রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার ও অব্যবস্থপনার বিরুদ্ধে মানববন্ধন

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. ফিরোজ মাহামুদের বিরুদ্ধে উদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের অভিযোগসহ হাসপাতালে বিভিন্ন অব্যবস্থপনা এবং রোগীদের যথাসময়ে চিকিৎসা সেবা প্রদানে অবহেলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় পৌরবাসি। গত সোমবার (১২ জুন) সকাল ১১ টায় উপজেলা পরিষদের মূল ফটকের সামনে ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধন, শ্লোগান ও প্রতিবাদসভা অনুষ্ঠিত হয়।

জানা গেছে গত রোববার (১১ জুন) সকালে পৌরশহরের বাসিন্দা গণেশ বসাক নামে এক ব্যক্তি ডিগ্রি কলেজ গেটের সামনে আটোবাইকের ধাক্কায় গুরুতর আহত হলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। জরুরী বিভাগে থাকা কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফিরোজ মাহামুদ তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে।

আরো পড়ুন :

> হাইওয়েতে কোরবানীর পশুবাহী গাড়ি থামানো যাবে না
> সিলেট সিটি নির্বাচনে আনোয়ারুজ্জামান চ্যালেঞ্জের মুখে

এ সময় ছাত্রলীগ নেতা তামিম হোসেন রোগীকে দ্রুত নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চাইলে কর্তব্যরত ডা. ফিরোজ মাহামুদ বলেন, অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার নেই। ড্রাইভারকে নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সামাদ রংপুরে গেছেন। এ নিয়ে ইমারজেন্সিতে আহতের ভাই ভাদ্রু বসাক ও ছাত্রনেতা তামিমসহ উপস্থিত অনেকের সাথে জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা ডা. ফিরোজ মাহামুদের অনেক বাকবিতন্ডা হয়।

পরে রোগীকে প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার পথে গুরুতর আহত গণেশ মারা যায়।

ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, শ্রমিক নেতা সুমন পাটোয়ারী, উপজেলা আ.লীগ সদস্য তারেক আজিজ, শ্রমিক নেতা আব্দুল মান্নান, ছাত্র নেতা তারেক আজিজ, ফারাজুল ইসলাম, যুবলীগ নেতা রবিউল ইসলামসহ অনেকে। এ সময় বক্তারা অভিযুক্ত ডা. ফিরোজ মাহামুদের উদ্ধত্যমূলক আচরণের কথা তুলে ধরেন এবং তাকে অবিলম্বে বদলির দাবী জানান। সেইসাথে এই হাসপাতালে দীর্ঘদিন চাকুরী করার সুবাদে স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা এবং আরএমও’র কারণে হাসপাতালে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা অনেক বেড়ে গেছে তাই তাদেরও বদলির দাবী জানান বক্তারা।

তারা আরো বলেন, ২৪ ঘন্টা অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের কথা বলা হলেও অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায়না। আমাদের প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর, রংপুরে নিয়ে যেতে হয়। তাহলে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সরকার কেন দিয়েছেন? আমাদের এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আমরা যদি সঠিকভাবে চিকিৎসাসেবা না পেয়ে থাকি তবে গোটা উপজেলাবাসীকে নিয়ে আরও আন্দোলন ও কর্মসূচি পালনে রাস্তায় নামতে বাধ্য হবো বলেও বক্তারা জানান।

এ বিষয়ে মূল অভিযুক্ত ডাঃ ফিরোজ মাহমুদ জানান, “সেদিনের ঘটনার সাথে মানববন্ধনে বক্তব্যের কোন সম্পৃক্ততা নেই। ওই রোগীর সাথে যারা সেদিন এসেছিলেন তারা বিভিন্নভাবে অভদ্রোচিত কথা বললে, আমি প্রতিউত্তরে বলি আপনারা এভাবে কথা বলতে পারেন না। এর থেকে আর একটি বাক্যও আমি বলিনি।”

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফিরোজ আলম বলেন, “আমার কর্তব্যরত চিকিৎসক সম্পূর্ণ নির্দোষ। সরকার যদি ড্রাইভার না দেয় তাহলে আমরা কোথায় পাবো। আমরা এ পর্যন্ত ২০ থেকে ২৫ বার উপর মহলে জানিয়েছি কিন্তু এখনও অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার পাইনি। শুধু আমরাই না আশপাশের কয়েকটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাইভার নেই। আমাদের এই সরকারি অ্যাম্বুলেন্স যে ড্রাইভার চালাই তিনি মূলত স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তার গাড়ির ড্রাইভার। সময় পেলে সে এই অ্যাম্বুলেন্স চালায়।”

জুন ১৪, ২০২৩ at ১৮:০৭:০০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/হুক/ইর