হাফ পাস শিক্ষার্থীদের আবদার নয়, অধিকার

বিজ্ঞাপন

শিক্ষার্থীদের অর্ধেক ভাড়া দেওয়ার ব্যাপারে কোনও আইনগত ভিত্তি না থাকলেও এটি দীর্ঘদিনের রীতি হিসেবে প্রচলিত। এমনকি দেশ স্বাধীন হওয়ার আগেই আন্দোলন করে ‘হাফ পাস’ প্রথা চালুর কথাও জানা যায়। বিষয়টি পরে বিভিন্ন সময় আলোচনা হলেও লিখিত কোনও আদেশ আসেনি। উল্টো গেল কয়েক বছর ধরে হাফ ভাড়ায় অনীহা বেড়েছে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের। এমনকি কিছু কিছু বাসে লিখেও রাখা হয়, ‘হাফ পাস নেই’। এক শিক্ষার্থী বলেন, হাফ পাস শিক্ষার্থীদের আবদার নয়, অধিকার।

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে সড়কে নেমেছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এসব আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি একটাই শিক্ষার্থীদের জন্য ‘হাফ ভাড়া’ নির্ধারণ করা চায়। করোনাকালে পরিবারের উপার্জন কমার সঙ্গে সঙ্গে তাদের পকেট খরচও কমেছে। নতুন করে বাস ভাড়া বাড়ায় তাদের জন্য বিষয়টি ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেজন্য নতুন করে ‘দানা বাঁধছে’ আন্দোলন।

আন্দোলনগুলোতে ঘৃতাহুতি দিচ্ছে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাসের স্টাফদের আচরণ। বিভিন্ন স্থানে অসৌজন্যমূলক আচরণ, গায়ে হাত তোলা থেকে শুরু করে যৌন হয়রানির মতো অভিযোগ উঠছে। এমনকি রবিবার রাজধানীর বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের এক শিক্ষার্থী হাফ ভাড়া দিতে চাওয়ায় বাসের কন্ট্রাক্টর এক ছাত্রীকে ‘অকথ্য ভাষায়’ গালাগালসহ ধর্ষণের হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিন বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আন্দোলনে নেমেছিলেন পুরান ঢাকা এলাকার আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। প্রত্যেকটি বাসে শিক্ষার্থীদের হাফ পাসের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। হাফ পাসের জন্য শিক্ষার্থীরা যেন হয়রানির শিকার না হয় সে জন্য প্রশাসনে সহযোগিতা চেয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

এদিকে, রাজধানীর রামপুরা বিটিভি ভবনের সামনে (১৫ নভেম্বর) রাইদা পরিবহনের একটি বাস থেকে ভাড়া নিয়ে বিতণ্ডায় এক শিক্ষার্থীকে ‘ঘাড় ধাক্কা দিয়ে’ নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে শিক্ষার্থীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওই রুটের অন্তত অর্ধশত বাস আটক করে রাখে। এক পর্যায়ে পুলিশের মধ্যস্ততায় ওই পরিবহনে ‘হাফ ভাড়া’ নিতে রাজি হলে বিষয়টি সুরাহা হয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সাথে বিহঙ্গ (১৭ নভেম্বর) বাসের হেল্পার অসৌজন্যমূলক আচরণ করার কারণে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বাস ভাঙচুর করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে গ্রেফতারও করা হয়। পরবর্তী সময়ে জবির প্রক্টোরিয়াল টিমের অনুরোধ তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ১৮ নভেম্বর তিতুমীর কলেজের ৪ শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদে শনিবার ঢাকা কলেজের সামনে বাস ভাঙচুর করেন ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী।

আরো পড়ুন:
হোয়াইটওয়াশ এড়াতে একাদশে চার পরিবর্তন!
হাফ ভাড়া দিতে চাওয়ায় কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের হুমকি: চালক-হেলপার আটক

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাসের এক চালক বাংলা সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে হাফ ভাড়া নিলে আমাদের পোষায় না। তারপরও আমরা মাঝেমধ্যে হাফ ভাড়া নেই। আমাদেরও ছেলে-মেয়ে, ভাই-বোন আছে। ওরাও পড়াশোনা করে। কিন্তু সবার থেকে হাফ ভাড়া নিতে গেলে আমাদের ডিজেলের টাকাইতো ওঠে না।

দিন শেষে বাসের মালিককে ৩ হাজার টাকার বেশি জমা দিতে হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মালিকের ভাড়া, তেল ছাড়াও রাস্তায় পুলিশ, শ্রমিক নেতাসহ অনেকরেই টাকা দেওয়া লাগে। (ট্রাফিক পুলিশ) সার্জেন্ট ধরলেই মামলা দেওয়ার ভয় দেখায়, ওদেরও কিছু দেওয়া লাগে। মালিকপক্ষ বাসের দৈনিক জমা কমিয়ে দিলে হাফ ভাড়া নিতে স্টাফদের কোনও অসুবিধা নেই বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে কথা হয় ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহর সঙ্গে। তিনি বলেন, আগে বেসরকারি বাসে হাফ ভাড়া নেওয়া হতো। কিন্তু এখন আর সেই সুযোগ নেই। আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি শিক্ষার্থী। সেক্ষেত্রে প্রতিটি বাস থেকে হাফ ভাড়া নিতে গেলে মালিকপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। সরকার যদি বেসরকারি বাসে শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তুকি দেয় তাহলে হাফ ভাড়া নেওয়া সম্ভব হবে।

নভেম্বর ২২.২০২১ at ১১:৪২:০০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/বট্রি/জআ