সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের নির্বাচন, শেষ মূহুর্তে প্রচার-প্রচারণায় জমে উঠেছে

আর মাত্র ৩ দিন পর দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলের শীর্ষ ব্যবসায়ীক সংগঠন সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন আগামী ৩০ মে অনুষ্ঠিত হবে।

আর এ নির্বাচনকে ঘিরে দীর্ঘ ৮ বছর পর বেনাপোলে সাজ সাজ রব পড়ে গেছে। অসংখ্য তোরণ আর নানা রঙ্গীন পোস্টারে ছেয়ে গেছে গোটা কাস্টমস সহ বন্দর এলাকা। ভোটারদের জন্য বুকিং করা হয়েছে বিমান, শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত বাস ও হোটেলগুলো। লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে এ নির্বাচনে জয়লাভ করে সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করছে গোটা যশোরবাসী। সর্বত্র আলোচনা এ নির্বাচনকে ঘিরে। এই নির্বাচন সাধারণ ভোটারদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই প্যানেলের প্রার্থীরা নিজেদের বিজয় নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন।

বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের ৭২৪ জন সদস্য ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এসোসিয়েশন ভবনে ভোট গ্রহণ করা হবে। ঢাকা, চট্রগ্রাম, খুলনা, মোংলা, সাতক্ষীরাসহ সারা দেশেই ছড়িয়ে রয়েছে এই ভোটার। দুটি প্যানেলের ‘সমমনা সম্মিলিত সমন্বয় পরিষদের’ ব্যানারে ‘আনারস’ প্রতীকে লড়ছেন শামছুর রহমান-মধু-লতা পরিষদ, অন্য দিকে ‘ঐক্য পরিষদের’ ব্যানারে ‘ছাতা’ প্রতীকে লড়ছেন সজন-ভারত- ফজলু পরিষদ।

নির্বাচন কমিশনার কাজী শাহজাহান সবুজ বলেন, বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের এই নির্বাচনে দু‘টি প্যানেলে ১৯ জন করে মোট ৩৮ জন প্রার্থী ভোট যুদ্ধে নেমেছেন। মোট ৭২৪ জন ভোটারের মধ্যে তিনশ’ ভোটার স্থানীয়। অন্য ভোটাররা দেশের বিভিন্ন এলাকার। আগামী ৩০ মে সোমবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন।

প্রতিটি প্যানেলের পক্ষে ভোটারদের নিয়ে বেনাপোল, যশোর, খুলনা, ঢাকা ও চট্রগ্রামে ক্যাম্পেইন করা হয়েছে। ব্যবসায়ী এ সংগঠনের নির্বাচনে সরাসরি রাজনৈতিক দলের দলীয় কোন প্যানেল নেই। তবে জেলা উপজেলা আওয়ামীলীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতারা উভয় প্যানেলের পক্ষে-বিপক্ষে কাজ করছেন।

বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতার নেতৃৃত্বে ‘শামছুর রহমান-মধু-লতা’ সমমনা সম্মিলিত সমন্বয় পরিষদের প্রার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটির পরিচালনা পরিষদে দক্ষতার সাথে কাজ করে আসছেন। অন্যদিকে বর্তমান সংগঠনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজনের নেতৃত্বে ‘সজন-ভারত-ফজলু’ ঐক্য পরিষদে এক ঝাঁক তরুণ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

তবে, ‘শামছুর রহমান-মধু-লতা’ সমমনা সম্মিলিত সমন্বয় পরিষদের অনেকে পুরাতন কমিটিতে থাকায়, পরিচিতির দিক দিয়ে ভোটারদের কাছে তারা রয়েছেন শক্ত অবস্থানে। অপরদিকে, ‘সজন-ভারত-ফজলু’ ঐক্য পরিষদে পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে নতুনদেরকে বিজয়ী করার আহবান জানান হচ্ছে।

উভয় পক্ষের প্রার্থীরাই এ নির্বাচনে ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। প্যানেলের পক্ষ থেকে ভোটারদের যাওয়া আসা থাকা খাওয়ার সব ব্যবস্থা করতে হয়। নিজ নিজ প্যানেলের প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান সদস্যদের সামনে তুলে ধরতে সমর্থকদের নিয়ে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে গনসংযোগ মতবিনিময় সভা ও প্রার্থিদের পরিচয় পর্ব শেষ করে ছুটছে এলাকার ভোটারদের কাছে। যাচ্ছে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে।

জয়ের ব্যাপারে দুই প্যানেলই আশাবাদী। তবে ভোটাররা মনে করে পুরোপুরি কোন প্যানেলের জয়লাভের সম্ভাবনা কম। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তি কেন্দ্রীক যাদের দ্বারা কাজকর্মে সহযোগিতা পেয়ে থাকেন তাদেরই জয়ের সম্ভাবনা বেশি।

আনারস প্রতীক নিয়ে ‘শামছুর রহমান-মধু- লতা ‘সমমনা সম্মিলিত-সমন্বয় পরিষদের’ সভাপতি পদপ্রার্থী আলহাজ্ব শামছুর রহমান বলেন, আমি একজন ব্যবসায়ী মানুষ। আমি ব্যবসায়ীদের নানা অসুবিধার বিষয়টি বুঝি। তাই সাধারণ সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীদের নানা অসুবিধার বিষয়গুলো মাথায় রেখে আমি আবারও নির্বাচনে নেমেছি। বিশেষ করে বন্দরের অব্যবস্থাপনা এবং বন্দরের নানা অসঙ্গতির কারণে অধিকাংশ আমদানিকারকরা এ বন্দর ব্যবহারে আগ্রহ হারাচ্ছে।

আমরা জয়ী হলে কাস্টমস ও বন্দরের সাথে বসে আমদানিকারক ও সিএন্ডএফ এজেন্টের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান কল্পে কাজ করবো। এক কথায় বন্দরকে ব্যবসায়ীক বান্ধব করে গড়ে তুলবো। এ নির্বাচনে আমিসহ আমার পূর্ণ প্যানেল জয়লাভ করবে। আমাদের বিপরীত প্যানেলে যারা দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করেছেন তারা প্রত্যাশা অনুযায়ী সাধারণ ব্যবসায়ীদের সেবা দিতে না পারায় অধিকাংশ ব্যবসায়ী তাদের উপর সন্তুষ্ট নয়।

অপরদিকে ছাতা প্রতীক নিয়ে ‘সজন-ভারত-ফজলু ঐক্য পরিষদের’ সভাপতি পদ প্রার্থী আলহাজ্ব মফিজুর রহমান সজন বলেন, নির্বাচন নিয়ে খুবই ব্যস্ত আছি। যেহেতু মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেকের বেশি বেনাপোলের বাইরে। আমি দীর্ঘদিন ধরে এসোসিয়েশনের সভাপতি ছিলাম। তাদের সুখে দুখে তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছি। আশা করছি এবারের নির্বাচনেও ভোটাররা আমাকে ও আমার প্যানেলের অন্যান্য প্রার্থীদের ভোট দিয়ে জয়ী করবেন বলে আমি আশাবাদী।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট রবিউল আলম বলেন, ইতোমধ্যে ভোট গ্রহণের সকল প্রস্তুুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ভোট গ্রহণ করা হবে সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত। এরপরই ভোট গণনা শেষে ফলাফল প্রকাশ করা হবে। প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আশা করছি সব ঠিক থাকলে আগামী ৩০ মে এর নির্বাচন সঠিকভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

মে ২৬,২০২২ at ২২:৫৮:০০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/এসএমস্ব/রারি