ঝিকরগাছা পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা বিজয়ী করতে মাঠে আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মী

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘ ২০ বছর পরে আগামী ১৬ জানুয়ারি ঝিকরগাছা পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে পৌরসভা জুড়ে চলছে উৎসবের আমেজ। শীতের তীব্রতা উপেক্ষা করে গভীর রাত পর্যন্ত মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের চলছে বিরতিহীন গণসংযোগ। ব্যানার, ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে গোটা পৌরসভা এলাকা। বিকাল হতেই মাইকিংয়ের আওয়াজ গোটা নির্বাচনকে মুখরিত করে তুলছে। নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বদ্ধিতা করছে ৬জন এবং ৯টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৬৪ জন এবং তিনটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ১৮ জন প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালের ২ এপ্রিল ঝিকরগাছা পৌরসভার প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পৌরসভার আয়তন ৯ দশমিক ৪৩ বর্গ কিলোমিটার। সাধারণ ওয়ার্ড সংখ্যা ৯টি ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড সংখ্যা ৩টি। সে নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল। সীমানা সংক্রান্ত জটিলতায় আর নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ায় তিনি এখনো মেয়র পদে আছেন। ২০ বছর পরে পুরাতন সীমানায় নির্বাচনের জন্য গত ৩০ নভেম্বর তফসিল ঘোষনা করে নির্বাচন কমিশন। ২৮ ডিসেম্বর সকল প্রার্থীকে প্রতিক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এবং ১৬ জানুয়ারি ইভিএম এর মাধ্যমে ভোটগ্রহণ হবে।

আরো পড়ুন:
ফুলবাড়ীর ফুলসাগর লেক হতে পারে পর্যটকদের আর্কষনীয় বিনোদন কেন্দ্র
আল্লাহ তোমাক অনেক দিন বাঁচে রাখপে বাহে

এবার পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে ৬জন, ৯টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৬৪ জন এবং তিনটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ১৮ জন প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। মেয়র প্রার্থী হলেন নৌকা প্রতিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল। নারিকেলগাছ প্রতিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক এ.কে.এম আমানুল কাদির টুল্লু, জগ প্রতিকে উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ছেলিমুল হক সালাম, মোবাইল প্রতিকে যুবলীগ নেতা ইমতিয়াজ আহমেদ শিপন। বিএনপি দলীয় প্রতিকে নির্বাচনে অংশ না নিলেও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ইমরান হাসান সামাদ নিপুন কম্পিউটার প্রতিক নিয়ে ঝিকরগাছা পৌর নির্বাচনে স্বতন্ত্রভাবে অংশগ্রহণ করছেন। এছাড়া দেশসেরা তরুণ উদ্ভাবক ও জাতীয় পল্লী উন্নয়ন স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত আব্দুল্লাহ আল সাঈদ রেলইঞ্জিন প্রতিক নিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মুকুল প্রার্থী হিসাবে প্রতিক নেয়ার পরে দলীয় নেত্রীর সিদ্ধান্তের উপর আস্তা রেখে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

এদিকে ২০ বছর পরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে ঘিরে পৌরবাসীর মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করেছে। ৬জন মেয়র, ৬৪ জন কাউন্সিলর ও ১৮ জন মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীর ব্যানার, ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে গোটা পৌরসভা এলাকা। প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ভোটের মাইকিং সৃষ্টি করে এক আলাদা আমেজ। কোন প্রার্থী গানে গানে আবার কোন প্রার্থী কবিতা আকারে নিজের মার্কার ভোট ভিক্ষা করছে। দলীয় নেতা-কর্মী নিয়ে শীতের তীব্রতা উপেক্ষা করে গভীর রাত পর্যন্ত বিরামহীনভাবে চালাচ্ছে গণসংযোগ। চায়ের দোকানসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে চলছে প্রার্থী নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ। কে হবেন মেয়র, কাউন্সিলর বা মহিলা কাউন্সিলর? তবে অধিকাংশ মানুষের ভাষ্যমতে আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কার প্রার্থী আলহাজ মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামালের সাথে বিএনপির স্বতন্ত্রপ্রার্থী কম্পিউটার মার্কার প্রার্থী ইমরান হাসান সামাদ নিপুনের সাথে প্রতিদ্বদ্ধিতা হবে।

তবে প্রচার প্রচারণায় সব দিক দিয়ে এগিয়ে রয়েছে নৌকা মার্কার প্রার্থী আলহাজ মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল। এছাড়া অন্য প্রার্থীদের প্রাচারণা তেমনভাবে চোখে পড়ছে না। নৌকাকে বিজয়ী করার জন্য আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ মাঠে নেমে পড়েছে। ইতিমধ্যে নৌকা মার্কার পক্ষে প্রচারণায় দেখা গেছে, সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্নসম্পাদক অ্যাড. মনিরুল ইসলাম মনির, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মুকুল, সহ-সভাপতি চৌধুরী রমজান শরীফ বাদশা, সাধারণ সম্পাদক মুছা মাহমুদ, যুগ্নসম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আনোয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় সেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম সহ উপজেলাআওয়ামী লীগ ও তার সকল অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এছাড়া কেন্দ্রীয় যুবলীগের পক্ষ থেকে ২০ সদস্য বিশিষ্ট একটি টিমকে নৌকা মার্কার পক্ষে প্রচার-প্রচারণার জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকলেও নৌকা প্রতিকের প্রার্থী আলহাজ মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। তিনি জানান, ঝিকরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তার পক্ষে রয়েছে। ইতিমধ্যে ঝিকরগাছায় নৌকা মার্কার জোয়ার উঠেছে। গত ১৩বছরে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঝিকরগাছায় যে পরিমাণ উন্নয়ন হয়েছে, তাতে করে পৌরসভার জনগণ নৌকার পক্ষেই তাদের রায় দিবেন এবং বিজয়ী করবেন।

জানুয়ারি ১১.২০২২ at ১৬:৩০:০০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/এমআ/এইচআর