ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ছবি- সংগৃহীত।

গ্রামীণ টেলিকম থেকে শ্রমিক কর্মচারীদের অর্থ আত্মসাৎ অভিযোগে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (৩০ মে) সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলা দায়ের করেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের পরিচালক প্রশাসন মো. রেজওয়ানুর রহমান জানান, গ্রামীণ টেলিকমের অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে দুদকের কাছে অভিযোগ করা হলে অনুসন্ধান শেষে গ্রামীন টেলিকমের চেয়ারম্যানসহ বোর্ড সদস্যদের বিরুদ্ধে অসৎ উদ্দেশ্যে অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ করে পরস্পর যোগসাজশে প্রায় ২৫ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাত ও মানি লন্ডারিং এর সত্যতা পাওয়ায় ইউনূসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দাযের করা হয়।

আরো পড়ুন :
> রাজের সঙ্গে সুনেহরার আপত্তিকর ভিডিও ফাঁস, পরীমণির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি
> শাহজাদপুরে গো খাদ্যে ভেজাল মিশানোর জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা।

গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাজমুল ইসলামসহ গ্রামীণ টেলিকমের বোর্ডের সদস্যদের উপস্থিতিতে গ্রামীণ টেলিকমের ২০২২ সালের ৯ মে অনুষ্ঠিত ১০৮তম বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ঢাকা ব্যাংক লি. গুলশান শাখায় ২০২২ সালের ৮ মে একটি হিসাব খোলা হয়, যার নম্বর ২১৫১৫০০০০২৫৬৮। গ্রামীণ টেলিকমের কর্মচারীদের পাওনা লভ্যাংশ বিতরণের জন্য গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন এবং গ্রামীণ টেলিকম এর সাথে সেটেলমেন্ট এগ্রিমেন্ট চুক্তি ২০২২ সালের ২৭ এপ্রিল স্বাক্ষরিত হয়। গ্রামীণ টেলিকমের বোর্ড সভার হিসাব খোলার সিদ্ধান্ত ২০২২ সালের ৯ মে হলেও তার একদিন পূর্বেই ব্যাংক হিসাব খোলা হয় এবং সেটেলমেন্ট এগ্রিমেন্ট ২০২২ সালের ২৭ এপ্রিল হলেও এই এগ্রিমেন্টে ২০২২ সালের ৮ মে খোলাকৃত ব্যাংক হিসাব দেখানো আছে, যা বাস্তবে অসম্ভব। এ রকম ভুয়া সেটেলমেন্ট এগ্রিমেন্টের শর্ত অনুযায়ী ও ১০৮তম বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক গ্রামীণ টেলিকমের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লি: মিরপুর শাখার একাউন্ট নম্বর-০৫৬১৩০১০০০০০০০১০ থেকে গ্রামীণ টেলিকম এর ঢাকা ব্যাংক লি. গুলশান শাখার হিসাব নম্বর- ২১৫১৫০০০০২৫৬৮ এ ২০২২ সালের ১০ মে ৪৩৭.০১.১২,৬২১.০০ টাকা স্থানান্তর করা হয়। পরে, ২০২২ সালের ২২ জুন অনুষ্ঠিত গ্রামীণ টেলিকমের ১০৯তম বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অতিরিক্ত ১,৬৩,৯১,৩৮৯.০০ টাকা প্রদানের বিষয়টি অনুমোদন দেয়া হয়। ফলে, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড গুলশান শাখার হিসাব নম্বর- ২১৫১৫০০০০২৫৬৮ হতে গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন নামীয় ডাচ বাংলা ব্যাংক লি. লোকাল অফিস এর হিসাব নম্বর-১০১১১০০০৪৭১৭২ এ ২০২২ সালের ১৭মে ১০.০০ কোটি টাকা, ২০২২ সালের ২৫মে ১৪, ৫৮,১৫,৩৯১.০০ টাকা এবং ২০২২ সালের ৩০মে ১,৬৩.৯১.৩৮৯.০০ টাকাসহ সর্বমোট ২৬,২২,০৬,৭৮০.০০ টাকা স্থানান্তর করা হয় কিন্তু কর্মচারীদের লভ্যাংশ বিতরণের পূর্বেই তাদের প্রাপ্য অর্থ তাদের না জানিয়েই অসৎ উদ্দেশ্যে আত্মসাতের অভিপ্রায়ে সিবিএ নেতা মো. কামরুজ্জামান এর ডাচ বাংলা ব্যাংক লি. মিরপুর শাখার হিসাব নম্বর ১১৫১৫৭০০৪২৬৮২তে ২০২২ সালের ২৫ মে ২.৫০ কোটি টাকা এবং ২০২২ সালের ২জুন ৫০.০০ লক্ষ টাকা, সিবিএ নেতা মাইনুল ইসলাম এর ডাচ বাংলা ব্যাংক লি. মিরপুর শাখার হিসাব নম্বর ১১৫১৫৭০০৪২৯০৮ এ ২০২২ সালের ২৬ মে ২.০০ কোটি টাকা এবং ২০২২ সালে ২ জুন ১.০০ কোটি টাকা, সিবিএ নেতা ফিরোজ মাহমুদ হাসান এর ডাচ বাংলা ব্যাংক মিরপুর শাখার হিসাব নম্বর ১১৫১৫৭০০৪২৫৬৫ এ ২০২২ সালের ২৬ মে ২.৫০ কোটি টাকা এবং ২০২২ সালের ২ জুন ৫০.০০ লক্ষ টাকা স্থানান্তর করা হয় এবং একইভাবে এডভোকেট মো. ইউসুফ আলীর কমার্সি য়াল ব্যাংক অব সিলন ধানমন্ডি শাখার হিসাব নম্বর ০৮৮০৫০০১২২৩ এ ৪.০০ কোটি টাকা এবং দি সিটি ব্যাংক লি. গুলশান শাখার হিসাব নম্বর ২৮০১১৮৬৭১৫০০১ এ ৫.০০ কোটি টাকা ও এড. জাফরুল হাসান শরীফ এবং এড. মো. ইউসুফ আলী কর্তৃক
স্ট্যান্ডার্ড টাচার্ড ব্যাংক লি. এর গুলশান নর্থ শাখায় যৌথ হিসাব নম্বর ১৮৫৯৮১৪৭৫০১ এ ২০২২ সালের ২৯মে ৬.০০ কোটি স্থানান্তর করা হয়, যা তাদের প্রাপ্য ছিল না।

