বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য কাহালুর মালঞ্চা ইউনিয়নে আ’লীগের- মনোনয়ন প্রত্যাশী ডা. আব্দুল হাকিম

বিজ্ঞাপন

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়ন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় তরুণ প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করতে কিশোর বয়স থেকে এখন পর্যন্ত লড়াই সংগ্রাম করে যাচ্ছেন কাহালু উপজেলার মালঞ্চা ইউপি নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ডা. আব্দুল হাকিম।

হাকিমের পিতা শহীদ ডা. নিযাম উদাদন মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে চলার কারণে রাজাকারেরা তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে পাকসেনাদের হাতে তুলে দিয়েছিলো। ১৯৭১ সালের ২২ নভেম্বর নিযাম উদ্দিনকে নির্মম-নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতন করে হত্যা করে।

কিন্ত আজও তার পরিবার জানেনা নিযাম উদ্দিনের লাশ কোথায় রাখা হয়েছিলো। শনিবার এক সাক্ষাতকারে আবেগ-আফ্লুত হয়ে ডা. আব্দুল হাকিম পিতা শহীদ ডা. নিযাম উদ্দিদ ও তার রাজনৈতিক জীবনের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন এই প্রতিবেদকের কাছে। ডা. আব্দুল হাকিম ১৯৫৭ সালে ১৬ এপ্রিল কাহালু উপজেলার ইন্দুখুর গ্রামে এক সম্ভ্রন্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন।

তিনি এইচ এসসি পাশ করার পর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়ে পল্লী চিকিৎসক হিসেবে পেশা জীবন শুরু করেন। তার কাছে টাকা-পয়সা বড় বিষয় নয় রোগীর সেবা এবং বঞ্চিত মানুষের সেবা করায় ছিলো মূল লক্ষ্য। যারফলে মালঞ্চা ইউনিয়ন থেকে শুরু করে বিভিন্ন এলাকার গরীব-দুঃখী মানুষ বিনা পয়সায় তার কাছে এখন পর্যন্ত পাচ্ছেন চিকিৎসা সেবা।

হাকিমের পিতা নিযাম উদ্দিন ১৯৬৮ সালে কাহালু থানা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও মালঞ্চা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। ৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী নৌকার প্রচারের জন্য নির্বাচনী ক্যাম্প ছিলো নিযাম উদ্দিনের বাড়ি। ১৯৭১ সালে ৭ মার্চ বাঙ্গালীর অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষনের পর নিযাম উদ্দিন মালঞ্চা ইউনিয়নের মানুষসহ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের ও মুক্তিকামী বাঙ্গালীদের সংগঠিত করার অপ্রাণ চেষ্টা করেছেন।

তিনি বগুড়া জিলা স্কুল ও পুলিশ নাইনে মুক্তিযোদ্ধা ট্রেনিং ক্যাম্পে খাবার সরবরাহ করতেন। যারফলে নিযাম উদ্দিনকে ধরে নিয়ে গিয়ে পাকসেনারা নির্মামভাবে হত্যা করে এবং লাশ কোথায় রাখা হয়েছিলো সেই খবর আজও পরিবারের কেউ জানেনা। ডা. আব্দুল হাকিম জানান, আমি ১৯৭৩ সালে কাহালু থানা যুবলীগের প্রতিষ্ঠা সভাপতি ছিলাম। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর জিয়াউর রহমানের সামরিক শাষনের সময় আমাকে বগুড়া থেকে ধরে নিয়ে যায় সেনাবহিনীরা।

ওই সময় বিনা বিচারে আমাকে ১ মাস জিন্নাহ হল (বর্তমান ডাক বাংলায়) অন্ধাকারে আটকে রেখেছিলো। মুক্তি পাওয়ার পর তিনি আওয়ামীলীগের বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশ গ্রহন করেন। তিনি ১৯৮২ সাল থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত পর পর দুবার মালঞ্চা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত সদস্য ছিলেন। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি পর পর তিনবার মালঞ্চা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিএনপি-জামাত অধ্যষিত এই অঞ্চলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়ন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় তরুণ প্রজন্মকে উদ্বুদ্দ করাসহ জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন কর্মকান্ড সাধারন মানুষের কাছে বরাবরই তুলে ধরেছেন।

আরো পড়ুন :
জয়পুরহাটে আইজিপি কাপ জাতীয় যুব কাবাডির উদ্বোধন
রবিবার থেকে নতুন নিয়মে শুরু এসএসসি পরীক্ষা

তিনি চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে তার ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে রাস্তায় ইট সলিং কাজ করেন। শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যপক উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে সার্বিক সহযোগীতা করেছেন। স্যানিটেশন সুবিধাসহ জনগনের কল্যানে তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়ন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় মানুষকে উদ্বুদ্ধ করাসহ বিএনপি-জামাতের অপকের্মর বিরুদ্ধে সব-সময় সোচ্চার থাকায় তিনি বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে নানাভাবে হয়রানীর শিকার হয়েছেন।

বিএনপি- জামাত জোট সরকার বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভুমিকা রাখায় তার বিরুদ্ধে ওই সময় ১১ টি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিলো। ডা. আব্দুল হাকিম ২০০৩ সালে কাহালু উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৫ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি নিষ্ঠার সাথে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন জামাত-শিবির প্রীতি কিছু নেতার কারণে আজ মালঞ্চা ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে শতভাগ আশাবাদী। তিনি মনে করেন বিএনপি-জামাত যতই ষড়যন্ত্র করুক আওয়ামীলীগ ঐক্যবদ্ধ থাকলে আগামী নির্বাচনে আমার ইউনিয়নসহ উপজেলার সকল ইউনিয়নেই নৌকার বিজয় হবে।

নভেম্বর ১৩.২০২১ at ১৮:১৫:০০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/শা/রারি