বিএডিসি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ, মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে গভীর নলকুপের লাইসেন্স প্রদান

 চৌগাছায় বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নারায়নপুর গ্রামের অসহায় কৃষক সামসুল হক। গতকাল (৪ জুন) রবিবার সকালে প্রেসক্লাব চৌগাছা কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, নারায়নপুর গ্রামের দক্ষিণ মাঠে ১৯৮১ সালে তৎকালীন সরকার একটি গভীর নলকুপ স্থাপন করেন। এরপর ১৯৯২ সালে সরকার ঘোষণা দেয় নলকুপটি বিক্রয় করা হবে। ঘোষনা মোতাবেক আবেদনের মাধ্যমে নির্ধারিত মূল্যে সরকারের নিকট হতে আমি সেটি ক্রয় করি। পরবর্তীতে বিদ্যুৎ সংযোগ নেয়া হয়।

তিনি বলেন, ওই সময় জমির কাগজপত্র ছাড়াই বিদ্যুৎ লাইন সরবরাহ করা হত। পরবর্তীতে নলকুপ বাবদ বিএডিসি অফিসের সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধের পর রশিদ নিয়ে সেচকার্যক্রম চালায়। কিন্তু নলকুপটি যে জমিতে স্থাপন ছিল সেই জমি মালিক জোরপূর্বক নলকুপটি দখল করার পায়তারা চালায়। একপর্যায় ২০২১ সালে জমির মালিক আবুল হোসেনের ভাই শহিদুল ও চাচাত ভাই মোমিন তাদের সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে জোর পূর্বক নলকুপ ও মিটার দখল করে। নলকুপের মিটারটি অন্যের জমিতে বিধায় নিজ জমিতে স্থান পরিবর্তনের জন্য দরখাস্ত করি এবং বিদ্যুৎ অফিস কাগজপত্র যাচাইবাছাই শেষে নিজের জমিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেন।

আরো পড়ুন :
> বেনাপোলে বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেনে ট্রাক্সফোর্সের অভিযান
> কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয় ভাঙচুর

তিনি আরও বলেন, সরকারের ঘোষনা মতে বিএডিসির লাইসেন্স পাবার জন্য আবেদন করি ও সকল কাগজপত্র জমা দিই। কিন্তু এই লাইসেন্সের জন্য বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেন আমার নিকট ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবী করেন। আমি টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে লাইসেন্স দিতে নানা টালবাহানা শুরু করে। মাসের পার মাস আমাকে হয়রানি করতে থাকে। একপর্যায় ওই কর্মকর্তা ৫ লাখের স্থলে আমার নিকট ৩ লাখ টাকা দাবী করে। এতেও আমি অপরাগতা জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছুদিন চুপ থাকার পর ওই কর্মকর্তা গ্রামের শহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির নিকট হতে মোটা অংকের টাকা গ্রহন করে তাকেই লাইসেন্স প্রদান করেন।

লিখিত বক্তব্যে সামসুল হক জানান, প্রায় চল্লিশ বছর ধরে গভীর নলকুপটি আমার দখলে রয়েছে, বিদ্যুত বিল প্রদানসহ সকল কাগজপত্র আমার নামে অথচ ষড়যন্ত্র করে দীর্ঘ দিনের নলকুপ আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে অন্যকে প্রদান করেছেন ওই কর্মকর্তা। বিএডিসির ওই কর্মকর্তার যোগসাজসে উপজেলা সেচ কমিটিকে মিথ্যে তথ্যের মাধ্যমে ম্যানেজ করে আমার নিকট থেকে গভীর নলকুপটি নেয়া হয়েছে। আমি এখন সর্বশান্ত হয়ে গেছি। বিষয়টি তদন্তপূর্ব যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহনে কৃষক সামছুল হক উর্ধতন কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে এ সময় সামসুল হকের ভাই শরিফুল ইসলাম, ভাইপো সাইদুল ইসলাম, নাজমুল ইসলাম, স্ত্রী পাপিয়া বেগম, মেয়ে রাবেয়া আক্তার ঝুমু, জামাই রানা হোসেন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

জুন ০৪, ২০২৩ at ১৯:৫০:০০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/দেপ্র/ইর