যেভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে চরাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের বিদ্যুৎ

দৌলতপুর উপজেলার চরাঞ্চলে বিদ্যুৎ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে চলছে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়ন দুটিতে ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। সেখানকার ৩৮টি গ্রামে একে একে পৌঁছে যাচ্ছে চরাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের বিদ্যুৎ। বর্তমান সরকারের হাতে নেয়া সারাদেশে শতভাগ বিদ্যুতায়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে গত ৩ জানুয়ারি এই প্রকল্পটির অানুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার জাহান বাদশাহ। সরকার ঘোষিত ‘মুজিব বর্ষে’ এই প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রথম দফায় ২২১টি বাড়িতে সংযোগের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনের পর এ পর্যন্ত আরো ১৭টি বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ লেগেছে।

প্রকল্পটির চিলমারী ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার উদয়নগর থেকে চিলমারী পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার এবং রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ভাগজোত থেকে ইসলামপুর পর্যন্ত ৫শ মিটার সংযোগ টানা হবে নদীর তলদেশে অত্যাধুনিক সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে। জলপথে তরঙ্গ সরবরাহের আন্তর্জাতিক পদ্ধতি এই সাবমেরিন ক্যাবলে কোনো প্রকার সমস্যা দেখা দিলে অটোমেটিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, যাতে করে পানিগর্ভে কোনো প্রাণি বা যানচলাচলে কোনো প্রকার বিঘ্ন না ঘটে এবং বিদ্যুতায়িত হওয়ারও সম্ভাবনা না থাকে। এই সাবমেরিন ক্যাবলে কোনো কারণে সংযোগ সরবরাহ বিঘ্নিত হলে বিকল্প ৩টি উপায়ে সংযোগ সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

দুটি নদী পারাপারের ক্ষেত্রে নদীর দুই পাড়ে আধা কিলোমিটার করে বৈদ্যুতিক সংযোগের খুঁটিতে গোড়া থেকে ৫ ফুট উঁচু পর্যন্ত ইট সিমেন্টের বিশেষ ধরনের ম্যাপলিং করা হচ্ছে। ভরা মৌসুমেও খুঁটিতে দৃঢ়তা রাখতে এই ম্যাপলিং এবং প্রতিটি খুঁটির দৈর্ঘ্য স্থান ভেদে ৪৫ থেকে ৫০ ফুট পর্যন্ত রাখা হয়েছে। আর স্থান ভেদে পোলগুলোর সাপোর্টিং পোলও রাখা হচ্ছে। এসব তথ্য জানিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (দৌলতপুর অঞ্চল) সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রায় ৪২ কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পর দেখভালের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে। গ্রাহকরা যেন নির্বিঘ্নভাবে সংযোগ পান সেই বিষয়ে আমরা খুবই গুরুত্ব দিচ্ছি। এটি একটি টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প।

গ্রামের পর গ্রাম এভাবেই প্রস্তুত করা হয়েছে বিদ্যুতের খুঁটি ও সঞ্চালন লাইন।

উপজেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন প্রায় এই দুই ইউনিয়নের জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সেবা দেয়া হবে। বাংলাবাজার এলাকায় দুই বিঘা জমির ওপর নির্মাণাধীন থাকা সাব স্টেশনটি বাস্তবায়ন হলে ওই এলাকার মানুষ আরো উন্নত সেবা পাবে বলে আশার কথা জানিয়ে পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মির্জা কে. ই তুহিন বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আমরা দুর্নীতির বিষয়ে জিরো টলারেন্সে আছি। সেচ ও শিল্প খাতে ওই এলাকার মানুষকে বিনামূল্যে দুই খুঁটি পর্যন্ত সংযোগ এবং ৫০ কিলোওয়াট পর্যন্ত ট্রান্সফরমার দেয়া হবে। আশা করা যাচ্ছে রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নে এই বিদ্যুৎ ব্যবহার করে খুব শিগগিরই ছোট ছোট শিল্পের বিপ্লব ঘটবে।

এদিকে গণমাধ্যমে দেয়া বক্তব্যে কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সরওয়ার জাহান বাদশাহ প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো প্রকার অনিয়ম দুর্নীতি মেনে নেয়া হবে না বলে সাফ জানিয়েছেন। যারা সিন্ডিকেট করে গ্রাহকদের অার্থিক ক্ষতির মুখে ফেলছেন তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের কড়া নির্দেেশ দিয়েছেন সংসদ সদস্য বাদশাহ। সংসদ সদস্যের নির্দেশে গ্রাহকদের যেন প্রতারিত হতে না হয় সে বিষয়ে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণসহ কয়েক ধাপে সচেতনতা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। চরাঞ্চলবাসীর দীর্ঘ আকাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার এই প্রকল্পটি নির্ধারিত সময় আগামী ২১ মার্চের মধ্যেই শতভাগ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে বিরামহীনভাবে চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। আর স্বপ্নের বিদ্যুৎ হাতের নাগালে পেয়ে বেজায় খুশিতে ভাসছেন প্রকল্প এলাকার লোকজন।