১৮৫ ঘন্টা পর শর্ত সাপেক্ষে অনশন ভাঙলেন প্রত্যয়

প্রায় ১৮৫ ঘন্টা পর অনশন ভাঙলেন তিন দফা দাবিতে আন্দোলনকারী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থী সামিউল ইসলাম প্রত্যয়। তিনি ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ৪৯ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী এবং মীর মশাররফ হোসেন হলের আবাসিক ছাত্র।

বৃহস্পতিবার (০৮ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় মীর মশাররফ হোসেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. সাব্বির আলমের উপস্থিতিতে পানি পানের মাধ্যমে অনশন ভাঙেন তিনি।

আরো পড়ুন :
> কালীগঞ্জে সরকারী জমি দখল করে দোকান ঘর নির্মাণ করার অভিযোগ
> ওগো লগে আমার বাবার কোন ঝামেলা ছিলো না তাহলে কিল্লাইগা আমার বাবারে মারলো

এর আগে সকালে হল প্রাধ্যক্ষকে ছয়টি লিখিত শর্ত দেন প্রত্যয়। শর্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে এই মর্মে মীর মশাররফ হোসেন হল প্রাধ্যক্ষ শর্তে স্বাক্ষর করলে প্রত্যয়ও সেখানে স্বাক্ষর করে অনশন ভাঙেন।

প্রত্যয়ের ছয়টি শর্ত হলো- হলে অবস্থানরত সকল শিক্ষার্থী ও আসন সংখ্যার হিসাব তালিকা তৈরি, ১৫ দিনের মধ্যে ফাঁকা কক্ষগুলো প্রশাসনিকভাবে সিলগালা করা, যেসব আসনগুলোতে মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থী পাওয়া গেছে তাদের আসনে বৈধ শিক্ষার্থীদের তুলে দেওয়া ও তার তালিকা প্রকাশ, মেয়াদোত্তীর্ণ সকল শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগে বাধ্য করা, সকল বিষয়ে হল প্রশাসন সাংবাদিকদের তথ্যের আপডেট দিয়ে সহযৌগিতা করা, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না করলে প্রাধ্যক্ষ পদত্যাগ করবে।

অনশন ভাঙার পর প্রত্যয় বলেন, প্রশাসন এতদিন ধরে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ দেখাতে পারে নি। প্রভোস্ট স্যার খসড়া তালিকা দেখিয়েছেন৷ আমার তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের কর্ম পরিকল্পনা মেনে নিয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে আমি অনশন ভেঙেছি। যদি কথা না রাখেন আমি পরবর্তী পদক্ষেপ নিবো।

মীর মশাররফ হোসেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. সাব্বির আলম বলেন, সকাল সাড়ে ১১টার সময় আমার ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে পানি পান করে প্রত্যয় অনশন ভাঙে। আমরা দুজনেরি কয়েকটি শর্তে একটি চুক্তি করেছি। তার দাবিগুলো বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবো।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (৩১ মে) থেকে তিন দফা দাবিতে মীর মশাররফ হোসেন হলের সামনের মাঠে অনশনে বসেন সামিউল ইসলাম প্রত্যয়। তার দাবিগুলো হলো গণরুমের বিলুপ্তি, মেয়াদোত্তীর্ণ ছাত্রদের হল ত্যাগে বাধ্য করা এবং গণরুমে অবস্থানরত সকল বৈধ শিক্ষার্থীদের আসন নিশ্চিত করা।

জুন ০৮, ২০২৩ at ১৯:৪৬:০০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/নাউ/ইর