যবিপ্রবিতে নেই পর্যাপ্ত গাছপালা ক্যাম্পাসকে সবুজময় করতে শিক্ষার্থীদের নানা পরামর্শ

৩৫ একরের ক্যাম্পাস  যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু এখানে নেই পর্যাপ্ত গাছপালা।তপ্ত গরমে গাছের ছায়াতলে বসে কেউ যে একটু   প্রশান্তির নিঃশ্বাস ছাড়বে তার উপায়ান্তর নেই।ক্যাম্পাসে যে স্বল্প সংখ্যক গাছ আছে সেগুলো আকারে অনেক ছোট। গ্রীষ্মের তপ্ত গরম হাওয়া ও ভাপসা গন্ধ যখন বাতাসে ভেসে আসে শিক্ষার্থীরা তখন একটু শীতল স্থান সন্ধানের জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে। তবু কোথাও দেখা মেলে না তেমন বড় কোন গাছের যেখানে আশ্রয় নেওয়ার মত। কেবল পরিবেশ সুন্দর নয়, মানুষের অস্তিত্ব রক্ষাসহ পরিবেশ অনুকূল রাখতে গাছের জুড়ি নেই। যেখানে গাছপালা ও বনভূমি বেশি, সেখানে বেশি বৃষ্টি হয়। এর ফলে চাষাবাদ ও ফসল ভালো হয়। ঝড়, বৃষ্টি ও বন্যা প্রতিরোধেও গাছপালা সহায়তা করে। গাছপালা না থাকলে পরিবেশ হয়ে উঠত উষ্ণ। পৃথিবী হয়ে উঠত মরুভূমি। মানুষের অস্তিত্ব হতো বিপন্ন। পরিবেশ রক্ষার জন্য গাছপালার কোনো বিকল্প নেই। তাই আজ  স্লোগান উঠেছে গাছ লাগান, পরিবেশ বাঁচান ।

একটি দেশের মোট ভূখন্ডের ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন।বাংলাদেশের আছে মাত্র ১৭.৫ ভাগ।সুতরাং পরিবেশ রক্ষার্থে প্রচুর বৃক্ষরোপন করা প্রয়োজন।চীনের চংকিং শহরের শিক্ষার্থীদের বছরে একবার গ্রামে পাঠানো হয়। প্রত্যেক শিক্ষার্থী তখন ১০০টি করে বৃক্ষরোপণ করে। গাছ, মা, মাটির সঙ্গে তাদের র্সম্পক উন্নত করে। স্কুল,কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃক্ষরোপন প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি করা প্রয়োজন।ইন্ডিয়ান ফরেস্ট ইন্সটিটিউটের গবেষকরা ৫০ বছর বেঁচে থাকা একটি গাছের আর্থিক সুবিধা বের করেছেন। যা হল, গাছ বায়ুদূষণ থেকে পরিবেশকে রক্ষা করে ১০ লাখ টাকার, জীবন রক্ষাকারী অক্সিজেন দেয় ৫ লাখ টাকার, বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে বাঁচায় ৫ লাখ টাকা, মাটির ক্ষয়রোধ ও উর্বরা শক্তি বৃদ্ধি করে বাঁচায় ৫ লাখ টাকা, বৃক্ষে বসবাসকারী প্রাণীদের খাদ্য ও আশ্রয় দিয়ে বাঁচায় ৫ লাখ টাকা, আসবাবপত্র, জ্বালানি কাঠ ও ফল সরবরাহ করে ৫ লাখ টাকার, বিভিন্ন জীবজন্তুর খাদ্য জোগান দিয়ে বাঁচায় আরও ৪০ হাজার টাকা। ৫০ বছর বেঁচে থাকা একটি বৃক্ষের আর্থিক সুবিধার মোট মূল্য দাঁড়ায় ৩৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা। তাছাড়া যেসব এলাকায় গাছ বেশি, সেখানে বন্যা, ঝড় তেমন ক্ষতি করতে পারে না। গাছপালা মায়ের আঁচলের মতো মানুষকে আগলে রেখে রক্ষা করে প্রাকৃতিক দুরারোগ্য থেকে।

কার্বন চক্রে দেখা যাচ্ছে, গাছ কর্তৃক সূর্যের আলোর উপস্থিতিতে বায়ুমন্ডলে গঠিত কার্বন ডাই-অক্সাইড দ্বারা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদিত হওয়ায় কার্বন শোষিত হচ্ছে। তবুও নির্গত কার্বনের প্রায় ৫০ শতাংশ বায়ুমন্ডলে থেকে যায়। বাকি ৫০ শতাংশের প্রায় ২৫ শতাংশ স্থলসীমায় বিদ্যমান উদ্ভিদ ও ২৫ শতাংশ সমুদ্রের অণুজীব, উদ্ভিদ ও সেডিমেন্ট কর্তৃক শোষিত হচ্ছে। তাই ব্যাপক বৃক্ষরোপন করা এখন সময়ের দাবী।

যবিপ্রবি ক্যাম্পাসকে সবুজময় করতে নানা মতামত দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা আর এসব মতামতকে তুলে ধরেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মো. ফরিদ হাসান।

