সাগর মোহনায় জেলে ট্রলার ডুবি, ভোলায় নিখোঁজ ২০ জেলে পরিবার উদ্বেগ-উৎকন্ঠায়

বিজ্ঞাপন

দুই দিনেও সাগরে মোহনায় জেলে ট্রলারডুবির ঘটনায় সন্ধান মেলেনি ভোলা সদর ও চরফ্যাশনের নিখোঁজ ২০ জেলের। এতে জেলে পরিবারগুলোর মধ্যে বিরাজ করছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।

ট্রলার দূর্ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন কারও বাবা, কারও সন্তান, কারও বা স্বামী। পরিবারের একমাত্র উপর্জনক্ষম ব্যক্তিকে না পেয়ে শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন পরিবারগুলোর সদস্যরা। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে চরফ্যাশনের ৩ টি এবং ভোলা সদরের ১ গ্রাম।

সেই দূর্ঘটনায় হাফিজ নামে ১ জেলে জীবিত উদ্ধার হলেও অন্যদের না পেয়ে নিখোঁজ জেলে পরিবারগুলোতে চলছে শোকের মাতম। নিখোঁজরা জীবিত ফিরবেন, এমন আশা ও অপক্ষায় দিন গুনছেন জেলে পরিবারগুলো।

নিখোঁজ জেলেরা হলেন- বাচ্চু মাঝি, ফারুক, জাভেদ, আলামিন, মালেক, ইউসুফ, জলিল, রফিক, মাসুদ, বাচ্ছু, নুরুল ইসলাম, হারুন, নূর আলম, বাশার, সুমন, শাহিন, দীন ইসলাম, নাগর মাঝি ও জসিম। তাদের বাড়ি উপজেলার আব্দুল্লাপুর, জাহানপুর, নীল কমল ও ভোলা সদরের ইলিশা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে।

নিখোঁজ জেলে সুমনের বৃদ্ধ বাবা নূরুল ইসলাম চৌধুরী কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার ছেলে কোথায়। তার একটি তিন বছরের কণ্যা সন্তান রয়েছে। সে বাবার জন্য কান্না-কাটি করছে। কিন্তু সাগর মোহনায় ট্রলারডুবির ঘটনায় সুমন এখনো নিখোঁজ। এখন তার একমাত্র সন্তান কে দেখবে। আমরা ক্ষতিপূরণ চাই।

নিখোঁজ জেলে খালেকের ছেলে আ. রহিম বলেন, বাবা মাছ ধরা শেষে করে বাড়িতে ফেরার কথা ছিল, সেই যে গেল আর ফিরে এলো না। বাবার চিন্তায় আমাদের পুরো পরিবার অসহায় হয়ে পড়েছে। নিখোঁজ জেলেরা বেঁচে আছেন কি না, তাও জানা নেই পরিবারগুলোর। তবে তারা ঘাতক ট্রলারের বিচারের দাবি করেন।

আরো পড়ুন :
সরকারি অফিসে ‘আগ্নেয়াস্ত্র’ সেলফিতে তৃণমূল সভানেত্রী
থানচিতে পরিবার কল্যাণ সেবা প্রচারে সপ্তাহ সভা অনুষ্ঠিত

চরফ্যাশন উপজলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ আল নেমান বলেন, নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারের জন্য কোস্টগার্ড চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা এখনো ঢালচর থেকে ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এসএল আর-৫ নামে একটি ট্রলারের ধাক্কায় এ ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। ওই ট্রলারের নামে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পুলিশকে বিষয়টি তদন্ত করতে বলা হয়েছে। এছাড়াও নিখোঁজ জেলে পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যাপারে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।

রোববার (৫ ডিসেম্বর) দিনগত রাতে মাছ ধরার শেষে ফেরার পথে একটি ট্রলারের সঙ্গে ধাক্কায় ২১ জেলে নিয়ে কামাল খন্দকারের ’মা’ সমাছুনাহার একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে যায়। এতে ১ জেলে উদ্ধার হলেও এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন ২০ জেলে।

ডিসেম্বর ০৭.২০২১ at ২২:১০:০০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/কাশা/রারি