কোন দিকে মোড় নিচ্ছে অন্তঃসত্ত্বা সাবিত্রী হত‌্যাকান্ড ও পুলিশ হেফাজতে হিমাংশুর আত্মহত্যা

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানায় হিমাংশু রায়ের আত্মহত্যার ঘটনা নিয়ে সমালোচনা হলেও ধামাচাপা পড়ার মুখে তার স্ত্রী ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ সাবিত্রী রাণীর হত্যাকাণ্ডটি। সাবিত্রী রানীর স্বামী হিমাংশু রায় ও তার বড় মেয়ে প্রিয়াংকাসহ এলাকাবাসীর পারস্পরিক বিরোধী বক্তব্যে সৃষ্টি হয়েছে ধুম্রজাল।

স্থানীয়দের দাবী এ হত্যাকান্ডের সাথে যে বা যারাই জড়িত থাক তাদের আইনের আওতায় আনা হোক। পাশাপাশি পুলিশ হেফাজতে হিমাংশু রায়ের আত্মহত্যা পুলিশের দায়িত্ব পালনে অবহেলা ছিলো কিনা তারও তদন্তের দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে অনেকেই সন্দেহ করেছেন সবিত্রী হত্যাকান্ডের সাথে তার স্বামী হিমাংশু রায় জড়িত থাকতে পারে এবং এ হত্যাকান্ডে তাকে কেউ না কেউ সহযোগিতা করতে পারে। এদিকে হিমাংশু রায়ের পিতা বলছে আমার ছেলে আত্মহত্যা করেছে। ছেলের মৃত্যু নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই। ছেলে আত্মহত্যা করেছে তা মেনে নিয়েই আমি তার সৎকার করেছি।

জানাগেছে, গত শুক্রবার ভোর রাতে উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের পুর্ব কাদমার মালদাপাড়া এলাকায় বিশ্বেস্বর রায়ের পুত্র হিমাংশু রায়ের স্ত্রী সাবিত্রী রানী হত্যাকান্ডের শিকার হয়। সকাল বেলা হিমাংশু রায় প্রতিবেশীদের ডেকে বলেন, তার বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে। ডাকাতরা বাড়ি থেকে ৭২ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যাওয়ার সময় তার স্ত্রীকে হত্যা করেছে। পরের দিন সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে এবং সন্দেহজনক কারণে হিমাংশু রায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন‌্য আটক করে থানায় নিয়ে আসে। থানায় নারী ডেস্ক রুমে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন‌্য রাখলে সেই রুমে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন হিমাংশু রায়। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত‌্যু হয়।

পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদে হিমাংশু রায় পুলিশকে জানান, তিনি পাশে এক অনুষ্ঠান থেকে ভোর সাড়ে তিনটার দিকে বাড়ি ফিরে তার বড় মেয়ে প্রিয়াংকার কাছে জানতে পায় তার স্ত্রীকে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরে ঘরের পাশে তুলশী গাছের নিচে তিনি তার স্ত্রী সাবিত্রী রানীর লাশ দেখতে পায়।

তবে হিমাংশু-সাবিত্রী’র বড় মেয়ে প্রিয়াংকা জানান, ভিন্ন কথা। তিনি কখনো বলেন বাবা রাত ১২টার দিকে বাড়িতে এসেছে তখন মাসহ আমরা ঘুমে ছিলাম। কখনো বলেন বাবা আসার আগে কালো কোর্ট পড়া একজন লোক এসে মাকে গলাটিপে হত্যা করেন। তাহলে সেই লাশ ঘরের বাহিরে কি ভাবে গেল এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রিয়াংকা জানান, তখন আমি ঘুমিয়ে ছিলাম।

এদিকে প্রতিবেশীরা জানান, হিমাংশুর বাড়িতে মধ্য রাতে ডাকাতি হয়েছে এমন কোনো চিল্লাচিল্ল আমরা শুনতে পাই নাই। সকাল বেলা হিমাংশুর মুখে শুনি রাতে নাকি ডাকাতরা তার স্ত্রীকে হত্যা করে টাকা নিয়ে গেছেন।

সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায় ভিন্ন তথ্য। হিমাংশু রায় ছিলো একজন বেকার, তিনি নিয়মিত জুয়া খেলতেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় প্রায় সময় সাবিত্রী রানীকে নির্যাতন করতেন হিমাংশু রায়। ঘটনার দিনও পাশে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের অজুহাতে জুয়া খেলে ভোর রাতে বাড়ি ফিরেছেন হিমাংশু।

আরো পড়ুন :
তালায় ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সের শিক্ষার্থীদের মাঝে টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন
শিবগঞ্জে শীতবস্ত্র দিলো বিএনপি

এলাকাবাসী বলছেন, যদি হিমাংশুর বাড়ি ডাকাতি হয় তাহলে ঘটনার সময় বা তার পরে চিল্লাচিল্ল করা হলো না কেন? আমরা প্রতিবেশীরা বুঝলাম না যে হিমাংশুর বাড়ি ডাকাতি হয়েছে। হিমাংশু-সবিত্রী’র বড় মেয়ে প্রিয়াংকা বলছে একজন কালো কোর্ট পড়া লোক এসে তার মাকে গলা চিপে ঘরের ভিতরে হত্যা করেছে। প্রিয়াংকার কথা যদি সত্য হয় তাহলে সেই লাশ ঘর থেকে বাহিরে বের করলো কে? অনেকেই সন্দেহ করেছেন সাবিত্রী হত্যাকান্ডের সাথে তার স্বামী হিমাংশু রায় জড়িত থাকতে পারে এবং এ হত্যাকান্ডে কেউ না কেউ হিমাংশু রায়কে সহযোগিতাও করেছেন।

এ বিষয়ে হিমাংশু রায়ের পিতা বিশ্বেস্বর রায় বলেন, আমার ছেলের বউ হত্যাকান্ডের সাথে আমার ছেলে জড়িত থাকলেও থাকতে পারে। সেটা যেহেতু দেখি নাই এ নিয়ে কি বলি? আমার ছেলে আত্মহত্যা করেছে তা মেনে নিয়েই সৎকার করেছি।

তবে হত্যাকান্ডের শিকার সাবিত্রী রানীর ভাই খগেন চন্দ্র বলেন, আমার বোনকে হত্যা করা হয়েছে। ভাগিনী দুইটির ভবিষ্যত চিন্তা করে এ নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করতে চাই না। আমরা নিজেদের মধ্যে মিমাংসা করে নিয়েছি। তবে আমার বোনের হত্যাকান্ডের সাথে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে।

লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা বলেন, সাবিত্রী হত্যাকান্ড ও পুলিশ হেফাজতে হিমাংশু রায়ের আত্মহত্যা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানুয়ারি ১০.২০২১ at ১৫:৪৫:০০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/কাআখো/রারি