ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ভার্সিটিতে ভর্তির সুযোগ পেয়েও দুঃচিন্তায় জিহাদ

মো. জিহাদ হাসান তুহিন। এবার ২০২৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বি ইউনিটে মেধা তালিকায় ৫১৯ নম্বারে রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েও দু:চিন্তায় রয়েছেন জিহাদ ও তার পরিবার। মেধাবি জিহাদ শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ে না এবার সে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ইউনিটে মেধা তালিকায় ৩৬তম এবং গুচ্ছ বি ইউনিটে মেধা তালিকায় ৪৭১তম স্থান পেয়েছেন। জিহাদ হাসান কালীগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের শাহজাহান আলী ও জাহানারা বেগমের ছেলে। গরীব হতদরিদ্র এই পরিবারের জিহাদ এতদিন পড়াশোনো করেছেন বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের সহযোগিতায়।

কিন্তু এবার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন পুরন হবে কি না বলতে পারছেন না। পরিবারের পক্ষে ঢাবিতে ভর্তি জন্য প্রায় ২০ হাজার টাকা দেওয়া সম্ভব না। ভর্তির সময় যদি এই টাকা না পাই তাহলে তার ভর্তি অনিশ্চিত। জিহাদ হাসান জানান, ২০০০ সালে রোস্তম আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তির্ণ হয়। এরপর ভর্তি হন সরকারী মাহতাব উদ্দিন কলেজে। ২০২২ সালে সেখান থেকে পরিক্ষা দিয়ে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তির্ণ হয়েছেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আবেদন করেন। জিহাদ জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বি ইউনিটে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ইউনিটে এবং গুচ্ছ বি ইউনিটের তিনটিতে মেধা তালিকায় রয়েছেন। কিন্তু তার ইচ্ছা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে লেখাপড়া শেষ করে বিসিএস ক্যাডার হবেন। জিহাদ আরো জানান, ভিটেবাড়ি ৪ শতক জমিতে একটি টিনের ঘর।

আরো পড়ুন :
> ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসী কনফারেন্স
> আঙুরের পর ড্রাগন চাষে সাফল্য পাওয়ার দারপান্তে চৌগাছার কৃষক রুহুল আমিন

ঘরে জায়গা না হওয়ায় বাইরে একটি চালা দিয়ে সেখানে কষ্ট করে থেকে লেখাপড়া করেছেন। জিহাদের মা জাহানারা বেগম জানান, এনজিও এবং মানুষের কাছ থেকে টাকা ঋণ নিয়ে এইচএসসি পরিক্ষার পর বিভিন্ন স্থানে কোচিং এবং পরিক্ষা দিতে যাবার জন্য খরচ দিয়েছেন। এছাড়া এইচএসসি পড়ার সময় হেল্পফুল হ্যান্ড নামের একটি সংগঠন আর্থিক সহযোতিা করেছেন এখন ছেলের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে তিনি চিন্তিত। জিহাদের বাবা বর্তমানে বেকার। আগে ইটভাটার গাড়ি চালাতেন। সেটা বন্ধ। জিহাদের বাবা শাহজাহান আলী জানান, গ্রামের পাশের একটি ইটভাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। কিন্তু সেই কাজ বন্ধ থাকায় এখন বেকার। সংসার চালানোই দায়।

বড় ছেলে জাহিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন নিজে টিউশনি করে। আর ছোট ছেলে জিহাদকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে হবে। কিন্তু হাতে কোন টাকা নেই। যেখানে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। জিহাদ ও তার পরিবার সমাজের মানবিক মানুষের দৃষ্টি কামনা করেছেন। জিহাদের দরকার প্রায় ২০-২৫ হাজার টাকা। তার সাথে কথা বলতে ০১৩১৬-৪৮৮৬১৬। বিকাশ নাম্বার ০১৩১৬-৪৮৮৬১৬, নগদ নাম্বার ০১৩২২-০৯৮৭৬১।

জুন ১০, ২০২৩ at ২০:৫০:০০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/কালি/মেমহ