সাইফুল্লাহ হত্যা মামলার প্রধান আসামী কুবির মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সম্পাদক

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মার্কেটিং বিভাগের ৬ষষ্ঠ ব্যাচের বিপ্লব চন্দ্র দাসকে। তিনি কুবির মার্কেটিং বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী খালিদ সাইফুল্লাহ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি।

মঙ্গলবার (২৮ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আল আমিন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মো. মীর শাহাদাত হোসেনকে অব্যাহতি দিয়ে বিপ্লব চন্দ্র দাসকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়।

তবে অব্যাহতির বিষয়ে মীর শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘ঠিক কি কারণে আমাকে অব্যবহিত দেয়া হয়েছে তা আমি জানিনা, এ ব্যাপারে কেন্দ্র থেকে আমাকে কিছুই জানানো হয় নি।’ অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সফল হওয়া যায় নি।

এর আগে গত ২০১৬ সালের আগস্টের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে মোমবাতি প্রজ্বালনের পর আধিপত্য বিস্তার ও হল দখলকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান কুবি শিক্ষার্থী খালিদ সাইফুল্লাহ।

হত্যাকাণ্ডের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি রোধে সিন্ডিকেটের ৬২তম জরুরি সভা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক এবং পরীক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে। তদন্ত কমিটি ঘটনার ২ মাস ২৬ দিন পর ২৬ অক্টোবর প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, টেন্ডারবাজি ও ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অনেক দিন ধরে চলে আসা দ্বন্দ্বের কারণে এ সংঘর্ষ হয়েছে।

আরো পড়ুন :
>ক্ষেতলালে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ
>ঘোড়াঘাটে ৩ ব্যবসায়ীকে জরিমানা
>হাতীবান্ধায় সীমান্তে বিএসএফ এর গুলিতে দুই জন বাংলাদেশী নিহত। 

এ হত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০১৬ সালের ১ আগস্ট ১০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি হত্যা মামলা করে। কুমিল্লা পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) শাখা তদন্ত শেষে মামলাটির চার্জশিটও জমা দিয়েছিল। মামলার আসামি ও মার্কেটিং চতুর্থ ব্যাচের শিক্ষার্থী বিপ্লব চন্দ্র দাসকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে ডিবি হত্যাকাণ্ডের ৫ দিন পর ৬ আগস্ট।

তখন বিপ্লব হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় বিপ্লব চন্দ্র। যদিও বিপ্লব চন্দ্র এখন জামিনে মুক্ত। খালিদ সাইফুল্লাহ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক ছিলেন মিন্টু দত্ত। তিনি জানান, মামলার বাদীর নারাজির পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে আসে। একজনের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নথিভুক্ত আছে এ মামলায়।

ডিসেম্বর ২৯.২০২২ at ১৫:১৭:০০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/এসএমডি/এসআর