ভাঙ্গুড়ায় ফসলি জমিতে পুকুর খননের মহোৎসব

বিজ্ঞাপন

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় অনুমতি ছাড়াই ফসলি জমিতে অবৈধভাবে চলছে পুকুর খননের মহোৎসব। পুকুর খননের ফলে এ উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে কমছে কৃষি জমির পরিমাণ।

শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) সরেজমিনে উপজেলার মেন্দা খালপাট মৌজায় গিয়ে দেখা যায় এস্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে ফসলি জমি কেটে পুকুর খনন কাজ চলছে। সেখানে কুত্তা গাড়ি (শ্যালো ইঞ্জিন দ্বারা তৈরি টলি) দিয়ে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে স্থানীয় বিভিন্ন স্থানে। প্রতি কুত্তা গাড়ি মাটি বিক্রি হচ্ছে ৫’শ থেকে ৬’শ টাকায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ভাঙ্গুড়া উপজেলায় একটি পৌরসভা ও ছয়টি ইউনিয়ন রয়েছে। বর্তমানে এখানে প্রায় ১০ হাজার ৭৮০ হেক্টর ফসলি জমি রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জমির মালিক আছের আলী তার আবাদি জমির মাটি কাটার জন্য স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল কাদেরের সাথে চুক্তি করে এই কাজ করছে। মাটি বহনকারী কুত্তা গাড়ীর দাপটে প্রধান রাস্তাসহ যান চলাচলের অন্যান্য সড়কগুলোর চরম ক্ষতি হচ্ছে।

আরো পড়ুন :
জাবিতে দেশবরেণ্য নাট্যচার্যের প্রয়াণ দিবস পালিত
নতুন করোনা শনাক্ত ৪৩৭৮, মৃত্যু ৬

পাশাপাশি মাটি বহনকারী এসব কুত্তা গাড়ীতে মাটি বহন করার সময় ধুলাবালিতে পথে চলাচলকারী মানুষের শ্বাসকষ্ট সহ নানা সমস্যা হচ্ছে। পুকুর খনন বন্ধে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে আশা প্রকাশ করেন অনেকে। ফসলি জমিতে পুকুর খননের বিষয়ে জানতে চাইলে পুকুর খননকারী আছের আলী বলেন, দুই বছর আগে অনুমতি নিয়ে এসেছিলাম।

অর্থকরী না থাকার কারণে মাটি কাটতে পারিনি তাই এই বছর মাটি কাটা শুরু করেছি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. এনামুল হক বলেন, প্রতিবছরই যে হারে পুকুর বাড়ছে এর ফলে কমে যাচ্ছে আবাদি জমির পরিমাণ। অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন করার ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি বিপাশা হোসাইন বলেন, খোঁজ নিয়ে দ্রুত তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জানুয়ারি ১৪.২০২১ at ২০:০৫:০০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/সাহো/রারি