বিশ্ব ইতিহাস বদলে দিতে পারে ২০২২ সালের যে তিনটি ঘটনা

ছবি- সংগৃহীত।

ক্যালেন্ডারের পাতা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে আরও একটি বছর। ২০২২ সাল নানা কারণে ঘটনাবহুল। তবে ইতিহাসে সব ঘটনার আশ্রয় হয় না। আবার কিছু ঘটনা থাকে যেগুলো ইতিহাসের ভবিষ্যৎ গতিপথও বদলে দিতে পারে।
বিশ্ব ইতিহাস বদলে দিতে পারে ২০২২ সালের যে তিনটি ঘটনা

১. ইউক্রেন যুদ্ধ এবং এর ‘কারণ’
কোনো সন্দেহ নেই ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান ২০২২ সালের সবচেয়ে বড় ঘটনা। এ অভিযানের মাধ্যমে রাশিয়া অনেক আন্তর্জাতিক চুক্তির অবমাননা করেছে। বিপরীতে ইউক্রেনের পশ্চিমা মিত্ররাও বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের বদলে রাশিয়াকে সামরিকভাব পাল্টা জবাব দেয়ার পথ বেছে নিয়েছে।

আর এখানেই চলে আসে এ যুদ্ধের ‘কারণ’ বা ‘কারণসমূহের’ বিষয়টি। রাশিয়া যেমন দাবি করছে তার নিরাপত্তা হুমকির মুখে, তেমনি ইউক্রেনের দাবি: তারাও নিরাপত্তার কারণেই ন্যাটোর সদস্য হতে চায়। কিন্ত কার মূল্যায়ন সঠিক? আদর্শগতভাবে রাশিয়া এবং পশ্চিমা বিশ্বকে এক মনে হতে পারে আপাতদৃষ্টিতে; কিন্তু বাস্তবে আদৌ তা নয়। ভ্লাদিমির পুতিনের রাশিয়া অন্য এক রাশিয়া।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, পশ্চিমা বিশ্ব এবং রাশিয়া উভয়ের জন্যই এ যুদ্ধে জয়ী হওয়া জরুরি। এ যুদ্ধ জয়ের ওপর ইউরোপ তো বটেই, সারা বিশ্বেই পশ্চিমা মূল্যবোধ নাকি রুশ মতবাদ জয়ী হবে তার অনেকটাই নির্ভর করছে। অনেকটা যেন অ্যাডলফ হিটলারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জয়ের মতোই গুরুত্বপূর্ণ এ যুদ্ধ জয়।

আরো পড়ুন :
>প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মা আর নেই
>ঝিনাইদহে এক বিয়ের দুই কাবিন নিয়ে চাঞ্চল্য!

হিটলারের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পশ্চিম-রাশিয়া একই কাতারে ছিল; কিন্তু এখন তারা প্রতিদ্বন্দ্বী। শুরু থেকে পশ্চিমা বিশ্ব ইউক্রেনকে সমর্থন-সহায়তা দিয়ে এলেও তা কতোদিন চলবে, কী পরিমাণে এবং কীভাবে চলবে তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। এখানেই বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি, ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বৈশ্বিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে। তাই চলমান এ যুদ্ধ নতুন বছরেও যে বিশ্ব রাজনীতির খেলায় নিয়ামক ভূমিকা পালন করবে সেই বিষয়ে সন্দেহ নেই।

২. চীনের ‘সুপারম্যানেরা’

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং এবং তার দলীয় টেকনোক্র্যাট নেতারা চীনকে একটি উন্নত ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। দেশটি উন্নতি করলেও পশ্চিমাদের কাছে চীনের শাসন ব্যবস্থ কখনোই অনুকূলে ছিল না। তাদের দাবি, চীন সরকার দেশটির সাধারণ মানুষের অধিকার আমলে নেয় না।

যাই হোক ১৯৮০’র দশকে জাপানি আমলারা এক সুদৃঢ় আমলাতন্ত্রের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন। কিন্তু মৌলিক শাসনতান্ত্রিক সংকট থাকায় ১৯৯০’র দশকে দেশটির স্টক মার্কেট, আবাসন খাত এবং ব্যাংকিং সেক্টর ধসে পড়ার মাধ্যমে তা স্থবির হয়ে যায়। ২০২২ সালের পর চীনের অবস্থাও জাপানের মতোই অনেকটা। তবে জপানের সেই সময়কার পরিস্থিতিতে পৌঁছতে হলে চীনের অবস্থা আরও খারাপ হতে হবে। শূন্য কোভিড নীতির কারণে দেশটি এরই মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে পিছিয়ে পড়েছে। মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে। চীনও জাপানের মতো ‍বুড়োদের দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে অর্থাৎ দেশটিতে বয়স্ক মানুষ বাড়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু তাতেই কী সব শেষ হয়ে যাবে?

