যশোর সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে ইমরুলের ঘুষের রামরাজত্ব কায়েম

যশোর সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে এখন ঘুষের রামরাজত্ব কায়েম হয়েছে। সদরের সাব রেজিস্ট্রার ইমরুল হাসান যোগদানের পর পরই ঘুষ-দুর্নীতির একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই ঘুষ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ঘুষের মাধ্যমে প্রতিদিন হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। ধরি মাছ না ছুঁই পানি এমনই এক বিশেষ ব্যবস্থায় ঘুষের টাকা আদান প্রদান হলেও এই সিন্ডিকেট রয়েছে ধরা ছোয়ার বাইরে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘুষের টাকা আদান প্রদানের মুল ভুমিকায় রয়েছে শক্তিশালী সিন্ডকেট। এই সিন্ডিকেটের বেঁধে দেওয়া ঘুষের রেটের বাইরে কোন দলিল লেখক দলিল সম্পাদন করতে পারে না।
সুত্রমতে, হেবা দলিল প্রতি অফিস খরচ হিসাবে নেওয়া হয় ২০ শতাংশ। সরকারি আইনুযায়ী হেবা দলিলের ক্ষেত্রে ৩০০ টাকার হলফ নামাসহ রেজিষ্ট্রেশন ফি সর্বমোট ৮০০ টাকা। কবলা দলিলের ক্ষেত্রে পৌরসভার জন্য নির্ধারিত রেজিস্ট্রেশন ফি সাড়ে ১১ শতাংশ। এক্ষেত্রে এক লক্ষ টাকা মুল্যমানের দলিলে রেজিস্ট্রেশন ফি সাড়ে ১১ হাজার টাকা। এই টাকা পে অর্ডারের মাধ্যমে ব্যাংকে জমা দিতে হয়।
অথচ জমির গ্রহিতার কাছ থেকে ১৫ শতাংশও বেশি হারে টাকা আদায় করা হয়। দলিল মুল্য এক লাখ টাকা হলে প্রথম লাখে ৮০০ টাকা। পরবর্তী প্রতি লাখে ৩০০ টাকা হারে ঘুষের টাকা আদায় করা হয়। ঘুষ আদায়ে রেজিস্ট্রি অফিসের সংঘবদ্ধ একটি সিন্ডকেট অগ্রণী ভুমিকা পালন করে। এই সিন্ডিকেট এতোটাই শক্তিশালী যে এদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহষ পায়না। এক্ষেত্রে সাধারণ দলিল লেখকরা এই চক্রের কাছে জিম্মি। এই চক্রের নির্ধারিত রেটের বাইরে কোন দলিল লেখক দলিল সম্পাদন করতে পারেনা। এই সিন্ডিকেট যে হিসাব দেবে সেই টাকা দিতে বাধ্য করা হয় ক্রেতা।
সূত্র মতে, যশোর সদরের সাব রেজিস্ট্রার ইমরুল হাসান প্রায় ১৪ মাস আগে যোগদান করেন। তিনি যোগদানের পর থেকে ২৫ হাজারের বেশি দলিল সম্পাদনা করেছেন। আর দলিল সম্পাদনায় কোটি কোটি ঘুষের টাকা আদায় করেছেন।
রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ড রুমের অবস্থা আরো করুণ। রেকর্ড রুমের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমরুল হাসান ঘুষের রেট নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
সূত্র মতে, রেকর্ড রুম থেকে অনুরুপভাবে ঘুষের টাকা আদায় করে চলেছেন। রেকর্ড রুম থেকে টাকা কালেকশনের জন্য তিনি ক্যাশিয়ার নিয়োগ দিয়েছেন। রেকর্ড কিপার ভৈরব চক্রবর্তীকে প্রথমে নিয়োগ দেন। ভৈরব চক্রবর্তী টাকা আদায়ের জন্য নকল নবিশ নূর নবীকে তার সহযোগি হিসেবে নিয়োগ দেন। বর্তমান জেলা রেজিস্ট্রার আবু তালেব যোগদানের পর রেকর্ড কিপার ভৈরব চক্রবর্তীকে জেলা রেজিষ্টার কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। তার স্থলে বর্তমানে কর্মরত আছেন ভারপ্রাপ্ত রেকর্ড কিপার রমাপ্রসাদ চক্রবর্তী। রমাপ্রসাদও ঘুষের টাকা আদায়ের জন্য তার সহযোগি হিসেবে নকল নবিশ নূর নবীকে বহাল তবিয়তে রেখেছেন। নূর নবীকে বহাল তবিয়াতে রাখার পিছনে সদরের সাব রেজিস্ট্রার ইমরুল হাসান বিশেষ ভ‚মিকা পালন করে চলেছেন। রেজিস্ট্রি অফিসের সবচেয়ে গুরুত্ব পূর্ণ জায়গা হলো রেকর্ড রুম। রেকর্ড রুমে দলিলসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সংরক্ষিত থাকে। গত বুধবার ভারপ্রাপ্ত রেকর্ড কিপার রমাপ্রসাদ চক্রবর্তী খুলনার একটি কোর্টে নিকাহনামা নিয়ে যান। ওই দিন সারা দিন নকল নবিশ নূর নবীকে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড পরিচালনা করেন ঘুষখোর সাব রেজিস্ট্রার ইমরুল হাসান। বহিরাগত একজন মানুষকে কিজন্য রেকর্ড রুম দায়িত্ব দেওয়া হয়। দলিলসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজসহ ডকুমেন্ট হায়িয়ে যাওয়ার নজির রয়েছে। বালাম বইয়ের পাতা ছেড়া, কাটাসহ বিভিন্ন সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তারপরও রেকর্ড রুমে একজন স্থায়ী লোক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এমনকি মহরারকে দেওয়া হয়নি। এনিয়ে রেজিস্ট্রি অফিসে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র জানায়, রেকর্ড শাখা থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা অবৈধভাবে আদায় করা হয় নূর নবীকে দিয়ে। রেকর্ডের অবৈধ যে আয় তার সিংহভাগ পেয়ে থাকেন সদরের সাব রেজিস্ট্রার ইমরুল হাসান। এসব কারণে সাব রেজিস্ট্রার ইমরুল হাসান রেকর্ড শাখাটি নূর নবীকে দিয়ে চালাতে চান। দলিল সম্পাদনার মত অনুরুপভাবে ৫ থেকে ৭ কোটি ঘুষের টাকা আদায় করেছেন ইমরুল হাসান।
দলিল লেখক, নকল নবিশ ও ভুক্তভোগী জমি ক্রেতা বিক্রেতা সকলেই চায় দুর্নীতিবাজ সাব রেজিস্ট্রার ইমরুল হাসান, রেকর্ড কিপার রমাপ্রসাদ চক্রবর্তী ও নকল নবিশ নূর নবীর বিরুদ্ধে তদন্ত করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে সদরের সাব রেজিস্ট্রার ইমরুল হাসান বলেন, আমি রেকর্ড শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। এই শাখা কাকে দিয়ে চালাতে হবে তা আমি জানি। কারো কথায় আমি কাউকে সরাবো না। কারো কথায় চালাবো না।
ঘুষ আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকলে আমার উপরে কর্তকর্তা আছে। তার কাছে গিয়ে বলেন। এরপর তিনি আর কোন কথা বলেননি।

দেশদর্পণ/সুআ/বিএমফা/ইর