মদনে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিয়াশি গুচ্ছ গ্রামবাসীর মানবেতর জীবন যাপন

নেত্রকোনার মদনে বিয়াশি গুচ্ছ গ্রামের বসত ঘরের মাটি বন্যার পানিতে সরে গেছে। কর্তৃপক্ষ ৬ মাসেও মেরামতের কোন উদ্যোগ না নেয়ায় মানবেতর জীবন যাপন করছে গুচ্ছ গ্রামবাসী। ফলে বসত বাড়ি ছেড়ে কেউ আশ্রয় নিয়েছে বাবার বাড়িতে আবার কেউ চলে গেছে অন্যের বাড়িতে। এ নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে বিরাজ করছে ক্ষুব্ধ ক্ষোভ।

এ ছাড়াও হাওরপাড়ে নির্মিত এ গুচ্ছ গ্রামটিতে প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ না করায় বর্ষা মৌসুমে যে কোন সময় হাওরের প্রচন্ড ঢেউয়ে গ্রামটি বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ওই গ্রামে বসবাসরত বাসিন্দারা।উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, শেখ হাসিনার অবদান, গৃহহীনদের বাসস্থান গুচ্ছ গ্রাম ২য় পর্যায় (সিভিআরপি) ২০১৮/১৯ অর্থবছরে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে মদন উপজেলার হাওরাঞ্চলে বিয়াশি গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করা হয়।

সরজমিনে গেলে দেখা যায়, ৬০টি পরিবারের মধ্যে ৩০/৩২টি পরিবারের লোকজন রয়েছে। বন্যায় ১০টি পরিবারের বসতঘরের মাটি সরে গেছে, বিশুদ্ধ পানি পান করার জন্য ১০টি টিউবয়েল থাকলেও শুরু থেকেই ৩টি অকেজো রয়েছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে গুচ্ছ গ্রামের একটি অংশে আলোকিত করার জন্য সৌর প্যানেল থাকলেও সেই প্যানেলটিও রয়েছে নষ্ট। গ্রামটির চতুর পাশেই মাটি সরে গেছে। প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ করার জন্য টাকা বরাদ্দ থাকলেও কোন কাজ হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন গুচ্ছ গ্রামে বসবাসরত বাসিন্দারা।

গুচ্ছ গ্রামে বসবাসরত বাসিন্দা মঞ্জু মিয়া ও এমদাদুল হক জানান, গুচ্ছ গ্রামে প্রথমে ৬০টি পরিবারের মধ্যে ৬০টি পরিবারেই ছিল। কিন্তু বর্ষায় ১০টি ঘরে মাটি সরে যাওয়ার কারণে অনেকেই অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। আবার অনেকেই এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। বিষয়টি চেয়ারম্যান ও স্যারকে বলেছি কিন্তু কোন কাজের কাজ হচ্ছে না। কয়েক মাস আগে দেয়াল নির্মাণের জন্য কিছু ইট নিয়ে আসলেও কাজ করছে না।

আরো পড়ুন:
>তামাকজনিত মৃত্যু রোধে আইন শক্তিশালীকরণ জরুরি
>রংপুরের মানুষকে কেন মফিজ বলা হয়?

এ গ্রামে মূলত আমরা মানবেতর জীবন যাপন করছি। যদি প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ না করা হয় তাহলে আগামী বর্ষা এ গ্রামের কোন অস্থিত থাকবে না। দ্রুত প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ করার জন্য আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি। এদিকে ১০টি টিউবয়েলের মধ্যে ৩টি নষ্ট, একটি সৌর প্যানেলও নষ্ট রয়েছে। এ শীতে একটি কম্বল ছাড়া আমাদের ভাগ্যে আর কিছুই জুটেনি। ইউপি চেয়ারম্যান সামিউল হায়দার সফি জানান, বর্ষায় বিয়াশি গুচ্ছাগ্রামের ঘরের মাটি সরে যাওয়ার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে আবেদন করেছি।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শওকত জামিল বিয়াশি গুচ্ছ গ্রামের কয়েকটি বসত ঘরের ভিটার মাটি সরে গেছে বলে সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এসব ঘর মেরামতের জন্য তালিকা তৈরি করে কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে গুচ্ছ গ্রামে প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, অচিরেই কাজ শুরু করা হবে।

ইউএনও তানজিনা শাহরীন বলেন, গুচ্ছ গ্রামে পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। সেখানের অবস্থা দেখেছি। বিষয়টি নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সাথে কথা হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানুয়ারি ১১.২০২৩ at ১৫:২৭:০০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/এসএমডি/এমএইচ