বেড়ায় তীব্র শীতে স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত, হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর চাপ

পাবনার বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালে শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি, কাশি ,ডায়রিয়ায় আক্রন্ত হয়ে ভর্তি হচ্ছে অসংখ্য শিশু রোগী । বেড়ায় তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় স্বাভাবিক জনজীবন ব্যহত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৫ জানু) সকাল থেকে সূর্যের দেখা মেলেনি। পৌষের কনকনে শীতে কাবু হয়ে পড়েছে মানুষ। ঘন কুয়াশায় চারদিক আবৃত হয়ে আছে। ঘন কুয়াশার কারণে জেলার অধিকাংশ সড়কে যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে।প্রচন্ড শীতে বেশি কষ্ট পাচ্ছে বৃদ্ধ ও শিশুরা।

শীতে হাসপাতালগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিক বাড়ছে। ফসলের বীজতলা ঠিকমতো পরিচর্যা করা যাচ্ছে না। কুয়াশায় চারা ও পান বরজ নষ্ট হওয়ায় কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন।হাড় কাঁপানো শীতে রীতি মতো জবুথবু অবস্থা। গায়ে গরম কাপড় ও টুপি পরে মানুষ শীতের তীব্রতা থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করছেন। দরিদ্র মানুষ কাগজ-খড়কুটো পুড়িয়ে একটু উষ্ণতা পাওয়ার চেষ্টা করছেন।ঠান্ডাজনিত নানা রোগের প্রকোপ বেড়েছে। হঠাৎ করে শীত পড়ায় শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি, কাশি, বাত ব্যথায় আক্রান্ত রোগী বৃদ্ধি পেয়েছে।

আক্রান্তদের অধিকাংশ শিশু ও বৃদ্ধ। গত ৭ দিনে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা শীতাক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উপজেলা ৫০ শয্যা হাসপাতালে বাড়ছে।এ হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ১০ জন রোগীর চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর সঙ্গে রয়েছে ভর্তি রোগীর চাপ। হাসপাতালে ধারণক্ষমতার তিনগুণের বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। অতিরিক্ত রোগীর সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা।সরেজমিনে বৃহস্পতিবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, শয্যা সংকট থাকায় হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেক রোগী।

আরো পড়ুন:
>বিস্ফোরক মামলায় বদলগাছী বিএনপির নয় নেতা কারাগারে
>জামাই শব্দের প্রকৃত অর্থ কি?

গত এক সপ্তাহে প্রায় ৭০ জন শিশু ভর্তি হয়েছে এ হাসপাতালে। বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের সিনিয়র নার্সিং রিমা খাতুন বলেন, নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর চাপ এখন অনেক বেশি। এদের অধিকাংশ শিশু ও বৃদ্ধ। অস্বাভাবিক চাপের কারণে আমাদের হিমশিমে পড়তে হচ্ছে।বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের আবাসিক ডা. মাহমুদুল করিম রাজু বলেন, আমাদের ৫০ শয্যার অনুমোদন রয়েছে। এই অবস্থায় রোগীর চাপ থাকলেও আমরা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প.প কর্মকর্তা ফাতেমা তুয জান্নাত বলেন, ঠান্ডা জনিত রোগীর প্রকোপ হটাৎ বেড়েছে। ইনডোর ও আউটডোর দুই জায়গাতেই শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, বাতব্যাথাসহ নানা ধরনের রোগী আসছে। প্রতিদিন বহির্বিভাগে প্রায় এক থেকে দুইশত রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে।

জানুয়ারি ০৫.২০২৩ at ১৪:৩৬:০০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/এসএমডি/এসআর