ভারতে বিভিন্ন মেয়াদে জেল খেটে দেশে ফিরেছে ২১ নারী, শিশুসহ কিশোর-কিশোরী

ভারতে বিভিন্ন মেয়াদে জেল খেটে দেশে ফিরেছে ২১ জন নারী, শিশু ও কিশোর-কিশোরী। শুক্রবার (৭ জানুয়ারী) বিকাল ৫ টার সময় বেনাপোল চেকপোষ্ট দিয়ে বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের গ্রহন করেন। একই সাথে আরো ৭ জনের ওমিক্রন সংক্রমণ হওয়ায় তাদেরকে পাঠানো হয়নি। এসময় কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ হাই কমিশনের প্রথম সেক্রেটারী শামিমা ইয়াসমিন স্মৃতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের পরিচালক সেহেলি শাবরিনসহ উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আলীফ রেজা, বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি মামুন খান ও ইমিগ্রেশন ওসি মোঃ রাজু।

দেশে ফেরত আসারা হলো, নড়াইল জেলার জামরিলডাঙ্গা গ্রামের নজরুল সিকদারের ছেলে আবুদা সিকদার (৯), একই গ্রামের ইউনুসছ মিয়ার ছেলে আয়ান (৬) ও তার স্ত্রী তাসলিমা আক্তার (১৮) বাগেরহাট জেলার মুকুল দাসের ছেলে হৃদয় দাস (১৬), যশোর জেলার সোনা হুসাইনের ছেলে সাকিল সেখ (১৫), ঠাকুরগাঁও জেলার এনাতুর রহমানের ছেলে মাসুদ রানা (১৫), বাগেরহাট জেলার নুরুল শেখের ছেলে রাব্বি শেখ (১২), একই জেলার নয়া মিয়ার ছেলে রাকিব মিয়া (১০), ঢাকা জেলার জাহাঙ্গীর মিয়ার মেয়ে মুন্নি (১৭), নিহার মন্ডলের ছেলে পার্থ মন্ডল (৩), চট্রগ্রাম জেলার মো. আলীর মেয়ে ইয়াসমীন (২০), মুন্সিগঞ্জ জেলার সাইদুর রহমানের মেয়ে নওশীন রহমান (১৪) ও ফিউনা রহমান (৯), বাগেরহাট জেলার আব্দুল হালিমের মেয়ে শিমুল বেগম (২৩), ঢাকা জেলার সাবু শেখের মেয়ে আরিফা খাতুন (১৩), ঝিনাইদাহ জেলার আবু তালেব শেখের মেয়ে সালমা খাতুন (২৫), নড়াইল জেলার মাসুদ মোল্যার মেয়ে মরিয়ম (৩), হাদিস শেখের মেয়ে মুসলিমা বেগম (২৫), তার মেয়ে নাইমা খাতুন (৪), শিমুল শেখের মেয়ে রুকাইয়া (৪) ও খুলনা জেলার অমল সরকারের ছেলে রাকেশ সরকার (১৪)।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন ওসি মোহাম্মাদ রাজু বলেন, এরা ভারতে যেয়ে কেউ হারিয়ে যায়, কেউ পুলিশের কাছে আটক হয়ে আদালতের মাধ্যেমে সে দেশের সেইফ হোমে থাকে। আজ এ পথ দিয়ে ২৮ জনের আসার কথা থাকলেও ৭ জন ওমিক্রণে আক্রান্ত হওয়ায় দেশে ফিরেছে ২১ জন। ইমিগ্রেশন এর আনুষ্ঠানিকতা শেষে এদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ দুতাবাসের প্রথম সেক্রেটারী শামিমা ইয়াসমিন স্মৃতি বলেন, এরা কেউ কেউ পাচারের শিকার ও কেউ কেউ স্ব-ইচ্ছায় ভারতে অবস্থানের পর সে দেশের পুলিশের কাছে আটক হয়। এরপর বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন কলকাতা, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রানালয়ের যৌথ উদ্যেগে বিভিন্ন সেইফ হোমে অবস্থানরত এসকল বাংলাদেশী নারী ও শিশুদের নাগরিকত্ব যাচাই বাছাই পূর্বক বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যেমে বাংলাদেশে ফেরত আনা হয়েছে।

বাংলাদেশ পরারাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের পরিচালক সেহেলী সাবরিন বলেন, আমরা বিভিন্ন দেশে নারী শিশু পাচার হওয়াদের উদ্ধারে কাজ করে থাকি। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পাচার হওয়া ২৮ জন শিশু ও নারীদের আমারা উদ্ধার করি। এরপর ভারতে তাদের সংক্রমণ পরীক্ষার পর ৭ জনের ওমিক্রণ ধরা পড়ে। যার ফলে আমরা দেশে আজ ২১ জনকে ফিরিয়ে এনেছি।

শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আলীফ রেজা বলেন ভারতে পাচার হওয়া শিশু ও কিশোর কিশোরীদের সরকারী প্রচেষ্টায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের এনজিও সংস্থা এদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সহযোগিতা করেছেন।

ভারতে পাচার হওয়া নড়াইল জেলার বনগাঁও গ্রামের ৪ বছরের শিশু রুকাইয়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মা-বাবার নিকট থেকে গত ৫ মাস আগে হারিয়ে যায়। সেও আজ দেশে ফিরেছে। তার খালা লিমা আক্তার বলেন, আমরা তাকে পেয়ে ভীষন আনন্দিত। এসময় রুকাইয়ার খালা আনন্দে কেঁদে ফেলেন।

যশোর মহিলা আইনজীবি সমিতির সমন্বয়কারী রেখা বিশ্বাস বলেন, পাচার হওয়া ও সেচ্ছায় যেয়ে হারিয়ে যাওয়া শিশুদের পরিবার থেকে অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা সরকারের মাধ্যেমে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কাজ করি। এরপর ৫ মাস থেকে ৬ বছর পর্যন্ত জেল ও সেইফ হোমে থাকা শিশু কিশোর ও কিশোরীদের দেশে ফিরিয়ে আনি।

যশোর জাস্টিস এন্ড কেয়ার এর ফিল্ড অফিসার রোকেয়া বেগম বলেন, মানব পাচার এবং বিদেশে বাংলাদেশীরা আটক হলে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে জাস্টিস এন্ড কেয়ার কাজ করে থাকে। ইমিগ্রেশন কাস্টমস ও থানার আনুষ্টানিকতার পর তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।