জাবির রসায়ন বিভাগের স্নাতক চূড়ান্ত পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের সাথে উত্তরপত্রও ফাঁস

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) রসায়ন বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের (৪৭ব্যাচ) ফাইনাল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র ফাসেঁর ঘটনা ঘটেছে।

গত রবিবার (১১ জুন) পরীক্ষা শুরুর ১০ মিনিটের মাথায় সম্পূর্ণ ৫টি প্রশ্নের উত্তরপত্রসহ জাহিদ মোস্তফা নামে এক শিক্ষার্থী ধরা পড়ে। ঐদিন ‘টপিকস ইন বায়োকেমিষ্ট্রি’ শিরোনামের ৪৩৩ নম্বর কোর্সের পরীক্ষা ছিল। পরে পরীক্ষা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার উত্তরপত্র বাতিল করেন।

আরো পড়ুন :
> বাঘারপাড়ায় জমি কিনে বিপাকে দুই গৃহবধূ
> ভোজ্যতেলের দাম কমার আভাস বাণিজ্যমন্ত্রীর

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পরীক্ষা শুরুর ১০ মিনিটের পর সন্দেহের ভিত্তিতে কোর্স শিক্ষক অধ্যাপক নাসরিন জুয়েনা অভিযুক্ত জাহিদকে তল্লাশী করে। তখন তার কাছে সম্পূর্ণ লিখিত উত্তরপত্র সহ একটি আলাদা উত্তরপত্র পাওয়া যায়। যেখানে ৫টি প্রশ্নের উত্তর আগে থেকেই লিখিত আকারে ছিলো।

জানা যায়, অধ্যাপক নাসরিন জুয়েনা ৪র্থ বর্ষের (৪৭ ব্যাচের) ৪০০ ও ৪৩৩ নং কোর্স নিয়েছেন। গত ১০ মে ৪০০ নং কোর্স দিয়ে স্নাতক সম্মান চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা শুরু হয়। ঐ শিক্ষিকা ৪০০ নং কোর্সের খাতা মূল্যায়ন করলে দেখতে পায় লিখিত ৩৫ নম্বরের মধ্যে ঐ শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে। সন্দেহ হলে ঐ শিক্ষার্থীর পরিচয় বের ইনকোর্স পরীক্ষার নম্বর চেক করে দেখেন। অভিযুক্ত ঐ শিক্ষার্থীর ইনকোর্স পরীক্ষায় অন্যান্য শিক্ষার্থীর তুলনায় অনেক কম নম্বর পেয়েছেন। পরে সন্দেহ হলে ৪৩৩ নং কোর্সে ৮ম পরীক্ষা চলাকালীন ঐ শিক্ষার্থীকে তল্লাশী করে ওই অধ্যাপক। তখন ঐ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৫টি প্রশ্নের লিখিত উত্তরসহ একটি খাতা হাতেনাতে ধরেন।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ধারণা, ১ম ও ৮ম পরিক্ষার প্রশ্ন ও উত্তরপত্র যেহেতু ফাসঁ হয়েছে। সেহেতেু এর মাঝের পরীক্ষাগুলোর প্রশ্নও নিশ্চয়ই ফাসঁ হয়েছে। প্রশ্নপত্র তৈরির সাথে জড়িতরাই তাকে এসব সরবরাহ করেছেন। এ বিষয়ে অধিক তদন্ত দরকার।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে অধ্যাপক নাসরিন জুয়েনা লিখিত খাতাসহ ধরার বিষয়টি খোলাসা করতে গরিমসি করেন। তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন, এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চাই না।

প্রশ্ন ও উত্তরপত্র ফাঁসের বিষয়ে এমন ঘটনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আরজু মিয়া বলেন, আমি শুনছি ব্যাপারটা। এটা হয়ত কোন কারণে লিক হয়ে গেছে। ছেলেটা কিভাবে কোথা থেকে যে পাইছে এটা তা ইনকোয়ারী না করে বলতে পারবো না। পরীক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে যতটুকু সিকিউরিটি ম্যানটেইন করার করেছি। কিন্তু সে কিভাবে প্রশ্ন পেয়েছে বা পায়েছে কিনা এজন্য বিভাগীয় চেয়ারম্যান মাহবুব কবির স্যারকে বলা হয়েছে তদন্ত করার জন্য কমিটি করে দিতে।

তবে আশিকুর রহমান নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘সংগঠিত পরীক্ষা গুলো বাতিল করা কোনোভাবেই উচিৎ নয়। আমরা এমনিকেই অন্যান্য ব্যাচের তুলনায় পিছিয়ে আছি। তদন্ত কমিটি ইনকোর্সের মার্ক ও লিখিত পরীক্ষার খাতা মিলিয়ে দেখতে পারেন। অধিকতর স্বার্থে সবার ইনকোর্স ও লিখিত পরীক্ষার খাতা দেখা যেতে পারে। এর সাথে জড়িত সবার শাস্তি দ্রুত নিশ্চিত করা দরকার।’

এ ঘটনায় রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক তপন কুমার সাহাকে আহবায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তপন কুমার সাহা জানান, আমার কাছে এখনো কমিটির পুরো লিস্ট এসে পৌছায়নি। তবে একাডেমিক মিটিং এর সিদ্ধান্ত মতে আগামী ১৫ জুলাইয়ে তদন্ত রিপোর্ট পেশের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ওই ব্যাচের সকল পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

অভিযুক্ত জাহিদ মোস্তফা বলেন, ‘আমি কোন প্রশ্ন পাইনি। আমার সাথে কেউ জড়িত ছিলো না। আমি চিরকুটে লিখে নিয়ে গিয়েছিলাম। তাই খাতা বাতিল করেছে।’

উল্লেখ্য, তিন সদস্যবিশিষ্ট চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা কমিটিতে অন্য দুজন হলেন একই বিভাগের অধ্যাপক ডিএম শফিকুল ইসলাম ও অধ্যাপক তাহমিনা হক।

জুন ১৪, ২০২৩ at ১০:২৩:০০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/দেপ্র/ইর