আওয়ামী লীগ নেতার নগ্ন ভিডিও নিয়ে তোলপাড়

আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রশিদ বাবলু। ফাইল ছবি
বিজ্ঞাপন

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা আব্দুর রশিদ বাবলুর আপত্তিকর (নগ্ন) ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। মঙ্গলবার রাতে নগ্ন ভিডিও ক্লিপটি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মানুষের হাতে হাতে ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) দিনভর উপজেলার সবখানে বিষয়টি ব্যাপক সমালোচনামুখর হয়ে ওঠে। এদিন দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটিতে সহ-সভাপতি মনোনীত হন আব্দুর রশিদ বাবলু।

৫৬ সেকেন্ডের আপত্তিকর ওই ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের নতুন প্রকাশ হওয়া কমিটির সহ-সভাপতি আব্দুর রশিদ বাবলু (৬৫) একটি কক্ষে ১৫-১৬ বছর বয়সী এক তরুণীর সঙ্গে যৌনকর্মে লিপ্ত রয়েছেন। ওই কক্ষের জানালার পর্দা গুটিয়ে রাখা ছিল। সেই জানালা দিয়ে কে বা কারা আওয়ামী লীগ নেতা বাবলুর ওই অশ্লীল কর্মকাণ্ডের ভিডিও গোপনে ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এরপর তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। বুধবার দিনভর দৌলতপুর উপজেলার সবখানে চলে আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রশীদ বাবলুর ওই নগ্ন ভিডিও নিয়ে ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা। একই সঙ্গে ওঠে নিন্দার ঝড়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঝাউদিয়া এলাকার এক ব্যক্তি জানান, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রশিদ বাবলুর চারিত্রিক ত্রুটি আগে থেকেই রয়েছে। তবে তা এতদিন প্রকাশ হয়নি। এবার ভিডিওসহ মানুষের সামনে উঠে এসেছে। ফলে বাবলু চেয়ারম্যানের এই বিষয়টি নতুন কিছু নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যার কাছে একটি অপরিণত বয়সী মেয়ে নিরাপদ না তিনি আবার জনগণের সেবক হন কীভাবে তা আমরা ভেবে পাই না।

এ বিষয়ে রিফায়েতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জামিরুল ইসলাম বাবু বলেন, আব্দুর রশিদ বাবলুর নগ্ন ভিডিও ক্লিপটি দেখেছি। দেখার পর থেকে আমি নিজেই লজ্জিত হয়েছি। তার (বাবলু) মতো একজন দায়িত্বশীল সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতার কাছ থেকে জনগণ এটা কোনোভাবেই প্রত্যাশা করেন না। ভিডিওটি দেখার পর থেকে আমি প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারিনি। এটা খুবই লজ্জাজনক বিষয়।

ভাইরাল হওয়া নগ্ন ভিডিওটি সম্পর্কে বক্তব্য নেয়ার জন্য আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রশিদ বাবলুর সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল খোলা পাওয়া যায়নি। এদিকে দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে আব্দুর রশিদ বাবলুর বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন।

বুধবার ঘোষিত উপজেলা আওয়ামী লীগের নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটির সহ-সভাপতি মনোনীত হন আব্দুর রশিদ বাবলু। এই কমিটি ঘোষণার আগেই ভিডিও ক্লিপটি ভাইরাল হয়ে যায়। আব্দুর রশিদ বাবলু এর আগের কমিটিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া দৌলতপুর উপজেলার রিফায়েতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। এ উপজেলায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আব্দুর রশিদ বাবলু একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। তিনি উপজেলার ঝাউদিয়াা এলাকার জমিদার পরিবারের সন্তান। তার অনেক বিত্তবৈধবও রয়েছে। ভিডিও ক্লিপটি দেখে ধারণা করা হচ্ছে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী হয়তো তাকে ব্লাকমেইল করে টাকা হাতিয়ে নেয়ার উদ্দেশে অথবা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার লক্ষে পরিকল্পিতভাবে ভিডিওটি সবার মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন।

দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শরীফ উদ্দিন রিমন গণমাধ্যমকে বলেন, আমি জেলা আওয়ামী লীগের একটি জরুরি মিটিংয়ে আছি। এ বিষয়টি নিয়ে আমরা পরে কথা বলবো।