যশোর চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রি‘র নির্বাচন শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে প্রচার-প্রচারণায়

ছবি: এএসএম হুমায়ুন কবীর কবু, ব্যবসায়ী অধিকার পরিষদ প্রধান : মো. মিজানুর রহমান মিজান, ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদ প্রধান।

দীর্ঘ আট বছর পর আগামী শনিবার (৭ জানুয়ারি) যশোর চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি‘র নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন সামনে রেখে শেষ মূহূর্তে জমে উঠেছে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা। আইনি জটিলতায় গত ৮ বছর ধরে যশোর চেম্বারে কোন নির্বাচন হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি চলেছে প্রশাসক দিয়ে। চেম্বারের এ নির্বাচনের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে সাধারন ব্যবসায়ী ভোটারদের মাঝে। দীর্ঘদিন পর ভোট হওয়ায় আবেগ উদ্বেলিত ব্যবসায়ীরাও। এবারের নির্বাচনে দুই প্যানেলে ১২ করে ২৪ জন সাধারণ সদস্য পদে ও ৬ জন করে ১২ জন সহযোগী সদস্য এবং সহযোগী সদস্য হিসেবে ১ জন প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সর্বশেষ ২০১১ সালের ১৬ এপ্রিল এ চেম্বারটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে জেলা বিএনপির তৎকালীন যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খানের নেতৃত্বাধীন প্যানেল বিজয়ী হয়। ২০১২ সালের ৩ মার্চ মিজানুর রহমান খানের নেতৃত্বাধীন কমিটি দায়িত্ব বুঝে পান। ২০১৪ সালের ২৩ এপ্রিল নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী ওই বছরের ১২ জুলাই ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই নির্বাচন আইনি জটিলতায় ভেস্তে যায়। ২০১৪ সালের ১ ডিসেম্বর চেম্বারে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়। সেই থেকে দীর্ঘ ৮ বছর প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব পালন করছে প্রশাসক। এবারে নির্বাচনে দুটি প্যানেলে ঘোষণা করা হয়েছে।

আরো পডুন:
> বাফুফে সভাপতির ১৪ বছরে কী পেল বাংলাদেশে ফুটবল
> সরিষা ফুলের হলুদ রঙে সেজেছে ফসলের মাঠ

প্যানেল দুটির একটি নের্তৃত্ব দিচ্ছেন যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক নির্বাহী সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এএসএম হুমায়ুন কবীর কবু। তার নেতৃত্বে গঠিত কবু-মিজান-মিঠু প্যানেলের ‘ব্যবসায়ী অধিকার পরিষদ’ এবং অন্যটির নেতৃত্বে রয়েছে যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি যশোর জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. মিজানুর রহমান খান। তার নেতৃত্বে মিজান-বাবু-সুজা-ঈদুল প্যানেলের ‘ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদ’। এই দুই প্যানেলে সাধারণ সদস্য হিসেবে লড়ছেন ১২ জন করে ২৪ জন এবং সহযোগী সদস্য হিসেবে রয়েছেন ৬ জন করে ১২ জন প্রার্থী। এছাড়া, সহযোগী সদস্য পদে স্বতন্ত্র হিসেবে ভোটে লড়ছেন সৈয়দ এনামুল করিম নামের একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ী অধিকার পরিষদ প্যানেলে রয়েছেন পরিষদ প্রধান সাবেক নির্বাহী সদস্য এএসএম হুমায়ুন কবীর কবু, সাবেক নির্বাহী সদস্য মো. মিজানুর রহমান মিজান, আলহাজ্ব আসাদুজামান মিঠু, মো. উজির হোসেন, মো. মাহবুব আলম লাবলু, মহাসিন আলী মিলন, মো. রবিউল ইসলাম রবি, মো. রাজু আক্তার, মো. জাকির হোসেন পলাশ, মো. আহসান কবির নিপু, মো. কামাল হোসেন পলাশ ও আহসান হাবিব চৌধুরী ওরফে শাহীন চৌধুরী।

