উপকূলীয় এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সাফিনের উদ্যোগ

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে “বিল্ডিং ফিউচার ক্লাইমেট এক্সপার্ট” প্রজেক্ট। প্রজেক্টটি “আগামীর জলবায়ু বিশেষজ্ঞ তৈরি” স্লোগান নিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ চারটি জেলায় কাজ করছে।

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় জাতিসংঘের ২৬তম জলবায়ু সম্মেলনকে সামনে রেখে বৃটিশ কাউন্সিল বিশ্বব্যাপী তরুণ সংগঠকদের জন্য “কপ-২৬ চ্যালেঞ্জ ফান্ড” চালু করে। ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গারের ইয়ূথ লিডার ইনজামুল সাফিন এর “বিল্ডিং ফিউচার ক্লাইমেট এক্সপার্ট” প্রজেক্টটি বৃটিশ কাউন্সিলের চ্যালেঞ্জ ফান্ড বিজয়ী হয়।

এই প্রকল্পের অধীনে বরগুনা, বরিশাল, ঝালকাঠি ও পটুয়াখালী জেলার ১০টি স্কুল ও কমিউনিটি পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এর মধ্যে “জলবায়ু পরিবর্তন ও এর প্রভাব”, “বাগান তৈরির পদ্ধতি ও কৌশল”, বীজ ও কলম থেকে নতুন গাছ তৈরির পদ্ধতি“ ইত্যাদি প্রশিক্ষণ কর্মসূচী উল্লেখযোগ্য। প্রকল্পের অধীনে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক কার্যক্রম আয়োজন করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে বরিশাল জেলার সদর উপজেলাধীন কর্ণকাঠী, বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলাধীন আঠারগাছিয়া, পটুয়াখালী জেলার সদর উপজেলাধীন লোহালিয়া, বরিশাল জেলার মুলাদী উপজেলাধীন গাছুয়া ও ঝালকাঠী জেলার সদর উপজেলাধীন নবগ্রামে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। প্রকল্পের আওতায় ১০টি ক্লাইমেট ক্লাব গঠণের রুপরেখা তৈরি করা হয়েছে। ক্লাবের সদস্যদের নিয়ে ১০টি বাগান তৈরি করারও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

ইতোপূর্বে পাঁচটি ক্লাব গঠণ ও তিনটি বাগান তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ক্লাবের সদস্যবৃন্দ “মিনিয়েচার ক্লাইমেট মডেল” প্রস্তুত করে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সচেতনতা সৃষ্টি করছেন। এই প্রকল্পের অধীনে জাতীয় পর্যায়ে “আইডিয়া কন্টেন্স অন বিল্ডিং ফিউচার ক্লাইমেট এক্সপার্ট” শীর্ষক প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়েছে।

এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী উম্মে সুমাইয়া প্রথম, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগের শিক্ষার্থী চিন্ময় মিত্র শুভ দ্বিতীয় এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ আলামীন হোসেন তৃতীয় স্থান অধিকার করেন।

বিল্ডিং ফিউচার ক্লাইমেট এক্সপার্ট প্রজেক্ট টিমের সদস্য তৌফিক বিন ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আমরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার তরুণদের সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও এবং অভিযোজনের জন্য কাজ করছি।

তিনি আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্টের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ঋতুবৈচিত্র বিনষ্ট, জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাবসহ বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় আমরা তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে কাজ করছি।

আরো পড়ুন:
পরিবেশ সুরক্ষায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই
করোনারোধী স্প্রে আবিস্কার করলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাদিয়া

প্রকল্পের ফোকাল পারসন ইনজামুল সাফিন বলেন, নানমুখী কার্যক্রমের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার স্কুলগামী কিশোর-কিশোরী ও তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব বিকাশের মাধ্যমে আগামী জলবায়ু বিশেষজ্ঞ তৈরিই আমাদের লক্ষ্য। এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি প্রজেক্টের টেকনিক্যাল পার্টনার হিসেবে সহযোগিতা করছে।

জুলাই,০.২০২১ at ১২:৩০:৪২ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/এমটি/এসআর