ভূঞাপুরে রাতের বেলায় তৈরি হচ্ছে নকল জর্দা

ভেজাল ও নকল জর্দার তৈরি ও বাজারজাত করণের রমরমা ব্যবসা চলছে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে। এমনিতে ভূঞাপুরে খাদ্য , প্রসাধনী ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের নকল ও ভেজাল কোনভাবে নিয়ন্ত্রন করা যাচ্ছেনা।

মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা ও জরিমনা করলেও কোনভাবেই থামছে না নকল বা ভেজাল তৈরির কারখানা। ভেজাল ও হুবহু নকল ব্যবসার প্রসার টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয় প্রশাসনকে ফাঁকি দিযে বা কোন রকমে ম্যানেজ করে তারা এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে প্রচুর রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

সরেজমিনে এরকম একটি নকল জর্দার কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের যমুনার বেড়িবাধ সংলগ্ন কুকাদাইর গ্রামে। এ গ্রামের একটি বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় , দেশের নামকরা রতন জর্দার পণ্যের নাম দিয়ে কারখানায় দেদারছে তৈরি করা হচ্ছে। তামাক পাতার সঙ্গে ক্যামিক্যাল মিশ্রিত সুগন্ধি দিয়ে জর্দা তৈরি করা হচ্ছে। নোংরা পরিবেশে তৈরি করা জর্দা সেখান থেকে বিক্রি হচ্ছে ভূঞাপুর উপজেলার বিভিন্ন মুদির দোকানগুলোতে ও হাটবাজারে।

আরো পড়ুন :

> পা দিয়ে লিখে ভর্তি পরীক্ষা অংশগ্রহণ করলেন হাবিবুর
> নরসিংদীতে চার বছরের কন্যা শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

দেশের স্বানামধন্য রতন ব্র্যান্ডের সাথে হুবহু মিল রেখে হাজার হাজার কৌটা জর্দা তৈরি ও বিক্রি করা হচ্ছে ওই বাড়ি থেকে। নকল ওই জর্দা তৈরির মালিক মোহাম্মদ নিজে ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নকল জর্দা তৈরি করছেন। দিনের বেলায় কারখানা বন্ধ রাখেন রাত ১০ টার পর থেকে নকল জর্দা তৈরি করেন । সেই সময় বাড়ীর দুই দিকে প্রবেশের দুইটি গেটে তালা দিয়ে রাখেন। বাড়ীর বাহিরে দুই একজন পাহাড়াদার রাখে। অপরিচিত লোকজনের উপস্থিতি টের পাইলে খুব দ্রুত খাটের নিচ লুকিয়ে রাখে।

সরেজমিনে রাত সোয়া বারোটায় ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় মোহাম্মদ , তার দুই ছেলে ও স্ত্রী নকল জর্দা তৈরির কাজ করতে। সাংবাদিক পরিচয় জানার পর তালা খুলে ভিতরে নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে তর্ক জুড়ে দেন। জর্দা তৈরির বৈধ কাগজপত্র আছে কিনা জানতে চাইলে মোহাম্মদ বলেন আপনারা তো প্রশাসনের কেউনা, রাত করে কেন আসলেন, কে পাঠালো আপনাদেরকে, এরকম উল্টো নানা প্রশ্ন ।

তবে এলাকায় আশেপাশের অন্যান্য বাড়ীর লোকজন জানান তিনি গোবিন্দাসীর ভালকুটিয়ার মটর বিড়ির শ্রমিক হিসাবে কাজ করতেন। সেখান থেকে এসে সে নকল জর্দার ফ্যাক্টরি খোলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন জানান, এ বিষয়ে আমি অবগত হয়েছি। খুব তাড়াতাড়ি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জুন ০৫, ২০২৩ at ২১:০৫:০০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/মাহামা/ইর