জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হলেন সাতক্ষীরার ছেলে শেখ ইউসুফ হারুন

শেখ ইউসুফ হারুন, সিনিয়র সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

সিনিয়র সচিব হয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন। রোববার (৪ এপ্রিল) তাকে সিনিয়র সচিব করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ জারি করা হয়েছে।

২০১৯ সালেল ৩০ ডিসেম্বর শেখ ইউসুফ হারুনকে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিবের পদ থেকে বদলি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়।

শেখ ইউসুফ হারুন ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে সচিব হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগদান করেন। এ মন্ত্রণালয়ে যোগদান করার পূর্বে তিনি স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে সচিব হিসেবে এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ অনুবিভাগে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে ২ বছরের অধিক সময় দায়িত্ব পালন করেন। সিভিল সার্ভিসের গুরুত্বপূর্ণ এ পদে কাজ করে তিনি ‘মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায়’ দক্ষতা অর্জন করেন। এ ছাড়া তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মহাপরিচালক হিসেবে তিন বছরের অধিক সময় কাজ করেন। এসময় তিনি শিল্প, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাত, বেসরকারি সংস্থা, বিনিয়োগ, বেসরকারি খাত উন্নয়ন, পিপিপি, বিডা, বেজা, বেপজা নিয়ে কাজ করার সুযোগ পান। চাকুরি জীবনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব (কলেজ) হিসেবে শিক্ষা ব্যবস্থাপনায়ও কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন।

মাঠ পর্যায়ে গোপালগঞ্জ ও ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক হিসেবে দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছর কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা লাভ করেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে দুইটি উপজেলায় কাজ করেন। এ সময় তিনি জনপ্রতিনিধি, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও উন্নয়ন প্রশাসনে কাজ করার বাস্তব দক্ষতা অর্জন করেন।

শেখ ইউসুফ হারুন সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও ১ম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে হবিগঞ্জ জেলায় দায়িত্ব পালন করেন। তাছাড়া তিনি শ্রীমঙ্গল ও জগন্নাথপুর উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে কাজ করে যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় দেন।

শেখ ইউসুফ হারুন ১৯৮৬ সালের ৮ম বি.সি.এস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৮৯ সালে সহকারী কমিশনার হিসেবে সুনামগঞ্জ কালেক্টরেটে যোগদান করেন। চাকুরিতে থাকাকালে তিনি বিভিন্ন দেশে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের উলভারহেমটন ইউনিভাসিটি ও যুক্তরাস্ট্রের হার্ভার্ড এবং ডিউক ইউনিভার্সিটি অন্যতম। তাছাড়া চাকুরি জীবনে তিনি থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানী, নরওয়ে, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, ইটালি, জাপান, ফিলিপাইন, সৌদি আরব, চীন, ডেনমার্ক, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, তুরস্ক, সুইজারল্যান্ড, এস্তোনিয়া, মালয়েশিয়া, আজারবাইজান ও কেনিয়া ভ্রমণ করেন।

শেখ ইউসুফ হারুন সাতক্ষীরা জেলার দরগাহপুর ইউনিয়নের দরগাহপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৬২ সালের ১৫ মে তারিখে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম শেখ আমিনূর রহমান একজন সরকারি চাকুরিজীবী এবং মাতা মরহুমা আকলিমা খাতুন একজন গৃহিণী ছিলেন। তিনি খুলনা জেলার পাইকগাছা উচ্চ বিদ্যালয় হতে ১৯৭৮ সালে এস.এস.সি ও সরকারি বি.এল কলেজ হতে ১৯৮০ সালে এইচ.এস.সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর তিনি ১৯৮৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন বিভাগ হতে বি.এস-সি (সম্মান) ও ১৯৮৫ সালে এম.এস-সি ডিগ্রি লাভ করেন।

শেখ ইউসুফ হারুন প্রশিক্ষক হিসেবে বিয়াম, বাংলাদেশ প্রশাসন একাডেমি, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমিতে নিয়মিত ক্লাস নিয়ে থাকেন।

তিনি একজন অ্যামেচার টেনিস খেলোয়াড়। অফিসার্স ক্লাব ও বিভিন্ন ক্লাব টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে অনেক পুরস্কার অর্জন করেছেন। তিনি বাংলাদেশ টেনিস ফোরামের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ছাত্রজীবন রোভার স্কাউট হিসেবে অনেকগুলো মুটে অংশগ্রহণ করেন। তিনি আর,এস,এল ট্রেনিং প্রাপ্ত। বর্তমানে বাংলাদেশ স্কাউটস্ এর জাতীয় কমিশনার (বিধি) হিসেবে কর্মরত আছেন।

তিনি বাংলাদেশ এ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশেনের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন ছাড়াও তিনি অনেক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত ও এক কন্যা সন্তানের জনক। তার স্ত্রী একজন গৃহিনী।