সংক্রমণ বাড়লেও মাস্ক পরায় অনীহা, বালাই নেই স্বাস্থ্যবিধির

শুক্রবার বিকাল ৩টা। শীতের কারণে মানুষের চলাচল ছিল অন্যান্য দিনের চেয়ে কম। যারা বের হয়েছেন, তাদের বড় একটি অংশের মুখেই ছিল না মাস্ক। অনেকের মাস্ক ছিল থুঁতনিতে। হাটবাজারের চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে সিগারেট ফুঁকছিলেন কেউ কেউ। অর্থাৎ স্বাস্থ্যবিধির বালাই ছিল না বললেই চলে। বাজারের পাশে সড়কটি দিয়ে যেসব গাড়ি চলছিল অধিকাংশের মুখেই মাস্ক নেই। করোনা সংক্রমণ বাড়লেও, মাস্ক ব্যবহারে ব্যাপক অনীহা। মাস্ক না পরেই ভিড় করছেন কেনাকাটায়।

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় হাটবাজরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে অনীহা দেখা দিয়েছে। ক্রেতা ও বিক্রেতার মুখে নেই মাস্ক। সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়লেও আর আগের মতো ভয় নেই বলে দাবি তাঁদের। আবার দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পর স্বাস্থ্যবিধি মানতে অনেকেরই অনীহা বেড়েছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়িয়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে সচেতনতা।

সরেজমিনে উপজেলার মুন্সির বাজার, বাংলাবাজার গিয়ে দেখা গেছে, বাজারে আসা শত শত ক্রেতা-বিক্রেতার মুখে নেই কোনো মাস্ক। ভিড়ের মধ্যে গাদাগাদি করে চলছে কেনাবেচা।

ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, নতুন করে করোনার সংক্রমণ পেলেও আগের মতো ভীতি আর কাজ করছে না। সারাক্ষণ মাস্ক পরে থাকা অস্বস্তিকর থাকায় ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছেন। এ ছাড়া টিকা নেওয়ার কারণে ‘করোনা হলেও তেমন সমস্যা হবে না’ বিশ্বাস জন্মেছে তাঁদের মধ্যে। এতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছেন না বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতা।

আরো পড়ুন:
গৃহবধুর লাশ উদ্ধার, পিতার দাবি মেয়েকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে
ভোলায় এক কলেজ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

উপজেলার মুন্সি বাজার করতে এক ক্রেতা মো. রোমান জমাদ্দার বলেন, গ্রামের হাটবাজারে ভিড় থাকবেই। অনেকে একসঙ্গে কেনাকাটা করতে আসেন। তবুও মানুষের মাস্ক পড়া ও সামাজিক দূরত্ব মানার প্রবণতা কমেছে। তাছাড়া করোনা কমে যাওয়ার পর স্বাস্থ্যবিধি অনেকে মেনে চলছেন না। আসলে আগের মতো বর্তমানে করোনা নিয়ে মানুষের মধ্যে ভয় নেই।

হাসান নামের আরেক ব্যক্তি বলেন, দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পর থেকে এক ধরনের উদাসীনতা তৈরি হয়েছে। তাই মাস্ক পরাও হয় না। আবার যেহেতু করোনা বাড়ছে, এখন থেকে নিয়মিত মাস্ক পরতে হবে।

সবজি বিক্রেতা মো. মাসুদ বলেন, ‘গত বছর নিয়মিত মাস্ক পরতাম। করোনা তো কমে গেছিল। টিকা নিছি। এ জন্য মাস্ক পরা বাদ দিছিলাম। বেচাকেনার সময় মাস্ক পইরা কথা বলতে সমস্যা হয়। তাই পরি নাই।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ ফের বাড়তে থাকায় উপজেলার সর্বত্র স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে মাইকিং করা হয়েছে। রাত ৮টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।’

জানুয়ারি ২৮.২০২২ at ২০:৩৩:০০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/রহ/জআ