শিশুশ্রম বন্ধ হচ্ছেনা রাণীশংকৈলে

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা হলরুমে সোমবার (১২ জুন) উপজেলা শিশুশ্রম পরিবীক্ষণ কমিটির আয়োজনে বিশ্ব শিশুশ্রম বন্ধ দিবস পালিত হয়।

এ উপজেলায় বে-সরকারি সংস্থা ইএসডিও’র আওতায় গত কয়েক বছর থেকে শিশুশ্রম নিরসনে কাজ করছে ”ঝুঁকিপূর্ণ নিরসন শিশুশ্রম প্রকল্প”। এই প্রকল্পটি ইতোমধ্যে উপজেলার ৪ টি ইউনিয়নকে শিশুশ্রম মুক্ত ঘোষনা করছেন (ধর্মগড়, নেকমরদ,লেহেম্বা,বাচোর)।

আরো পড়ুন :

> পাঁচবিবিতে বাচ্চাদের আম পাড়াকে  কেন্দ্র করে মারপিট- আহত-২
> মিম হত্যার আসল ঘটনা উন্মোচন, দুমকিতে গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যায় দুলাভাই আটক

কিন্তু সোমবার( ১২ জুন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বাস্তবে এর কোন মিল নেই। চারপাশে তাকালেই দেখা যায়, কত শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছে। উপজেলার পৌর এলাকায় হোটেলে রান্নার কাজ করছে লেহেম্বা ইউনিয়নের পকম্বা গ্রামের রিসাদ ইসলাম।

সে জানায়, তার বয়স ১৫ বছর, এই হোটেলে গত ৬ মাস ধরে কাজ করছে। প্রতিদিন তাকে ৩০০ করে টাকা দেওয়া হয়। তবে তাকে দেখলে মনে হবে বয়স ১২-১৩ বছর। বাচোর ইউনিয়নের দোশিয়া গ্রামের আবুল কাইয়ুম শাহিন ইলেকট্রনিক ওয়ার্ক সোপে ঝালায়ের কাজ করছিল। সে বলে ৭ -৮ মাস ধরে এখানে ঝালায়ের কাজ করছি। প্রতিদিন খাওয়ায় এবং ১০০ টাকা মজুরী দেয়। এরকম শিশু শ্রম কাজে আরও অনেকে জড়িত, মুরাদ হোসেন বয়স ১৫ সে একটি মোটরসাইকেল মেরামতের দোকানে কাজ করে, উজধারির সাজু ধনেশ্বরের দোকানে কাজ করে তার বয়স ১৪, কুলিক পাড়ার সজিব, বয়স ১৩, বলিদ্বারা হৃদয় বয়স ১২ সহ আরো অনেকে বিভিন্ন দোকানে, ঝালাই, রান্না, মোটরসাইকেল মেরামতরে কাজ করছে।

এ ব্যপারে ইএসডিও ঝুঁকিপূর্ণ নিরসন শিশুশ্রম প্রকল্পের মেনেজার আকলিমা বেগম জানান, ইতিমধ্য উপজেলার নেকমরদ, ধর্মগড়, লেহেম্বা ও বাচোর ইউনিয়নকে শিশুশ্রম মুক্ত ঘোষনা করা হয়েছে। তবে পৌরসভায় একার্যক্রমের কাজ শুরু হয়েছে।

প্রকল্পের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির স্টিভ বলেন, শিশুশ্রম বন্ধে আমরা কাজ শুরু করেছি। এ ব্যপারে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। দরিদ্রতা, অশিক্ষা, অসচেতনতা, শিশুদের শ্রমের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আবার শিশুদের সস্তা শ্রমের জন্য কতিপয় অসাধু ব্যক্তি নানা রকম প্রলোভনে শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে টেনে নিচ্ছে। তবে এনকম তথ্য পেলে আমরা এটি বন্ধে দ্রুত প্রদক্ষেপ নিবো।

প্রসঙ্গত: দেশে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম বন্ধের সময়সীমা বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ ২০২১ সালের মধ্যে দেশ ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম মুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ হলেও তা সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে কয়েক দফা সময় পেছালো সরকার। সম্প্রতি নতুন করে ২০২৫ সালের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সরকারি হিসাব মতে, দেশে ৩৪ লাখ শিশু শ্রমে এবং ১২ লাখ শিশু ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিযুক্ত। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য মাত্রা অর্জনে ২০৩০ সালের মধ্যে সব রকম শিশুশ্রম বন্ধ করার তাগিদ রয়েছে।

জুন ১২, ২০২৩ at ১৭:৫১:০০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/দেপ্র/ইর