এ প্যানেলের সহযোগীসদস্য পদে রয়েছেন মো. সাহিদুর রহমান টিটো, মো. মশিয়ার রহমান, মো. শাহিন রেজা, মো. জিল্লুর রহমান মানিক, শেখ সাইদুর রহমান পিনু ও মো. হাফিজুর রহমান শিলু। ভোটে এ প্যানেলের ব্যালট নং সাধারণ শ্রেণি‘র ১-১২ ও সহযোগী শ্রেণির ১-৬ নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের প্রধান সাবেক চেম্বার সভাপতি মো. মিজানুর রহমান খান, শেখ আতিকুর বাবু, সাবেক সহসভাপতি মো. সাজ্জাদুর রহমান সুজা, আব্দুল হামিদ চাকলাদার ঈদুল, এহসানুর রহমান লিটু, কাসেদুজ্জামান সেলিম, মো. সাকির আলী, মো. শাহিনুর হোসেন ঠান্ডু, মো. সায়েম সিদ্দিক, মো. মোকসেদ আলী মুনলাইট, তরুণ ব্যবসায়ী ও ক্রীড়ানুরাগী মো. এজাজ উদ্দিন টিপু ও মো. খায়রুল কবীর চঞ্চল।

এ প্যানেলের সহযোগী সদস্য হিসেবে প্রতিদ্ব›দ্বীতা করছেন সৈয়দ শাহজাহান আলী খোকন, সোহেল মাসুদ হাসান টিটো, মো. তৌহিদুর রহমান বাবু, মো. আজিজুর রহমান খান, মো. ইদ্রিস আলী ও রিজভি জাহাঙ্গীর কিবরিয়া। ভোটে এ প্যানেলের ব্যালট নং সাধারণ শ্রেণি‘র ১৩-২৪ ও সহযোগী শ্রেণির ৭-১২ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া সহযোগী পদে স্বতন্ত্র হিসেবে ভোটে লড়ছেন সৈয়দ এনামুল করিম। তার ব্যালট নং রয়েছে সহযোগী শ্রেণির ১৩। যশোর চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি‘র নির্বাচন নিয়ে সাধারন কয়েকজন ভোটার নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, ব্যবসায়ীরা সর্বদাই অবহেলিত। আমাদের অধিকার এখনও প্রতিষ্ঠা হয়নি। বিভিন্ন সময়ে নানা ভাবে ব্যবসায়ীরা স্থানীয় চাঁদাবাজীদের শিকার হয়, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকে কিন্তু সে সময় ব্যবসায়ী নেতারা আমাদের পাশে দাড়ান না, প্রতিবাদও করেন না।

আমাদের মুক্তভাবে ব্যবসা বাণিজ্য করতে সহযোগীতা করবে, ব্যবসায়ীরা কোন চাঁদা বাজীর শিকার না হয়, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ঝামেলা থেকে মুক্ত রাখবে এমন নেতৃত্ব চাই।  ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের প্রধান মো. মিজানুর রহমান খাঁন বলেন, দীর্ঘ আট বছর পর ভোট উৎসবে যোগ দিতে ভোটাররা প্রস্তুত বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। আমাদের প্যানেলের প্রার্থীরা দিনভর ব্যবসায়ীদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। সুষ্ট ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমাদের প্যানেল নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করবে বলে আশা করছি। ব্যবসায়ী অধিকার পরিষদের প্রধান এএসএম হুমায়ুন কবীর কবু বলেন, দীর্ঘদিন পরে যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচন ঘিরে ভোটারদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ, উৎসব মুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

আমরা সকল ভোটারের দ্বারে দ্বারে ভোট প্রার্থনা করছি। ব্যবসায়ীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমরা অনড় আছি, থাকবো। সকলের ভোট ও দোয়া প্রত্যাশা কামনা করে কবু আরও বলেন, আমাদেরকে ভোটারা যেভাবে গ্রহণ করছেন তাতে আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত ইনশাল্লাহ। প্রসঙ্গত, আইনি জটিলতায় দীর্ঘ ৮ বছর ধরে যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচন হয়নি। ২০১১ সালের ১৬ এপ্রিল চেম্বারটির সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

জানুয়ারি ০৩, ২০২৩ at ২২:০০:০০(GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/দেপ/ইমস