর মেগা প্রকল্পে ৩৯ টি বাঁক সরলীকরণ ও সড়ক প্রশস্তকরণসহ ৬৪.৬০ কিঃমিঃ সড়ক উন্নয়নে টেন্ডার আহবান করা হয়।টেন্ডারের মাধ্যমে সড়ক নির্মাণের দায়িত্ব পান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোজাহার এন্টারপ্রাইজ। সড়কটির নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য মোঃ আকতারুজ্জামান বাবু এমপি। উদ্বোধনের পরেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কটি’র নির্মাণ কাজ শুরু করেন। সড়ক নির্মাণের শুরুতেই নানা অসংগতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।

আরো পড়ুন :
পদ্মায় অভিযানে দুই ব্যক্তিকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা
কলেজ ছাত্রী নিখোঁজ, অপহরণকারী আটক

প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য বাজার সংলগ্ন সড়ক প্রস্থকরণ ও ৩৯টি বাঁক সরলীকরণ। বাজার সংলগ্ন সড়ক প্রস্থকরণ কাজ দৃশ্যমান হলেও এখন পর্যন্ত ৩৯টি বাঁক সরলীকরণ কাজের কোন অগ্রগতি তেমন লক্ষ করা যাচ্ছেনা। তেমনি পুরোনো সড়কের অনেক স্থানে টপের মেয়াদোত্তীর্ণ বিটুমিন অপসারণ না করেই তার উপর পাথর-বালু মিশিয়ে কার্পেটিংয়ের প্রস্তুতি চলছে। প্রকল্পে বাঁক সরলীকরণ, পেভমেন্ট মজবুতকরণ ও আরসিসি কালভার্ট নির্মাণ কাজের স্থায়িত্ব ও মাণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

এলাকাবাসী জানায়, সড়কটি দিয়ে কয়রা, পাইকগাছাসহ পার্শ্ববর্তী সাতক্ষীরার আশাশুনি, তালা ও শ্যামনগর উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ জেলা শহরে যাতায়াতের পাশাপাশি এলাকার উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী জেলা সদরসহ দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে পৌছে দিতে ব্যবসায়ীদের কাছে সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সড়কটির নির্মাণ হলে এটি হবে অত্র এলাকার মানুষের স্বপ্নের সড়ক এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় সূচনা হবে নবদিগন্তের।

তালা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন জোয়ারদ্দার আক্ষেপ করে বলেন, প্রত্যন্ত জনপদের মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা সুগম করতে এবং ব্যবসায়িক উন্নয়নের স্বার্থে সড়কটি মজবুতকরণের জন্য যথেষ্ট অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। কিন্তু সড়ক ও জনপদ বিভাগের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের দূর্নীতির কারণে বরাদ্দ অনুযায়ী কাজের মান ভালো হচ্ছে না। তাছাড়া ঠিকাদারের অপরিকল্পিত ও স্বেচ্ছাচারি কার্যক্রমে জনভোগান্তিসহ ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোজাহার এন্টারপ্রাইজের সুপারভাইজার মো. শাহীন আহম্মদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সওজের প্রকৌশলীদের নির্দেশনা মেনে এবং প্রাক্কলন অনুসরণ করেই কাজ করা হচ্ছে। এর আগে পুরোনো সড়কের বø্যাক টপের বিটুমিন ফেলে দেওয়ার নিয়ম থাকলেও এবার নতুন পদ্ধতিতে কাজ হচ্ছে।জনভোগান্তির প্রসংঙ্গে তিনি বলেন,প্রকৃতির কাছে আমরা অসহায় ,বৃষ্টির জন্যই যত ভোগান্তি।

সওজের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আজিম কাওছার বলেন, পুরোনো সড়কের বø্যাক টপের বিটুমিন ল্যাব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ায় সেটি ব্যবহারে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তারা আশা করেন, এতে রাস্তার কোন সমস্যা হবে না। সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুজ্জামান মাসুদ বলেন, প্রকল্পের কাজে যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম না হয় সেদিকে সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে। যে কোনো অনিয়মের অভিযোগ পেলে আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে তা ঠিক করে দেওয়ার চেষ্টা করব। এছাড়া সড়ক প্রশস্ত করণ ও বাঁক সরলীকরণের বিষয়ে তিনি বলেন, কনক্রিট ঢালায় দিয়ে বাজার কেন্দ্রীক সড়কগুলো ২৪ফুট প্রশস্ত করণ করা হবে ,বাকী রাস্তা ১৮ফুট করে হবে। বাঁক সরলীকরণে জমি অধিগ্রহনের বিষয়ে মন্ত্রনালয়ে চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অক্টোবর ০১.২০২১ at ১১:৫৫:০০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/মোরোটি/রারি