ভাষা সৈনিক লোকমান হাকিমের ইন্তেকাল : বিভিন্ন দলের শোক

বিজ্ঞাপন

খুলনার প্রবীন রাজনীতিক, প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা, ভাষা সৈনিক আলহাজ্ব লোকমান হাকিমের ইন্তেকালে গভীর শোক ও দু:খ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

বুধবার (২৬ মে) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক শোকবার্তায় নেতৃবৃন্দ মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

শোকবার্তায় নেতৃবৃন্দ বলেন, মহান ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে জীবনের প্রায় প্রতিটি মুহুর্ত খুলনার উন্নয়ন ও গণমানুষের মুক্তির জন্য লড়াই-সংগ্রামে ব্যাস্ত মানুষ লোকমান হাকিমের কথা খুলনাবাসী সকল সময়ই শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।

ভাষা সৈনিক লোকমান হাকিমের ইন্তেকালে শোক জানিয়েছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি, মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এনডিপি চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, বাংলাদেশ লেবার পার্টি চেয়ারম্যান হামদুল্লাহ আল মেহেদী ও মহাসচিব আবদুল্লাহ আল মামুন এবং গণ রাজনৈতিক জোট-গর্জো সভাপ্রধান সৈয়দ মঈনুজ্জমান লিটু।

উল্লেখ্য, ভাষা সৈনিক আলহাজ লোকমান হাকিম ১৯৪০ সালে খুলনার ফুলতলা উপজেলার দামোদর গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মৃত. ইউনুস আলী মোল্লা, মাতা- মৃত. রহিমা বেগম। তার চার ভাই ও পাঁচ বোন। তিনি দৌলতপুর হাজী মুহাম্মদ মুহসিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মেট্রিক পাস করেন। এরপর তিনি দৌলতপুর বিএল কলেজে এইচএসসি ভর্তি হন। লেখাপড়া করা অবস্থায় তিনি ১৯৬০ সালে খুলনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে যোগদান করেন। পরে তিনি বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্টোর কিপার হিসেবে কাজ শুরু করেন। তিনি ছাত্রজীবনে ছাত্র ইউনিয়ন ও ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ’র সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ভাষা আন্দোলনে বিশেষ অবদান রাখায় তিনি মাওলানা ভাসানী ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। ইন্তেকালের সময় তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।

লোকমান হাকিম ছোটবেলা থেকেই রাজনৈতিক পরিবেশে বড় হয়েছেন। সেখান থেকেই তিনি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানবতার পাশে দাঁড়ান। তিনি খুলনা হিরোজ ক্লাবে শৈশব ও কৈশোর কাটিয়েছেন। ক্লাবটি পরিচালনা করতেন ফেরদৌস আহমেদ, আব্দুল জলিল, আবু চেয়ারম্যানসহ অন্যরা। তিনি খেলাধুলার ফাঁকে রাজনীতিবিদদের সঙ্গে তৎকালীন তৃপ্তি নিলয় নামে গোলপাতার ঘরে ভাষা আন্দোলন নিয়ে আলোচনায় যুক্ত হতেন। সেই আলোচনা থেকেই তিনি ভাষা আন্দলনের সময় রাজপথে নেমে আসেন। তিনি আন্দোলনের সময় একাধিকবার গ্রেফতার ও পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং কারাবরণ করেছেন।