নিজেদের পাপের জন্য বিএনপিকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে: হানিফ

স্মরণসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবউল আলম হানিফ, এমপি।
বিজ্ঞাপন

বিএনপির অতীত কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, জিয়া থেকে শুরু করে খালেদা জিয়ার শাসন আমল পর্যন্ত সব সময়ই বিএনপি ঘৃণীত ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করে এসেছে। ক্ষমতার বাইরে থেকেও তারা সরকারবিরোধী নানামুখী ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্নীতি ও দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের দায়ে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের বিচার করা হচ্ছে। অন্যদেরও বিচারের আওতায় আনা হবে। কেউ রেহাই পাবে না। নিজেদের পাপের জন্য বিএনপিকে জনগণের কাছে ক্ষমতা চাইতে হবে। তা না হলে এই দলটি আজীবন আস্তাকুড়েই থাকবে।

বুধবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আফাজ উদ্দিন আহমেদের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ মাহবুব উল আলম হানিফ, এমপি এসব কথা বলেন।

কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ. কা. ম. সরওয়ার জাহান বাদশার সভাপতিত্বে স্মরণসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শরীফ উদ্দিন রিমনের সঞ্চালনায় এ স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন, সাবেক সংসদ সদস্য রেজাউল হক চৌধুরী, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাজি রবিউল ইসলাম, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা, দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আফাজপুত্র অ্যাডভোকেট এজাজ আহমেদ মামুনসহ জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবউল আলম হানিফ, এমপি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলামকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা কথায় কথায় গণতন্ত্রের কথা বলেন, কথায় কথায় মানবাধিকারের ছবক দেন, আমার জিজ্ঞাসা এর আগে কোথায় ছিল আপনাদের গণতন্ত্র। ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আপনারা ক্ষমতায় ছিলেন। আপনার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, আপনার নেতা তারেক রহমান হাওয়া ভবনে বসে দেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। হাজার হাজর নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল। এই কুষ্টিয়ায় কত মানুষকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল। মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। আওয়ামী লীগ যুবলীগ নেতাকর্মীদের হাত কেটে দেয়া হয়েছিল, পা কেটে দেয়া হয়েছিল। মা-বোনদের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল, তা জাতি আজো ভুলে যায়নি। তাই আপনাদের মুখে গণতন্ত্রের ছবক মানায় না। এ সময় তিনি দেশের বিভিন্ন উন্নয়নচিত্র তুলে ধরেন এবং আগামীতেও এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলে উল্লেখ করেন।

দৌলতপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে স্মরণসভায় উপস্থিতির একাংশ।

স্মরণসভায় মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, আফাজ উদ্দিন আহমেদ ছাত্র জীবন থেকে শুরু করে শেষ দিন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছেন। রাজনীতিবিদ হিসেবে এবং একজন অভিভাবক হিসেবে তিনি অবশ্যই চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। জীবিত থাকবেন এলাকার মানুষের কাছে, আওয়ামী লীগের কাছে। আফাজ উদ্দিন আহমেদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে হানিফ বলেন, অত্যন্ত পরিশীলিত ভাষায় পরিমিত বক্তব্য দেয়া ছিল তার প্রধান গুণ। আমরা তার অতীত থেকে শুরু করে শেষ জীবন পর্যন্ত দেখেছি তার সময়ানুবর্তিতা, নিয়মানুবর্তিতা। এটা ছিল তার বড় রকমের একটা গুণ। হানিফ আরো বলেন, জননেতা আফাজ উদ্দিন ৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে আমার নির্বাচনী এলাকা ভেড়ামারাতেও এই দৌলতপুর থেকে লোকজন পাঠিয়ে সমাবেশ সফল করেছেন। আমরা তার দূরদর্শী, আদর্শিক রাজনীতির কথা কখনো ভুলবো না। তিনি আমাদের মাঝে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, সাধারণ মানুষ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দুর্দিনে আফাজ উদ্দিন আহমেদ সব সময় পাশে দাঁড়িয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে মানবতার কল্যাণে কাজ করে গেছেন তিনি। সভা শেষে আফাজ উদ্দিন আহমেদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

সভাপতির বক্তব্যে কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ. কা. ম. সরওয়ার জাহান বাদশাহ্ আফাজ উদ্দিন আহমেদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় সাংসদ বাদশাহ্ দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর থেকে ভেড়ামারা বারোমাইল পর্যন্ত প্রধান সড়কটি চার লেনে রূপান্তরের জন্য মাহবুবউল আলম হানিফের কাছে দাবি জানান।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দৌলতপুর উপজেলার ১৪ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মনোনয়ন প্রত্যাশী চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ব্যাপক শোডাউন করে এই স্মরণসভায় যোগ দেন। দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ছাড়াও হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে সভাস্থলের পুরো মাঠ কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। এদিকে সিডিউল অনুযায়ী আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবউল আলম হানিফ, এমপির ভেড়ামারা হয়ে দৌলতপুরের এই স্মরণসভায় আসার কথা ছিল। সেই মোতাবেক তার আগমন উপলক্ষে এ উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে অসংখ্য তোড়ণ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু তিনি মিরপুর উপজেলা হয়ে দৌলতপুরে প্রবেশ করেন। পরে তিনি একই পথ দিয়ে দৌলতপুর ত্যাগ করেন। ফলে স্থানীয় নেতাদের সৌজন্যে তৈরি করা এসব তোড়ণ তেমন কোনো কাজে লাগেনি বলে অনেকের মন্তব্য।

অক্টোবর ১৩.২০২১ at ২২:৩৯:০০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/এসআরসে/রারি