কলেজের হিসাব সহকারির বিরুদ্ধে ছাত্রীকে তুলে নিয়ে বিয়ের অভিযোগ

বিজ্ঞাপন

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার সাফদারপুর এস.ডি.ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে তুলে নিয়ে বিয়ের অভিযোগ ওই কলেজের হিসাব সহকারি খলিলুর রহমান রানার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর পিতা বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ করেছেন। এতে সংশ্লিষ্ট কলেজসহ এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্ঠি হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২১ নভেম্বর উপজেলার সাফদারপুর এলাকার জনৈক ব্যক্তির একমাত্র মেয়ে এস.ডি.ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী নিজ বাড়ি থেকে সকাল ৯টায় কলেজে ক্লাস করতে যায়। কলেজে যাওয়ার পর বিবাদী সাফদারপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য আহেদ আলীর ছেলে ও এস.ডি.ডিগ্রি কলেজের হিসাব সহকারি খলিলুর রহমান রানাসহ কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি কলেজ থেকে ওই ছাত্রীকে উঠিয়ে নিয়ে যায়।

এর পর থেকে ওই ছাত্রীর সন্ধান মেলেনি। পরবর্তিতে একটি সূত্রে মেয়েটির পরিবার জানতে পারে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ভাবে রানা মেয়েটিকে বিবাহ করেছে। এতে ছেলেটির বাবা আহেদ আলীসহ তার সহযোগী একই এলাকার বাবু, রিমন, রোকন, স্বপন, টোকন ,আলম ও স্বপন ঘোষ সহযোহিতা করেছে বলে অভিযোগ করেন ওই ছাত্রীর পরিবার।

পরে মেয়েটি সুযোগ পেয়ে তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার দিয়ে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এঘটনায় মেয়েটির পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও কোন প্রকার আইনি সহায়তা পাননি বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবার। এলাকাবাসী বলেন, রানার বাবা আহেদ আলী স্থানীয় প্রভাবশালী হওয়ায় সাধারণ মানুষ তার ও ছেলের বিরুদ্ধে কোন প্রকার কথা বলতে পারেন না।

আরো পড়ুন :
কোটচাঁদপুরে ইজিবাইকের ধাক্কায় বাবার হাত থেকে ছিটকে পড়ে শিশুর মৃত্যু
চিতলমারী সবুজ সংঘ ক্লাবের নির্বাচনে ১৮ ফরম জমা

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকে বলেন, চাকুরী পাওয়ার আগেও রানা এলাকায় বখাটে হিসাবে পরিচিত ছিল। এমনকি মাদক সেবনের দায়েও পুলিশের কাছে আটক হয়েছে। বাবার ক্ষমতার দাপটে ছেলে এলাকায় বিভিন্ন প্রকার অপকর্ম করে গেছে। স্কুল কলেজের মেয়েদের সঙ্গে ইভটিজিং করার অভিযোগও আছে রানার বিরুদ্ধে। গেল বছর রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় এস.ডি.ডিগ্রি কলেজের হিসাব সহকারির চাকুরী পান রানা।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একজন সাধারণ হিসাব সহকারির বিরুদ্ধে একই কলেজের শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে বিয়ে করাই সাধারণ শিক্ষার্থীরা উদ্বিগ্ন। এ বিষয়ে এস.ডি.ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ অমল বোষ এর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি ঢাকায় ছিলাম, তবে ঘটনাটি আমি শুনেছি। এসময় তিনি বলেন, এঘটনায় কলেজের ভাবমুর্তি নষ্ট হবে।

নভেম্বর ২৪.২০২১ at ২১:১৫:০০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/এএর/রারি