ঝোলায় ঝুলছে জীবাধার, মরনের হাট বাজারে যাযাবর

ইমাউল হক, পিপিএম

দুদকের পরিচালক জালাল সাহেব মারা গেছেন। পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। মহারাজা জনসন হাসপাতালে। বিশ্ব রাজা জনগণ মরনের হিসাব নিয়ে হতাশ। রানীর পরিবার তার প্রিন্সেস একজন হারিয়েছেন। কোন এক রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অর্থের হতাশায় মারা গেছেন। রাজা তার স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে কোন এক দেশে বরখাস্ত করেছেন।

যেসব দেশে একজনকে স্বাভাবিকভাবেই মরতে দেওয়া হয় না। সুস্থ মানুষ মারা গেলেও অনেক গবেষণা করা হয় মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে। সে দেশগুলি সেনাবাহিনী নামে দেশে লাশ কুড়াতে।

এসব দেশে মৃত্যু এখন ঝুলে পড়া ভারী বস্তুর মত।

প্রতিটা মানুষের জীবনী ঝুলছে যেকোনো মুহূর্তে ঝুলন্ত দড়ি ছিঁড়ে মৃত্যুর দোকানে যেয়ে হাজির হতে পারে।

হাট বাজারের মত স্থান থেকে লাশ কুড়িয়ে নিয়ে সার্জিক্যাল হতে দাফন করা হয়। দেখার সাহায্য করার মৃত্যু লাশ বহন করার কবর খোড়ার সৎকার করার মানুষও নেই। ভাইরাস আক্রান্ত একজন লোক আর একজনের পাশে আরেকজন কে ছুঁয়ে দিলে সহজেই তার মৃত্যু অনিবার্য। মৃত্যুর সাথে অপূর্ব রসিকতা। মিথ্যা যেন কৌতুকে পরিণত হয়ে গেছে। সহজলভ্য পণ্য হিসেবে একেবারেই কাছে হাট বাজারে উপস্থিত হয়ে গেছে মৃত্যু।

আমাদের দেশের শত্রু জায়গা জনবসতি অনেক। আত্মার আত্মা প্রিয় ভাই রেমিটেন্স যোদ্ধারা বিদেশ থেকে আসলেন দেশের স্বজনদের কাছে। তাহারা না আসিলে স্বয়ং তথ্যও এসে বাংলাদেশ ভাইরাস দিতে পারত না। চীন আমেরিকা ইতালির বাতাস বাংলাদেশের ভূমিতে আসতেও তিন বছর লাগার কথা।

উন্নত আদর্শ জাতি হয়েও আমরা নিজের ক্ষতি নিজেরাই ডেকে আনলাম। যাদের টানে বিদেশ থেকে আসলাম তারা এখন নিজের জানাজা টাও করে না। এই গল্প দিয়ে মনে হয় কোন সিনেমায় তৈরি হয়নি।

বিশ্বের প্রথম শ্রেণীর শহর নিউইয়র্ক। ঝরনা সেখানে নার্স। ফার্নান্দো সেখানে রোগী। ফার্নান্দো আক্রান্ত করোনাভাইরাস। চিকিৎসকের চিকিৎসকের নিকট যে দিন গিয়েছে সেদিন মারা গেলেন। পরদিন তার ভাই, তার দুইদিন পরে মা, তার ১২ দিন পরে বাবা, একমাস পরে একটু বোন ও বোনের ছেলে এই ভাইরাসে নিহত।

ঝর্নার শরীরের কোন লক্ষণ ছিল না। করোনাভাইরাস নি দিব্যি সুস্থ আছে। তার থেকে তার স্বামী আক্রান্ত হয়ে সওগাত পরপারে। মৃত্যু যেন উপন্যাসের চেয়েও সহজ।

জুলাই ঝুলন্ত জীবন নিয়ে আর কতদিন! কেউ জানে না। মানুষের প্রাণ অর্থাৎ মৃত্যু অনেক কঠিন কঠিন সময়! কি কঠিন জিনিস সহজ হয়ে গেছে।
কিন্তু আমরা তার চেয়ে সহজ কাজটি করলাম না। জেনেশুনে বিদেশ থেকে না আসলেই পারতাম।

এসেই যখন পড়েছি তখন 14 দিন করেন টাইনে থাকতাম।

সেটাও যখন থাকলাম না অন্তত ছুটিতে গ্রামের বাড়ি না যেতাম।

সেটাও যখন থাকলাম না অন্তত মাস্ক পড়ে থাকতে পারতাম।

সেটা যখন পারলাম না অন্তত ২০ মিনিট পরপর ঘন্টায় ৩ বার হাত ধুতে পারতাম।

অন্তত অন্য দেশের চাইতে আমাদের সরকার এই ব্যবস্থাপনায় অনেক অভাবে সুচিন্তিত নির্দেশনা দিয়েছেন সেটাও মানতে পারলাম না।
লকডাউন একবার ভাইয়ের বাসায় পরেরদিন বোনের বাসায় তারপরের দিন পিতার কাছে এরপরে স্ত্রীর কাছে।

এটি আমাদের দ্বারাই সম্ভব। কারণ আমরা বাজারে বাজারে ঘুরে অভ্যাস্ত । আমরা মরণের হাট বাজারের পণ্য হবোনা তো কারা হবে?
আমরা জানি শুধু বাজারের পণ্য হতে? ঝোলায় ঝুলে মরতে? কেন এমন আমরা?

আপনজনের মৃত্যু কে বাঁচাতে আমরা সিঙ্গাপুর আমেরিকা চলে যাই অথচ আমেরিকার মৃত্যু দেখে আমরা বাজারে যাওয়া বন্ধ করতে পারছি না।

এ নির্বুদ্ধিতার জন্য মারা গেলে কেউ আমাদের কবর করতে আসে না। ডিউটিরত পুলিশ করে জানাজা। এর চেয়ে দৈন্যদশা আর কি হতে পারে!

সব চেয়ে ভালো একটি প্রতিশ্রুতি দেই আগামীকাল থেকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলবো।

লেখক- ইমাউল হক, পিপিএম
পুলিশ পরিদর্শক ।