আরো পড়ুন :
>প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মা আর নেই
>ঝিনাইদহে এক বিয়ের দুই কাবিন নিয়ে চাঞ্চল্য!

এ প্রশ্নের উত্তর এখনো দেয়ার সময় আসেনি। তেমনিভাবে, চীন কবে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে শীর্ষ অর্থনীতির দেশ হবে তাও নিশ্চিত করে বলার সময় আসেনি। তবে ২০২২ সালে চীনে বিদ্যমান শাসক গোষ্ঠী দেশটির সরকার এবং অর্থনৈতিক মডেলের বিকল্প হাজির করার সুযোগগুলো বন্ধ করে ফেলেছে, যা দেশটিকে দীর্ঘমেয়াদে ভোগাবে। এর বাইরেও যেসব বিষয় চীনকে পিছিয়ে দিতে পারে সেগুলো মোকাবিলায় চীনের টেকনোক্র্যাট সুপারম্যানরা কতটা সফল হবেন তা দেখা যাবে ২০২৩ সাল জুড়ে এবং এরই ওপর নির্ভর করছে চীনের ভবিষ্যৎ গতিপথ।

৩. তাইওয়ান সংকট এবং তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ

২০২২ সালের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাইওয়ানকে ঘিরে চীনের সামরিক মহড়া। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত যুদ্ধেও গড়াতে পারে। ডেকে আনতে পারে আরেকটি বিশ্বযুদ্ধ। তাই আগামী কয়েক দশকের জন্য সবচেয়ে মৌলিক কৌশলগত কাজটি হতে চলেছে চীনকে সামরিক পদক্ষেপ নেয়া থেকে প্রতিরোধ করা।

সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনে রাশিয়া যা করেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে তাইওয়ানে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেয়া থেকে চীনকে কীভাবে নিবৃত্ত করা যায় তা পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সরকারগুলোর মূল সমস্যা হয়ে ওঠেছে। পাশাপাশি এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে তা কীভাবে প্রতিরোধ করা যায় তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রও তাইওয়ানে এমন কিছু করা থেকে বিরত রয়েছে, যা দ্বীপ দেশটিতে চীনা আগ্রাসনের অনুঘটক বা অজুহাত হিসেবে কাজ করতে পারে।

যাই হোক চীনকে রুখতে হলে এ অঞ্চলে একটি কার্যকর ডিটারেন্স (বাধা) প্রয়োজন। কিন্ত সমস্য হালো পূর্ব বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কোনো দেশই চিরস্থায়ীভাবে চীন বা মার্কিন কোনো ব্লকের অন্তর্ভুক্ত হতে চায় না। ফলে, চীনের বিরুদ্ধে ডিটারেন্স গড়ে তোলাও সহজ না। তবে এখন চীন এবং তার বিপরীতের দেশগুলো উভয়ই নিজেদের খরচ বাঁচানোর চেষ্টায় রয়েছে, যা আপতভাবে ডিটারেন্স হিসেবে কাজ করছে।

আরো পড়ুন :
>প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মা আর নেই
>ঝিনাইদহে এক বিয়ের দুই কাবিন নিয়ে চাঞ্চল্য!

তাইওয়ান বর্তমানে এমনই এক উত্তপ্ত জায়গা যে, তা যেকোনো মুহূর্তে পারমাণবিক ধ্বংসলীলা ডেকে আনতে পারে। ২০২২ সালের ঘটনাবলী বিশ্লেষণ করে বিশ্লেষকরা তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে একটি পরিপূর্ণ বা ফুল স্কেল যুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার বিষয়টিকে ‘বাস্তব ও বর্তমান ঝুঁকি’ বলে চিহ্নিত করেছেন। আর এ ঝুঁকি না এড়ানো গেলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধও এড়ানো যাবে না।

এ তিনটি বিষয়ের বাইরেও ২০২২ সালে দুনিয়ায় আরও অনেক ঘটনা ঘটেছে। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার হ্রাস, কপ-২৭, কপ-১৫ জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত কারণে ব্যাপক প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আর্থিক সংকটসহ নানা সমস্যা। তবে এগুলোর মধ্যে ওপরুল্লিখিত তিনটি বিষয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ, যা ২০২৩ সাল জুড়ে নতুন নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে।

সূত্র- সময় নিউজ

ডিসেম্বর ৩০.২০২২ at ১০:১৬:০০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/এসএমডি/এসআর