স্বামীর নামে যৌতুক মামলা করে উল্টো অপহরণ মামলার আসামী হলেন গৃহবধু সামিয়া

ছবি- সংগৃহীত।

স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা করে চরম বিপাকে পড়েছে ছামিয়া খাতুন(১৯) নামের এক গৃহবধূ। উল্টো সামিয়ার শাশুড়ি তাকেসহ তার মা বাবার নামে করেছে মিথ্যা অহপরণ ও জোরপূর্বক বিয়ে দেয়ার মামলা।

বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এদিকে স্বামীর সংসারে ঠাঁই না পেয়ে ১৩ মাসের বাচ্চা নিয়ে বাবার বাড়িতে চরম মানবেতর জীবন যাপন করছে সামিয়া খাতুন। মঙ্গলবার দুপুরে যশোর সদরের চুড়ামনকাটি প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন গৃহবধৃ সামিয়া খাতুন।

সাংবাদিক সম্মেলনে ছামিয়া খাতুন বলেন, আমার বাড়ি যশোর সদরের দৌলতদিহি গ্রামে। গত ০১-০১-২০২০ তারিখে যশোরের চৌগাছা উপজেলার আফরা গ্রামের নুর আলমের ছেলে মাহবুব হাসান ওরফে রাসেলের সাথে ১ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে হয় আমার। বিয়ের পর বিভিন্ন সময় যৌতুক দাবি করে আমার স্বামী শাশুড়িরা। আমার সুখের কথা চিন্তা করে আমার অসহায় বাবা মা ১ টি খাট, ১ টি আলমারী, ১ টি সোফা সেট, ১ ভরি ওজনের ১ টি সোনার চেইন, ৮ আনা ওজনের ১ টি সোনার আংটি, সোনার ২ টি রুলি, কানের দুল দেয়া হয়। যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ত্রিশ হাজার টাকা। এছাড়া রাসেলের ব্যবসার জন্য নগদ ১ লাখ টাকা যৌতুক হিসেবে প্রদান করে আমার বাবা।

আরো পড়ুন :
> জাবি উপ-উপাচার্যের দৌড়ে ‘বিতর্কিত’ দুই শিক্ষক
> শাহজাদপুরের রাউতারা অস্থায়ী বালুর রিং বাধ নির্মাণে, প্রতিবছর সরকারের কোটি টাকা জলে যাচ্ছে

সামিয়া আরো অভিযোগ করে কিছু দিন যেতেই আমার স্বামী আরও ২ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে আমার ওপর শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। আমার অসহায় বাবা মা তার দাবিকৃত যৌতুকের টাকা না দিতে পারায় ২০২১ সালের ১ আগষ্ট আমাকে মারপিট করে আমার বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।

বারবার আমার পরিবারের সদস্যরা রাসেল ও তার পরিজনদের সাথে যোগাযোগ করেও তারা আমাকে গ্রহন করিনি। আমি বাধ্য হয়ে গত ২৫-০৫-২০২১ ইং তারিখে বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, যশোরে স্বামী মাহবুব হাসান রাসেল ও শাশুড়ি ছালেহা বেগমকে আসামি করে আমি নিজে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করি। এরপর ২৭-১০-২০২১ ইং তারিখে রাসেল আমাকে তালাক প্রদান করে। তালাক প্রদানের সময় আমি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলাম।

লিখিত বক্তব্যে সামিয়া আরো বলেন, তালাক দেয়ার পরও রাসেল গোপনে আমার পিতার বাড়িতে যাতায়াত করতেন। কিন্তু ভালোবাসার টানে আমি কিছুই বলতে পারিনি। গত ০৬-০৩-২০২২ ইং তারিখ সকালে আমি চুড়ামনকাটি গ্রামে নানা বাড়ি বেড়াতে আসি। বিষয়টি জানতে পেরে রাসেলও সেখানে আসে। কিন্তু রাসেলের মা ছালেহা বেগম ৯৯৯ এ কল করে জানান, রাসেলকে অপহরণ করে আনা হয়েছে।

সাজিয়ালী পুলিশ ক্যাম্পের এ এস আই তৌফিক এলাহী ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল আমার নানা বাড়ি আসেন। অপহরণ করা হয়েছে কিনা পুলিশ তাকে জানতে চাইলে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে রাসেল না বলে জানান। নিজের ইচ্ছায় আমাকে বিয়ে করছেন বলেও পুলিশকে। জানান পুলিশ সেখান থেকে চলে যাওয়ার পর ওই দিনই রাসেল ৫ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য্যে পুনরায় রেজিঃ কাবিনমূল্যে দ্বিতীয় বারের মতো বিয়ে করেন। বিয়ের পর আমাকে সেখানে রেখে রাসেল নিজের বাড়ি চলে যান। এরই মধ্যে গত ১২-০৪-২০২২ ইং তারিখে আমি কন্যা সন্তান প্রসব করি।

সন্তান জন্ম হওয়ার পর আমার স্বামী রাসেল আমাকেসহ আমার সন্তানকে দেখতে আসেনি। আমাদের কোন ভরণপোষণও দেননি। এমতাবস্থায় গত ১০-০৯-২০২২ ইং তারিখে আমার পিতা পক্ষের লোকজনকে নিয়ে রাসেলের বাড়িতে গিয়ে তার বউ হিসেবে আরেক নারীকে দেখতে পাই। ওই দিন আমাদেরকে অপমান করে তাড়িয়ে দেয়া হয়।

এই ঘটনায় রাসেল ও তার মা ছালেহা বেগমের বিরুদ্ধে পারিবারি আদালতে আরও তিনটি মামলা দায়ের করি আমি। এসব ঘটনায় রাসেল ও তার মা ছালেহা বেগম ক্ষুব্দ হয়ে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকে। তাদের ষড়যন্ত্র সফল করতে রাসেলকে মিথ্যা অপহরণ ও জোরপূর্বক বিয়ে দেয়ার নাটক সাজিয়ে আমিসহ আমার পিতা-মাতা ও পূর্বের মামলার সাক্ষী এবং ম্যারেজ রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে গত ০৩-০৫-২০২৩ ইং তারিখে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী কোতোয়ালি আদালত যশোরে একটি মামলা দায়ের করেন আমার শাশুড়ি ছালেহা বেগম। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

রাসেল নিজের ইচ্ছায় দ্বিতীয়বারের মতো আমাকে বিয়ে করেছেন। তাকে কোন প্রকার জোর করা হয়নি। আমার দায়েরকৃত মামলা মিমাংসা করার কথা বলেও রাসেলকে ডেকে আনা হয়নি। সঠিকভাবে তদন্ত করলে প্রকৃত সত্যতা জানা যাবে। মূলত আমার দায়েরকৃত মামলা ভিন্নখাতে নিতে রাসেলের মা ছালেহা বেগম পরিকল্পিতভাবে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। আমি আপনাদের মাধ্যমে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সামিয়ার মা বিজলী বেগম, মামি পারভিনা বেগম। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সামিয়া খাতুন নিজেই।

জুন ০৭, ২০২৩ at ১৭:২৮:০০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/দেপ্র/ইর