দিনাজপুরে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দূর্গোৎসবের সমাপ্তি

বিজ্ঞাপন

দিনাজপুরে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ৫ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গোৎসবের সমাপ্তি হয়েছে। এর আগে শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিনে বৃহস্পতিবার জেলার প্রতিটি মন্ডপে মহানবমী ও শুক্রবার বিজয়া দশমী পূজা সম্পন্ন হয়।

শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল ৪টার পর বাসুনয়াপট্টি কেন্দ্রীয় মন্দিরসহ শহরের বিভিন্ন পুজামন্ডপ থেকে প্রতিমা নিয়ে বিসর্জনের জন্য দিনাজপুর শহরের পশ্চিম পাশে অবস্থিত পূর্ণভবা নদীর চাউলিয়াপট্টি সাধুরঘাট এলাকায় যাওয়া হয়। সেখানে গিয়ে একে একে নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়। রাত ৮টায় প্রতিমা বিসর্জন দেয়া শেষ হয়। তবে করোনার কারণে অন্যান্য বাবের মত এবারে বিজয়া শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়নি। সন্ধ্যা ৮টার মধ্যে শহরের সবক’টি পূজা মন্ডপের প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয় পূর্নভবা নদীতে।

উল্লেখ্য, চলতি বছর দিনাজপুর সদর উপজেলায় ১৬৩টি মন্ডপসহ (দিনাজপুর পৌরসভা এলাকার ৪৪টি মন্ডপসহ) দিনাজপুর জেলায় ১২৮১টি পূজা মন্ডপে শারদীয় দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর ছাড়া বিরলে ৯৪টি, চিরিরবন্দরে ১৪৭টি, পার্বতীপুরে ১৬১টি, বীরগঞ্জে ১৬০টি, বোচাগঞ্জে ৮২টি, কাহারোলে ৯৮টি, খানসামায় ১৪৭টি, ফুলবাড়ীতে ৫৭টি, বিরামপুরে ৪০টি, নবাবগঞ্জে ৭২টি, হাকিমপুরে ২১টি ও ঘোড়াঘাট উপজেলায় ৩৯টি মন্ডপে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার ১৫ অক্টোবর জেলার ১৩টি উপজেলায় ১ হাজার ১৫৭টি মন্ডপের প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয় ও ১০৮টি মন্ডপের প্রতিমা বিসর্জন হবে ১৬ অক্টোবর। বাকি ১৬টি মন্ডপের প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পৌরাণিক বর্ণনা অনুযায়ী বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবীদূর্গা তার সন্তান কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতীসহ মর্তলোক (পৃথিবী) থেকে কৈলাসে স্বামীর গৃহে ফিরে যাবেন। এর আগে মহালয়ায় তিনি মর্তলোকে (পৃথিবীতে) পিতৃ গৃহে আগমন করেন। আসুরিক শক্তির বিনাশ আর শান্তি কল্যাণ ও সমৃদ্ধি লাভের জন্য হিন্দু সম্প্রদায় যুগ যুগ ধরে দেবী দূর্গার আরাধনা করে আসছেন।

আরো পড়ুন :
পাইকগাছায় বিদ্যুতের শর্ট সার্কিটে মটর গ্যারেজে আগুন
শিবগঞ্জে পীরব ইউনিয়ন বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

হিন্দু ধর্ম মতে শান্তি, সংহতি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য এবং দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনে বিশ্বব্যাপী মঙ্গল বার্তা নিয়ে দেবী দুর্গা এ সময়ে লোকালয়ে আসেন। পূজার শেষ দিনে শুক্রবার শহরের মন্ডপগুলো ঢাক-ঢোল, কাঁসর ঘণ্টা, শাঁখের ধ্বনি ও ধূপের ধোঁয়া, আর ভক্তিমন্ত্রে মূখর হয়ে ওঠে। সেই সাথে বর্ণাঢ্য আলোকসজ্জায় উদ্ভাসিত হয় মন্ডপগুলো।

অন্যান্য বারের ন্যায় এবারে শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে শত শত হিন্দু-মুসলিম নারী, পুরুষ, শিশু-কিশোর ছুটে আসে প্রতিমা বিসর্জন দেখতে। এ সময় শহরের মডার্ণ মোড় থেকে চাউলিয়াপট্টি সাধুরঘাট পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশ দর্শণার্থীদের পদচারনায় ভরে উঠে। ওই রাস্তার দু’পাশে অস্থায়ী দোকানীরা বিভিন্ন খাবারের দোকান নিয়ে বসেন। প্রতিমা বিসর্জনের দৃশ্য দেখতে আসা দর্শণার্থীরা এসব খাবার কিনে নিয়ে বাড়ী ফিরে যায়।

এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিমা বিসর্জনের সময় সার্বিক নিরাপত্তায় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যবৃন্দ ও দিনাজপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল প্রতিমা বিসর্জনের সময় সাধুরঘাট এলাকায় অবস্থান করেন।

অপরদিকে প্রতিমা বিসর্জনের সার্বিক পরিস্থিতি দেখতে ও তদারকি করতে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক খালিদ মোহাম্মদ জাকী, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বিপিএম, বিপিএম (বার), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুজন সরকার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মুঈদ সাধুরঘাট এলাকায় আসেন। তবে দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজুর কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোজাফ্ফর হোসেন, ওসি তদন্ত মো. আসাদুজ্জামান, দিনাজপুর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাজী আশরাফউজ্জামান বাবু, এক, দুই ও তিন নং সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর মোছা. হাসিনা বেগম, সাবেক কাউন্সিলর রোকেয়া বেগম লাইজু, দিনাজপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার রায়সহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা বিকেল ৪টা থেকে প্রতিমা বিসর্জনের শেষ সময় রাত ৮টা পর্যন্ত সাধুরঘাট এলাকায় অবস্থান করেন।

অক্টোবর ১৫.২০২১ at ২০:৪০:০০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/মোআহো/রারি