যশোরে বেনাপোল পাটবাড়ি আশ্রমে ‘সিদ্ধবৃক্ষ‘ মাধবীলতা

বেনাপোলে নামাচার্য ব্রক্ষ হরিদাস ঠাকুর পাঠবাড়ি আশ্রমে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রাচীন এক তমাল, আর আছে শতর্বষী মধুমঞ্জুরি, সে গাছে ফুল ফোটে আজও। যশোর জেলা শহর থেকে প্রায় ৩৮ কিলোমিটার দুরে পশ্চিমে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় স্হলবন্দরের শহর বেনাপোল। সেখানে ভারত সীমান্ত থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দুরে বৈষব সন্ন্যাসী হরিদাস ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত এই আশ্রম।

আশ্রমের প্রবেশ মুখেই সেই তমাল আর মধুমঞ্জুরি ভক্তদের প্রধান আকর্ষণ। তারা ইদের বলেন সিদ্ধবৃক্ষ। গাছের পাশে লাগানো ফলকে অবশ্য মধুমঞ্জুরিকে বলা হয়েছে মাধবীলতা। বাংলাদেশের অনেকের মধ্যেই এই সাধারন ভুল ধারনাটি রয়েছে। আদতে মাধবীলতা আর মধুমঞ্জুরি আলাদা গাছ।

এই মধুমঞ্জুরি আর তমালকে কে সিদ্ধবৃক্ষ আশ্রম সংশিষ্টদের বিশ্বাস, এ দুটি গাছের বয়স ৫০০ বছরের বেশি, যদিও তা কখনও বিজ্ঞান সম্মতভাবে পরীক্ষা করা হয়নি। গাছের বিষয়ে জানতে চাইলে আশ্রমের সভাপতি তাপস কুমার বিশ্বাস শোনালেন আশ্রম প্রতিষ্ঠার ইতিহাস।

আজ থেকে ৫৬৪ বছর আগে এখানে জঙ্গল ছাড়া আর কিছু ছিল না,বন্যপ্রাণীর বিচরনক্ষেত্র ছিল এ জায়গা। পরে সেই জঙ্গল পরিনত হলো এক মহাতীর্থে। সময়ের ব্যবধানে সবকিছুই এখানে বদলে গেছে।

পুরোনোর মধ্যে রয়ে গেছে কেবল মাধবীলতা আর তমাল বৃক্ষটি। তাপস বলেন, মাধবীলতার এতদিন বাঁচার কথা না। হয়তো লতায়,পাতায় আর ফুলে ফুলে হরিদাস ঠাকুরের স্মৃতি বহন করে দাঁড়িয়ে আছে আজও।

ভক্তরা সেজন্যই বলেন, সিদ্ধবৃক্ষ মাধবীলতা। আশ্রমের সভাপতির দাবি,এ গাছের বয়স অন্তত ৫৪৮ বছর। আশ্রমে থাকা প্রাচীন নথিপএেও এ গাছের কথা আছে। মধ্য বসন্ত থেকে গ্রীস্ম পর্যন্ত লালচে সাধা ফুলে ভরে থাকে এ গাছ। মধুমঞ্জুরীর গোড়া ও শেকড় থেকে নতুন লতা গজায়। লতা কেটে মাটিতে পুঁতলেও চারা গাছ হয়। হতে পারে সেটাই এ গাছের দীর্ঘ জীবনের রহস্য। অবশ্য আশ্রম সংশ্লিষ্টদের দাবি ভিন্ন।

তাপস বলেন, হরিদাস ঠাকুর বেনাপোলে এসেছিলেন ১৪৭১ সালে। তিনি আসার আগেও এ গাছ এখানে ছিল, তখন এটি ছিল ছোট লতা গাছ। দীর্ঘ সময়ে এর কান্ড এখন বৃক্ষকান্ডের মত হয়ে গেছে। তমাল গাছটির সাথেই একটি বাধাই করা ফলকে এর পরিচিতি দেওয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন :
কুমিল্লা থেকে গাঁজা বিক্রি করতে এসে রাজশাহীতে গ্রেফতার, প্রাইভেটকার জব্দ
তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি কমে উত্তর-পশ্চিমে বইতে পারে শৈত্যপ্রবাহ

সেখানে আছে এই গাছ নিয়ে কিংবদন্তি আর লোক বিশ্বাসের কথা। তাপস বলেন,মহাপ্রভু গৌরাঙ্গ তার পরিষদ বর্গ নিয়ে ১৫১৫ থ্রীষ্টাব্দে এ আশ্রমে আসেন। কথিত আছে,যাওয়ার সময় তিনি হাতের লাঠিটি আশ্রমের জন্য রেখে যান স্মৃতি হিসাবে।

সেই লাঠি থেকেই এ তমাল গাছের জন্ম। অদ্বৈত মহাপ্রভুর স্মৃতিচিহ্ন হিসাবে ভক্তদের কাছে এ তমাল গাছটিও পূজনীয়। শার্শা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা সৌতম কুমার শীল জানালেন, তিনি পাট বাড়ি আশ্রমে গেছেন, গাছ গুলো দেখেছেন। এ গুলো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের স্মৃতিময় গাছ।

বয়সের কথাটি পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়া বলা আমার জন্য উচিত হবে না। এ আশ্রমের সাধারণ সম্পাদক ফনীভুষন পালের মুখ থেকে শোনা গেল, পাট বাড়ি আশ্রমের আদি ইতিহাস। হরিদাস ঠাকুরের জন্ম ১৪৪৯ সালে। তার শৈশব কাটে কেড়াগাছি গ্রামে। কৈশোরে উত্তীর্ণ হওয়ার পর তার মধ্যে ভাবের উদয় হয়।

হরিনাম জবতে জবতে লোকালয় ছেড়ে হরিদাস চলে যান বেনাপোলের এক নির্জন জঙ্গলে। কথিত আছে, ওই জঙ্গলে বসে প্রতিদিন তিনি লক্ষবার হরিনাম জবতেন হরিদাস। কৃপালাভের আশায় হরিদাস ঠাকুরের পরম বৈষবী হয়েঢ যান বাইজি লক্ষী হীরা। অসংখ্য ভক্তের হ্নদয় জয় করে উপমহাদেশের বৈষবকুল শিরোমনি হরিদাস ঠাকুর দেহত্যাগ করেন।

তার স্মৃতি বিজড়িত এলাকায় ভক্তরা পরে পাটবাড়ি আশ্রম গড়ে তোলেন বলে জানান ফনীভ’ষণ। আশ্রমের প্রচার সম্পাদক আনন্দ দেবনাথ বলেন, এখানে একটি জাদুঘর এবং মাটির নিচে রয়েছে গিরিগোর্বধন মন্দির। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল, এমনকি ভারত থেকেও দর্শনার্থীরা মন্দিরটি দেখতে আসেন।

জানুয়ারি ২৭.২০২১ at ১৮:৩৭:০০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/শজ/রারি