দৌলতপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে দুদকের অভিযান, অফিস সহকারী আটক

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে অভিযানকালে দুদকের তৎপরতা।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা ধরে অভিযান চালিয়েছে দুদক। বুধবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেল থেকে এই অভিযান শুরু হয়। চলে রাত ১০টা পর্যন্ত। অভিযানকালে দুদকের কর্মকর্তারা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের প্রধান গেট বন্ধ করে দেন। তারা অফিসের ভেতরে সাব-রেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার সিংহসহ সেখানকার কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় অবৈধভাবে আদায় করা ৩ লক্ষাধিক টাকা উদ্ধার করে দুদক। এ ঘটনায় আটক করা হয় প্রধান অফিস সহকারী জান্নাতুল আক্তার মুন্নিকে। দুদকের এই অভিযানের ঘটনায় উপজেলা পরিষদের অফিস পাড়ায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদকের কুষ্টিয়া কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নীল কমল পালের নেতৃত্বে বুধবার বিকেল ৫টায় দৌলতপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে অভিযান চালানো হয়। এর আগে দিনভর দুদক টিমের সদস্যরা সাদা পোশাকে অফিসটির সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। অফিস টাইম শেষ হওয়ার পর ঠিক বিকেল ৫টা থেকে অভিযান শুরু হয়। রাত ১০টা পর্যন্ত চলা টানা ৫ ঘণ্টাব্যাপী দুদকের এই অভিযানের সময় সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের প্রধান গেট বন্ধ করে দেয়া হয়। ভেতরে সাব-রেজিস্ট্রার সুব্রত কুমান সিংহ এবং প্রধান অফিস সহকারী জান্নাতুল আক্তার মুন্নিসহ অফিসটির অন্য কর্মচারীদের দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদক কর্মকর্তারা। পরে প্রধান অফিস সহকারী জান্নাতুল আক্তার মুন্নিকে আটক করে দুদক।

দুদক কর্মকর্তাদের প্রশ্নের মুখে প্রধান অফিস সহকারী জান্নাতুল আক্তার মুন্নিসহ অন্যরা।

দুদক সূত্র জানায়, দৌলতপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে জমির দলিলের নকল প্রদানে ঘুষ দাবিসহ জমি রেজিস্ট্রিতে সরকারি খরচের বাইরে বাড়তি টাকা আদায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদকের এই আকস্মিক অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানকালে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের প্রধান অফিস সহকারী জান্নাতুল আক্তার মুন্নির (৪৯) টেবিলের ড্রয়ার থেকে ৩ লাখ ১ হাজার ২০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ সময় এই টাকার উৎস সম্পর্কে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা বা রেকর্ডপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন মুন্নি। একদিনেই ৩ লাখ টাকা বাড়তি আদায় করা হয়। সেই হিসেবে প্রতি মাসে চলা ৮ দিনের (সপ্তাহে দুইদিন) জমি রেজিস্ট্রিতে গড়ে অন্তত ২৫ লাখ টাকা বাড়তি আদায় হয়ে আসছে।

সূত্রটি আরো জানায়, বুধবার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে মোট ২৮৩টি দলিল রেজিস্ট্রির জন্য জমা পড়ে। তবে বর্তমানে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে নগদে কোনো ধরনের অার্থিক (ফি/টাকা) লেনদেনের বিধান নেই। দলিল রেজিস্ট্রির ফি পে-অর্ডারের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়ে থাকে। এ কারণে প্রাথমিকভাবে উদ্ধারকৃত অব্যাখ্যায়িত টাকা ঘুষের টাকা বলেই দুদক টিমের কাছে প্রতীয়মান হয়। এদিকে দুদকের এই রুদ্ধদ্বার অভিযানের ঘটনায় উপজেলা পরিষদের অফিস পাড়ায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝেও অন্য রকম কৌতূহল দেখা দেয়। অভিযানের সময় বহু মানুষ অফিসটির সামনে ভিড় করেন। ভুক্তভোগীরা দুদককে সাধুবাদ জানান।

সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের প্রধান অফিস সহকারী জান্নাতুল আক্তার মুন্নিকে আটকের পর থানায় নেয়া হচ্ছে।

সূত্র মতে, দৌলতপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে সাব-রেজিস্ট্রারের পদ শূন্য রয়েছে। এখানে সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে সপ্তাহে দুইদিন অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন সুব্রত কুমার সিংহ। তার মূল পোস্টিং কুষ্টিয়া সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে। এর আগে এই সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা যায়। সাব-রেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার সিংহকে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদক কর্মকর্তারা। এ সময় জমি রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে সরকারি খরচের দ্বিগুণ বাড়তি টাকা আদায়ের ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে এই সাব-রেজিস্ট্রার দাবি করেন। পরে অফিসটির পালের গোদা হিসেবে পরিচিত প্রধান অফিস সহকারী জান্নাতুল আক্তার মুন্নিকে আটক করে রাতেই দৌলতপুর থানায় সোপর্দ করা হয়। রাত সাড়ে ১২টায় এ খবর লেখার সময় এ ব্যাপারে মামলার প্রক্রিয়া চলছিল।

দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, কুষ্টিয়ার উপপরিচালক মো. জাকারিয়া রাতে মোবাইল ফোনে জানান, সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের অফিস সহকারী জান্নাতুল আক্তার মুন্নিকে প্রধান অাসামি করে দৌলতপুর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। অফিসটির অন্যদের এবং সংশ্লিষ্ট দলিল লেখকসহ কারো বিরুদ্ধে এই দুর্নীতিতে সংপৃক্ততার প্রমাণ মিললে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে দুদকের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান উপপরিচালক মো. জাকারিয়া।

জানুয়ারি ২৭.২০২১ at ০৭:০৮:০০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/এসআরসে/রারি