কলেজ ছাত্র বাপ্পি হত্যা মামলায় ১০ দিনেও কেউ আটক হয়নি

যশোর টেকনিক্যাল স্কুল কলেজের ছাত্র বাপ্পি হাসান হত্যাকান্ডে গত ১০ দিনেও নতুন আর কোন আসামিকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। আর আটক স্বাধীন হাসানকে নাবালক হিসেবে চিহ্নিত করতে আসামির লোকজন উঠে পড়ে লেগেছে। এদিকে মামলার অন্যান্য আসামি ও সন্ধেহভাজনদের আটক করতে না পারায় হতাশ হয়ে পড়েছে বাপ্পির স্বজনরা।

স্থানীয়রা জানান, বাপ্পি হত্যা মামলার আসামি ৬ জনের মধ্যে প্রথম দিনেই স্বাধীন হাসানকে পুলিশ আটক করে। অন্য আসামি মাকুল হাসান, ছনু বিহারীর ছেলে সোহেল রানা (১৯), তরিকুল ইসলামের ছেলে রিয়াজ হোসেন (২০),এবং ওয়াদুদ হোসেনের ছেলে রাব্বি হাসান (১৯), ইবাদ হোসেনের ছেলে স্বাধীন পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে।

স্থানীয়রা আরো জানায়, বাপ্পি হত্যা মামলায় আরো কয়েকজন জড়িত। এর মধ্যে মৃত গোলাম নবীর ছেলে দবির মোল্যা, তার ছেলে অন্তর, ইয়াছিন আলীর মেয়ে রেশমা, একই এলাকার বাসিন্দা সিদ্দিক হোসেন অন্যতম। পুলিশে তদন্তে আরো কয়েকজনের নাম বেরিয়ে এসেছে বলে স্থানীয়রা জানতে পেরেছেন। আটক স্বাধীনের স্বীকারোক্তি ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযুক্তদের আটক করা হতে পারে।

মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই আমিনুর রহমান এজাহারভুক্ত এবং সন্ধেহভাজন আর কাউকে আটক করতে পারেনি। এতে মামলার সঠিক তদন্ত ও ভবিষ্যত নিয়ে স্থানীয়রা সন্ধিহান হয়ে উঠেছে। এ মামলার অন্য আসামিদের দ্রæত আটকের দাবি করেছেন এলাকাবাসী। বাপ্পি হত্যা মামলার বাদি, নিহত বাপ্পির ভাই বিপুল হাসান রুবেল জানান, অন্যান্য আসামি আটকের জন্য পুলিশ প্রায় আসে।

আরো পড়ুন :
চৌগাছায় উদীচীর প্রথম সম্মেলনে সভাপতি আব্দুস সালাম, সম্পাদক শওকত মন্ডল
বেধড়ক পিটিয়ে গায়ে ঢালা হয় মরিচের জল, হাত-পা বেঁধে ফেলা হয় পুকুরে

কিন্তু আসামিরা এলাকায় না থাকায় তাদেরকে আটক করতে পারছে না বলে তাকে তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন। আর আটক স্বাধীনকে না বালক হিসেবে চিহ্নিত করতে তার জন্মনিবন্ধন, সার্টিফিকেটসহ অন্যান্য কাগজপত্র আদালতে দাখিল করেছে তার লোকজন। যার শুনানি হবে আগামী ১৭ মে মঙ্গলবার। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আমিনুল ইসলাম জানান, সব আসামিদের আটকের চেষ্টা চলছে। রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছিলাম।

তারা আসামির লোকজন স্বাধীনকে শিশু হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে। যার কারণে এখনো রিমান্ড মঞ্জুর হয়নি। প্রসঙ্গত. গত ২৬ এপ্রিল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে তার ছোট ভাই বাপ্পি হাসান ও ভাইপো সোহান হোসেন তারাগঞ্জ মসজিদের সামনে দাড়িয়েছিল। পূর্ব শত্রæতার জের ধরে আসামিরা অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে বাপ্পি এবং সোহানকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। এদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশি রনি হোসেন ঠেকাতে এলে তাকেও এলোপাতাড়ি মারপিট করে রক্তাক্ত জখম করে।

পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তারা ফের হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে আহত বাপ্পি, সোহান হোসেন ও রনি হোসেনকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু বাপ্পির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেছে চিকিৎসকরা। ৫ মে ভোরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বাপ্পির মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে কোতয়ালি থানায় হত্যার চেষ্টার মামলা করা হলে আসামি স্বাধীনকে আটক করে পুলিশ। বুধবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ। পরে হত্যা চেষ্টা মামলাকে হত্যা মামলা রূপান্তিত হয়।

মে ১৫,২০২২ at ২০:২০:০০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/শজ/রারি