রেকর্ডপত্রাদি বিশ্লেষণে দেখা যায়, এডভোকেট ফি হিসেবে প্রকৃতপক্ষে হস্তান্তরিত হয়েছে মাত্র ১.০০ কোটি টাকা। বাকি ২৫,২২,০৬,৭৮০,০০ টাকা (২৬,২২,০৬,৭৮০.০০ টাকা – ১,০০,০০,০০০,০০ টাকা) গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বোর্ড সদস্যদের সহায়তায় গ্রামীণ টেলিকমের সিবিএ নেতা এবং এডভোকেটসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ অসৎ উদ্দেশ্যে অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ করে সেটেলমেন্ট এগ্রিমেন্টের শতার্দি লঙ্ঘনপূর্বক জাল-জালিয়াতির আশ্রয়ে গ্রামীণ টেলিকম থেকে উক্ত অর্থ আত্মসাতপূর্বক অপরাধলব্ধ অর্থ স্থানান্তর/রূপান্তরের মাধ্যমে অবস্থান গোপন করে আত্মসাত করেছেন, যা দন্ডবিধি এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হওয়ায় আসামী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস, চেয়ারম্যান, গ্রামীণ টেলিকমসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২)(৩) ধারায় অদ্য ৩০/৫/২০২৩ খ্রি: তারিখে উপপরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধান কর্তৃক একটি মামলা রুজু করা হয়।

মে ৩০, ২০২৩ at ১৮:০২:০০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/দেপ্র/ইর