দৌলতপুরে আ.লীগ কর্মী গুলিবিদ্ধ, বিএনপি কর্মীর বাড়ি ভাঙচুর : ওসি প্রত্যাহার

বিজ্ঞাপন

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় থামছেই না নির্বাচনী সহিংসতা। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ও দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ধারাবাহিক সহিংসতার পর এবার সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েছে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরাও। বুধবার (২৪ নভেম্বর) রাতে উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের কল্যাণপুর বটতলা এলাকায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, গুলি, অগ্নিসংযোগ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে সাগর নামে এক আওয়ামী লীগ কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। অন্যদিকে মাসুদ নামে এক বিএনপি কর্মীর বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনার পরপরই দৌলতপুর থানার ওসি নাসির উদ্দিনকে এখান থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, দৌলতপুর উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী সেলিম চৌধুরী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়া উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি বিল্লাল হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে বুধবার রাতে কল্যাণপুর বটতলা এলাকায় ব্যাপক সহিংসতা দেখা দেয়। এর একদিন আগে বিএনপি নেতা বিল্লাল হোসেনের সমর্থিত কয়েকজন সবজি ব্যবসায়ী আল্লারদর্গা বাজারে সবজি বিক্রি করতে গেলে তারা সেলিম চৌধুরীর কর্মীদের বাধার মুখে পড়েন। তাদের বাড়ি উপজেলার কল্যাণপুর বটতলা এলাকায়। আগের ওই বাধার ঘটনার জেরে বুধবার রাত ৮টার দিকে কল্যাণপুর বটতলা এলাকায় সেলিম চৌধুরীর কর্মী-সমর্থক ও বিল্লাল হোসেসের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সহিংস ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

আরো পড়ুন:
চোখ নিয়ে ভয়াবহ তথ্য দিলেন বিজ্ঞানীরা
অবসরের ঘোষণা দিয়ে পাপনকে যা বললেন রিয়াদ

স্থানীয়রা জানান, এ ঘটনার সময় ৫-৬ রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। এতে এলাকার লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন আওয়ামী লীগ কর্মী সাগর। তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিএনপি কর্মীদের ধাওয়ায় আওয়ামী লীগের কর্মীরা পিছু হটলে তাদের ফেলে যাওয়া একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দেয়া হয়। গুলিবিদ্ধ সাগর বর্তমান চেয়ারম্যান সেলিম চৌধুরীর ছোট ভাই উপজেলা যুবলীগ সভাপতি বুলবুল আহমেদ টৌকেন চৌধুরীর ব্যক্তিগত গাড়ি চালক।

এদিকে কল্যাণপুরের এ ঘটনার পর পাশের আল্লারদর্গা থেকে প্রায় অর্ধশত মোটরসাইকেল নিয়ে আওয়ামী লীগ কর্মীরা বিএনপি অধ্যুষিত কল্যাণপুর বটতলায় এসে মহড়া দেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে আবারো নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। ফের শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। একপর্যায়ে বিএনপি কর্মীরা পিছু হটতে বাধ্য হন। এ সময় আওয়ামী লীগ কর্মীরা বিএনপি কর্মী মাসুদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষ একে অপররের ওপর পরস্পরবিরোধী অভিযোগ করেন।

সেলিম চৌধুরী কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল হক চৌধুরীর ভাই। তিনি পুনরায় আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বর্তমান চেয়ারম্যান সেলিম চৌধুরী সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লার ভাই শামীম মোল্লার নির্দেশে বিএনপির কর্মীরা কল্যাণপুর বাজারে তার নির্বাচনী অফিসে হামলা ও ভাঙচুর করেছেন। এর আগে তারা বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মিছিল বের করেন। ওই মিছিল থেকে নির্বাচনী অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয় বলে সেলিম চৌধুরীর দাবি।

অন্যদিকে উপজেলা বিএনপি সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সেলিম চৌধুরীর নির্বাচনী অফিস ভাঙচুরের নামে নাটক সাজানো হয়েছে। সেখানে বিএনপির কোনো মিছিলই বের হয়নি। এই সাজানো নাটকের মাধ্যমে মূল ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে বিএনপির ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের ফাঁসাতে আওয়ামী লীগ কর্মীরা নিজেরাই নিজেদের অফিস ভাঙচুর করে এই সহিংসতার সূত্রপাত ঘটিয়েছেন বলে দাবি বাচ্চু মোল্লার।

দৌলতপুর থানার ওসি নাসির উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, দুই পক্ষের মধ্যে সহিংসতার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পুনরায় সহিংসতার আশঙ্কায় সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এদিকে ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম জানান, সেলিম চৌধুরীর পক্ষ থেকে বুধবার গভীর রাতে দৌলতপুর থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে। অভিযোগটি তদদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে আগামী ২৮ নভেম্বরের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিকভাবে সহিংসতা চলে আসছে। পুলিশ কিছুতেই এসব সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না। সর্বশেষ বুধবার রাতের এ ঘটনার পরপরই নির্বাচন কমিশনের এক আদেশে দৌলতপুর থানার ওসি নাসির উদ্দিনকে এখান থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। তাকে কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে। কুষ্টিয়া সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর এসএম জাবিদ হাসানকে দৌলতপুর থানায় তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। ওসি নাসির উদ্দিন রাতেই ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শফিকুল ইসলামের কাছে দায়িত্বভার হস্তান্তর করেন। বৃহস্পতিবার ভোরে নতুন ওসি জাবিদ হাসান এ থানার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন।

নভেম্বর ২৫.২০২১ at ০১:১৫:০০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/এআস/জআ