আত্রাইয়ে ফসলি জমিতে পুকুর খননের মহোৎসব

শস্য ভান্ডার খ্যাত ন‌ওগাঁর আত্রাই উপজেলায় উর্বর ফসলী জমি দিন দিন কমছে শুরু করেছে। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ভেকু মেশিন দিয়ে ৩ ফসলী জমি কেটে তৈরি করা হয়েছে বড়-বড় পুকুর। উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নে প্রায় প্রতিদিন ২৫-৩০ টি ভেকু মেশিন পুকুর খননের কাজ ব্যবহৃত হচ্ছে। এ যেন পুকুর খননের মহোৎসব।

এ সকল ফসলি জমি খনন করে ইটভাটায় মাটি বিক্রি করছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার পর পরিবহনের জন্য উপজেলার কাঁচা ও পাকা সড়ক ব্যবহার করা হচ্ছে। মাটি বোঝাই ট্রাক্টর চলাচল করার কারণে উপজেলার বিভিন্ন রাস্তায় মাটি পড়ে অন্যান্য যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। অসাধু ব্যাক্তিদের জন্য সড়কগুলো নষ্ট হওয়ায় ভোগান্তি পোহাচ্ছে জনসাধারণ।

ফসলি জমি খনন করলেও স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় খননকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। একের পর এক ফসলী জমিতে পুকুর খননের কারণে ফসলি জমির পানি নামতে না পারায় দেখা দিচ্ছে জলাবদ্ধতা। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন এসব আইনের কোনো প্রয়োগ করছে না অভিযোগ জনসাধারণের।

মনিয়ারি ইউনিয়নের ভুক্তভোগী কৃষক সঞ্জিত কুমার জানান, মাঠের মধ্যে একটা বড় পুকুর খনন করলে আশপাশের জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে ওইসব জমিতে আর ফসল হচ্ছে না। যারা জমি কেটে পুকুর করছেন তারা অনেক প্রভাবশালী।

শিমুলিয়া গ্ৰামের মো. আব্দুল কাদের বলেন, ফসলি জমির উপরে যেভাবে পুকুর খনন শুরু হয়েছে কেউ বলে বাড়ি তৈরি করব, কেউ বা বলে আবাদ হয় না। এরকম বিভিন্ন কথা বলে একের পর এক ফসলের জমিতে পুকুর খনন করে যাচ্ছে।

আরো পড়ুন :
সন্তানকে কি রোজ মুরগির মাংস খাওয়াচ্ছেন ?
সিগারেটের দাম ৩০ শতাংশ বাড়লে, ধূমপান ছাড়বে

সাধারণ মানুষেরা অভিযোগ করে বলেন, উপজেলার প্রায় সকল মাঠে আবাদি জমিতে পুকুর খনন চলছে। এভাবে যদি আবাদি জমিতে পুকুর খনন চলে তাহলে যেটুকু ফসলি জমি অবশিষ্ট আছে তাও ভবিষ্যতে থাকবেনা। আবাদি জমি কম বলে গো-খাদ্য সংকটের কারণে অনেক গরু, মহিষ ও ছাগল প্রতিপালন ছেড়ে দিচ্ছেন। এই বিষয়ে খুব দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

নাম প্রকাশ না শর্তে অভিযোগ করে অনেক বলেন, উপজেলার বিভিন্ন নেতা কর্মী, চেয়ারম্যান, মেম্বার হওয়ার কারণে তারা তাদের প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে চালিয়ে যাচ্ছে পুকুর খননের কাজ। তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়না আইনি কোনো পদক্ষেপ। যার কারণে তারা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম কাওছার হোসেন বলেন, উপজেলায় প্রতি বছর কি পরিমান ফসলি জমি হারিয়ে যাচ্ছে এ বিষয়ে আমাদের কোন জরিপ করা নেই।

উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মো. ইকতেখারুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, এ বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো আইন নেই। তবে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসলে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জানুয়ারি ২৭.২০২১ at ১৫:১২:০০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/মোকার/রারি