গাছপালা আমাদের পরমবন্ধু।গাছপালা একদিকে নিসর্গের শোভা বৃদ্ধি করে, অন্যদিকে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে থাকে।আমাদের ক্যাম্পাসটি প্রয়োজনের তুলনায় ছোট হওয়ায় বর্তমানে  বেশ কিছু অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয় তন্মধ্যে গাছপালা কম হওয়া এবং তাপমাত্রার ঊর্ধগতি অন্যতম।এ অঞ্চলের তীব্র তাপপ্রবাহ ও পর্যাপ্ত  বৃষ্টির অভাবে প্রত্যেক মানুষকে থাকতে হয় এক অস্বাভাবিক  ভ্যাপসা গরম পরিবেশে। এইজন্য  ক্যাম্পাসে বেশি বেশি বৃক্ষরোপণ,ক্যাম্পাসের ভেতরকার পুকুরগুলোতে পানির জোয়ার নিয়ে আসার পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।ক্যাম্পাসে বিল্ডিং এর সংখ্যা বেশি হওয়ায় গাছপালা লাগানোর মত জায়গা অনেক কম, সেজন্য বর্তমানে মাঠের খালি জায়গাগুলাতে বিভিন্ন ধরনের ফল বা ফুলের গাছ বা বিভিন্ন শোভাবর্ধনকারী গাছ লাগানো যেতে পারে, যা উত্তাপের বাতাসকে শোষণ করবে এবং অক্সিজেন এবং শীতল আর্দ্রতা বাতাসে সঞ্চালন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ছেড়ে দিয়ে পরিবেশকে শীতল করতে এবং বৃষ্টি আনতে সাহায্য করবে। গাছের পরিমাণ বেশি হলে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ হার বৃদ্ধি পাবে,বাতাসে পানির পরিমাণ বাড়বে ফলে তাপমাত্রা কম থাকবে।এজন্য আমি মনে করি বর্তমানের এই তাপপ্রবাহ কাটিয়ে উঠতে এবং ভবিষ্যতে এইরকম আবহাওয়ার সম্মুখীন না হতে চাইলে ক্যাম্পাসে ও ক্যাম্পাসের আশেপাশে  বেশি বেশি গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই।

সানজিদা ইসলাম, পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগ।

গাছ যেখানে আমাদের জীবন বাঁচাতে সহযোগী সেই গাছকে এখন সৌন্দর্য বর্ধনের কাজে ব্যবহার করা হয় মাত্র।যশোরের বাড়তি তাপমাত্রা আমাদের শিক্ষার্থীদের বিশেষত যাদের সিংহভাগ সময়ই বাইরে হয় তাদের জন্য কষ্টদায়ক।

মাদার ইন ল টাঙ,এরিকা পাথ,মানি প্ল্যান্ট এছাড়াও ঘৃতকুমারী কিংবা ঘৃত কাঞ্চন সহজ ভাষায় যাকে এলোভেরা নামে চিনি এই গাছটিও হতে পারে শ্রেণীকক্ষের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ এর বিকল্প।হলের রুফটপগুলোতে যদি ছায়া যুক্ত গাছ যেমন :পেয়ারা,আঙুর ও আম এর চারা রোপন করা হতো তবে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অসহ্য গরমের প্রকোপ হতে সহজেই উত্তরণ সম্ভব।তবে এর জন্য অবশ্যই আমাদের তথা শিক্ষার্থীদের বৃক্ষ পরিচর্যায় আরো স্বতঃস্ফূর্ত  অংশগ্রহণ করা উচিত।

ফাতেমা জান্নাত, একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ

দুপুরে যখন ক্লাস  শেষ করে বের হতাম তখন মনে হতো এটা কি মরুভূমি  গ্রীষ্মের তপ্ত  দুপুরে যারা ক্লাস করেছে এটা ভালো উপলব্ধি করেছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একাডেমিক ভবন ও লাইব্রেরি ভবনের পাশে ছায়াঘেরা পরিবেশ নেই। সেখানে বড় গাছ গাছালি থাকলে প্রকৃতির নির্মল পরিবেশ বিরাজ করতো। পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি  বিভাগ রয়েছে তারা চাইলে  ক্যাম্পাসে নিয়মিত বৃক্ষরোপণ  অভিযান করতে পারে। সেই সাথে আমাদের ক্যাম্পাসে বসার জায়গার অভাব রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কৃষ্ণচূড়া গাছ রোপণ করেছিলেন। সেখানে বা বকুলতলায় গোল চত্বর করতে পারে।যাতে সবাই গাছের নিচে বসে একটু হলেও বিশ্রাম নিতে পারে। প্রধান গেইট সংলগ্ন যে ছাউনি রয়েছে সেটাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরের একমাত্র ছাউনি যেখানে শিক্ষার্থীরা বসতে পারে না।সারাদিন আনসার সদস্যরা দখল করে রাখেন।

শেখ ফাহাদ ফারদীন,প্রাক্তন শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ।

প্রচন্ড গরম অবস্থা চরম!!হ্যা ঠিক এ কথাই বলা যায় যশোর এর একমাত্র বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর ক্ষেত্রে।সুদৃশ্য ভবনে ঘেরা বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজিতে যাকে বলে ‘ওয়েল ফারনিশ বিল্ডিং ‘। আজ গরমের কারনে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত। এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় সব ক্ষেত্রেই নিজের প্রশংসা কুড়িয়েছে,কিন্তু পর্যাপ্ত গাছপালার অভাবে প্রচন্ড তাপদাহে ক্লীষ্ট শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়তই হা হুতাশ করছে।ক্যাম্পাস এরিয়াতে পর্যাপ্ত গাছপালা না থাকায় গরম যেনো চৈত্র, বৈশাখ, জৌষ্ঠ মাসে পিকনিক করতে আসে।যবিপ্রবির প্রত্যেক শিক্ষার্থীর আবেগ অনুভূতিতে ভালোবাসায় ঘেরা এ বিশ্ববিদ্যালয় যেন সবুজে শ্যামলে আন্দোলিত হয় সেদিকে কর্তৃপক্ষের সুদূষ্টি দেওয়া এখন সময়ের দাবি মাত্র।

মো:শাম্মাম সাদিক, ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগ

জুন ১৫, ২০২৩ at ১০:৩২:০০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/ফহা/ইর