পদ্মাসেতুর ৬ কিমি দৃশ্যমান

ফাইল ছবি

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্তে বসানো হয়েছে পদ্মা সেতুর ৪০তম স্প্যান। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে সেতুর ১১ ও ১২ নম্বর পিলারের ‘টু-ই’ নামে এ স্প্যান বসানো হয়।

এর মধ্য দিয়ে সেতুর ৬ হাজার মিটার অর্থাৎ ৬ কিলোমিটার দৃশ্যমান হয়েছে। এ স্প্যানটি বসানোর ফলে বাকি থাকলো আর মাত্র একটি স্প্যান। পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আব্দুল কাদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কুমারভোগ কন্সট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে স্প্যান নিয়ে রওনা হয়েছে ভাসমান ক্রেন তিয়ান-ই। ওই দিন বিকেলেই দিকে নির্ধারিত পিলারের কাছে স্পেন বহনকারী ভাসমান পৌঁছায়। পরে শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে স্প্যান বসানো সম্পন্ন হয়।

পদ্মা সেতুর সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, ইতোমধ্যেই জাজিরা প্রান্তে সবগুলো স্প্যান বসানোর কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। মাওয়া প্রান্তে আর একটি স্প্যান বসানো বাকি রইলো।

গত ২৭ নভেম্বর ৩৯তম স্প্যান বসানো হয়। আগামী ১০ ডিসেম্বর ১২ ও ১৩ নম্বর পিয়ারে ৪১তম স্প্যান স্প্যান ‘২-এফ’ বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া সেতুর ২ হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্লাবের মধ্যে ১ হাজার ৪১টির বেশি রোড স্ল্যাব বসানো হয়েছে। আর ২ হাজার ৯৫৯টি রেলওয়ে স্ল্যাবের মধ্যে এখন পর্যন্ত বসানো হয়েছে ১ হাজার ৫০০টির বেশি। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়।

২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতু। এরপর একে একে বসানো হয় ৩৪টি স্প্যান। ৪২টি পিলারে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্প্যান বসিয়ে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হবে।

এর মধ্যে সব কটি পিয়ার এরই মধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন। দুটি সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ করেছে বাংলাদেশের আবদুল মোমেন লিমিটেড।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো। পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর আগামী ২০২১ সালেই খুলে দেয়া হবে।

ডিসেম্বর ০৪, ২০২০ at ১৪:২৪:৪২ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/দেরু/এমএআর