প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর প্রস্তুত, প্রস্তুত হয়নি গৃহহীনদের তালিকা

প্রস্তুত গৃহহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের ঘর। ছবি : দেশ দর্পণ

মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছরে দেশে কেউ গৃহহীন থাকবে না- এমন ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশে গৃহহীনদেের বসবাসের জন্য ধাপে ধাপে ঘর উপহার দিচ্ছেন। এর ধারাবাহিকতায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুরেও প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় ধাপে উপহারের ঘর ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। কিন্তু কারা এসব ঘর পাবেন সেই গ্রহীতাদের (গৃহহীন) তালিকা এখনো প্রস্তুত করা যায়নি। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘর পেতে ইচ্ছুক গৃহহীনদের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে ৬১টি পরিবারকে চূড়ান্ত তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

জানা গেছে, দৌলতপুর উপজেলার পাঁচটি স্পটে সরকারি খাস জমিতে গৃহহীনদের স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের ঘরের নির্মাণ কাজ সম্প্রতি সম্পন্ন হয়েছে। এসব স্পটে ৬১টি পরিবার তাদের নতুন ঠিকানা পেতে যাচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পরিবারের জন্য উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের সোনাইকুণ্ডি গ্রামে ২০টিসহ মথুরাপুর ইউনিয়নের হোসেনাবাদ গ্রামে ১৪টি, রিফায়েতপুর ইউনিয়নের ঝাউদিয়া গ্রামে ১১টি, খলিসাকুণ্ডি ইউনিয়নের সরিষাডুলি গ্রামে ৮টি এবং দৌলতপুর সদর ইউনিয়নের দৌলতখালী গোডাউন বাজার এলাকায় ৮টি পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর এসব ঘর উপহার দেয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের এসব ঘর বরাদ্দের জন্য বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এ পর্যন্ত ২৬৯টি গৃহহীন পরিবারের তালিকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। এই তালিকা যাচাই-বাছাইয়ে প্রথম দফায় ১০০ পরিবার বাদ পড়ে। এরপর বাকি ১৬৯টি পরিবারের মধ্য থেকে দ্বিতীয় দফা যাচাই-বাছাই করে ৮০টি পরিবারকে রাখা হয়। এই ৮০ পরিবারের মধ্যে ৬১টি পরিবারকে চূড়ান্তভাবে তালিকাভুক্ত করা হবে। তাদের হাতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের এসব ঘরের চাবি তুলে দেয়া হবে।

প্রকল্প অনুযায়ী আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে এসব ঘর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হলেও ইতোমধ্যেই নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। তবে এখনো প্রস্তুত হয়নি ঘর গ্রহণকারী গৃহহীন পরিবারগুলোর চূড়ান্ত তালিকা। ফলে কারা পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত করা যায়নি। নতুন ঠিকানা পেতে ইচ্ছুকরা রয়েছেন পাওয়া না পাওয়ার দোলাচলে। শুক্রবার (২ এপ্রিল) পর্যন্ত ২৫টি পরিবারকে চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তালিকা প্রস্তুতে একটু সময় লাগলেও এ নিয়ে যাতে কোনো প্রশ্ন না ওঠে সেই দিকটা লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। তবে যত দ্রুত সময়ে সম্ভব তালিকা প্রস্তুতের বিষয়টি সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

প্রস্তুত গৃহহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের ঘর। ছবি : দেশ দর্পণ

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল হান্নান জানান, গৃহহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ৬১টি পরিবারের ঘর নির্মাণ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। একটি স্পটে রঙয়ের সামান্য কাজ বাকি রয়েছে। যা নির্দিষ্ট সময়ের আগেই আগামী দুয়েকদিনের মধ্যে সম্পন্ন হয়ে যাবে। বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আসা তালিকায় কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়ার কারণে এখন পর্যন্ত ঘর গ্রহণে ইচ্ছুক গৃহহীনদের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা যায়নি। প্রকৃত গৃহহীনদের শনাক্ত করে বিতর্কমুক্ত তালিকা তৈরি করা হবে। এ কারণে খানিকটা বিলম্বিত হলেও এই গৃহহীনদের তালিকা যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সেদিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তার একই তথ্য জানিয়ে বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় ট্যাগ অফিসার ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসসহ নানাভাবে খোঁজখবর নিয়ে আমরা প্রকৃত গৃহহীনদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ করে যাচ্ছি। এ ক্ষেত্রে যাতে কোনো রকম প্রশ্ন না ওঠে সেটি মাথায় রেখে এই তালিকা তৈরির কাজ চলছে। আশা করা হচ্ছে, সপ্তাহখানিকের মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত হয়ে যাবে।

একেকটি পরিবারের জন্য দুই শতক জমিতে দুটি করে ঘর ও একটি সংযুক্ত বাথরুম রয়েছে আর ছোট পরিসরে বারান্দা রাখা হয়েছে। প্রতিটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। সেই হিসেবে দৌলতপুর উপজেলায় ৬১টি গৃহহীন পরিবারের আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিতে মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ১ কোটি ৪ লাখ ৩১ হাজার টাকা। সারাদেশে সরকারি খাস খতিয়ানের জমিতে একই ডিজাইনে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। আসন্ন ঈদের আগেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশব্যাপী তার উপহারের দ্বিতীয় ধাপের এসব ঘর গৃহহীনদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করবেন বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ধারণা করছেন।