প্লাস্টিকের বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে

ছবি- সংগৃহীত।

প্লাস্টিকের নানাবিধ ক্ষতিকারক দিক আছে। যা পরিবেশকে দূষিত করার পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্যেরও চরম ক্ষতি করছে। প্লাস্টিকের বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে নাহলে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো সম্ভব না। আর এই বিষয়গুলোকে যদি এখনই গুরুত্ব না দেয়া হয় তবে অদূর ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে বলে উল্লেখ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান সাবের হোসেন চৌধুরী।

সোমবার (২৯ মে) বেলা ১১টায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ক্যাম্পাসের ইসিই ভবনে বুয়েটের উদ্যোগে ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড ও বুয়েট-এর মধ্যকার সমঝোতা স্বাক্ষর এবং ‘প্রোজেক্ট অন প্লাস্টিক সার্কুলারিটি’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।

> ২০২৬ সালে নতুন শিক্ষাক্রমে এসএসসি পরীক্ষা
> বেড়ায় দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে মানববন্ধন

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সত্য প্রসাদ মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন রাইজ-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ আনিসুজ্জামান তালুকদার, সম্মানীয় অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল জব্বার খাঁন ও ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের সিইও ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাভেদ আখতার।

অনুষ্ঠানে ‘রিসার্চ এন্ড ইনোভেশন ইন হলিস্টিক প্লাস্টিক সার্কুলারিটি’ শীর্ষক বক্তব্য দেন ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের রিসার্স এন্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান পুলক বড়ুয়া। এছাড়াও ‘সাসটেইনেবল প্লাস্টিক প্যাকেজিং সার্কুলারিটি: কস্ট ইফেক্টিভ এপ্রোপ্রিয়েট টেকনোলজি শীর্ষক একটি রিসার্স প্রস্তাব উপস্থাপনা করেন বুয়েটের ক্যামিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী বায়েজিদ কবীর ও ড. কৌনিশ কীর্তনিয়া।

সমঝোতা স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বুয়েটের পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার এবং ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির সিইও ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাভেদ আখতার। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন বুয়েটের বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালকরা।

বক্তব্য প্রদানকালে সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করেছি। জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য পরিবর্তন ও প্লাস্টিক সমস্যা এই তিনটি সংকটে পুরো বিশ্ব কাঁপছে, বাংলাদেশও এর বাইরে না। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ কীভাবে এই সমস্যাগুলোকে মোকাবেলা করবে, কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে এটার উপর নির্ভর করছে এখন থেকে পরবর্তী ৫০ বছরে বাংলাদেশকে কোন অবস্থায় দেখতে চাই।

প্লাস্টিক রোধ করা প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘ওয়ান-টাইম’ প্লাস্টিকের ব্যবহার থেকে আমাদের সরে আসতে হবে। প্লাস্টিকের বিকল্প বের করতে হবে। যখন প্লাস্টিক ছিলো না তখনও আমাদের জীবন চলতো। তাই এদিকে আরো বেশি বেশি গবেষণা বাড়াতে হবে। আমরা প্লাস্টিকের নেতিবাচক ব্যবহার নিয়ে কথা বলবো, আর নিজের বাস্তব জীবনের সঙ্গে কোনো মিল রাখবো না,এটা যাতে না হয়।

অনেক সরকারি সংস্থাই এই বিষয়গুলো মেনে চলেনা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, সরকারের কোনো সংস্থা যদি সরকারের আইন না মানে তাহলে সেটা গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা আগে নিজেরা আইন মানবো তারপর সাধারণ জনগণের কাছে এই বিষয়গুলো তুলে ধরব। এই দিকটাতেও আমাদের আরো নজর দেওয়া প্রয়োজন।

অ্যাকাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্ক আরো উন্নত করার তাগিদ দিয়ে সাবের হোসেন আরো বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে গেলে বুয়েট এগিয়ে যাবে। আর বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে বুয়েটকে এগিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে অ্যাকাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্ক আরো জোরদার করতে হবে। এই ক্ষেত্রগুলোতে সরকারকে যুক্ত করতে পারলে সেটা আরো ভালো ফলাফল বয়ে নিয়ে আসবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এসময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও সামগ্রিক বাজেট বাড়ানোর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আশ্বস্ত করেন তিনি।

সম্মানীয় অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য আব্দুল জব্বার খাঁন বলেন, উপমহাদেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বুয়েট একটি জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট কম হওয়ায় গবেষণা সংক্রান্ত বিষয়ে জোর দিতে পারেনা। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ‘সার্টিফাইড’ প্রশিক্ষক দ্বারা ‘সফ্ট স্কিলস ট্রেনিং’ করানো হচ্ছে। এসময় বাজেট বাড়ানোর দিকে নজর দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা কামনা করেন।

মে ২৯, ২০২৩ at ২১:৩৮:০০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/দেপ্র/ইর