কুড়িগ্রামে ২৪ হাজার মানুষের ১ চিকিৎসক

বিজ্ঞাপন

কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে অনুসন্ধান ও তথ্য কেন্দ্রে রোগী-স্বজনদের ভিড়। কুড়িগ্রামে ২০১টি পদের বিপরীতে আছেন ৯৫ জন চিকিৎসক। এদের মধ্যে ৮ চিকিৎসক ডেপুটেশনে আছেন।

রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি থেকেও চিকিৎসাসেবা ঠিকমতো পাচ্ছেন না। দিনে একবার মাত্র চিকিৎসক আসেন। চিকিৎসক এবং নার্স সংকট নিরসন প্রক্রিয়াধীন আছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসন।

কুড়িগ্রামে মোট জনসংখ্যার তুলনায় সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট রয়েছে। প্রতি ২৪ হাজার মানুষের জন্য একজন করে চিকিৎসক রয়েছেন এবং সাত হাজার মানুষের জন্য একজন নার্স। এ কারণে চিকিৎসাসেবা পেতে রোগীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেক সময় বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ বাইরের জেলা থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের।

জেলা সিভিল সার্জন সূত্রে জানা যায়, ২০১টি পদের বিপরীতে আছেন ৯৫ জন চিকিৎসক। শূন্য আছে ১০৬টি। এদের মধ্যে ৮ জন চিকিৎসক ডেপুটেশনে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে এবং জেলার বাইরে রয়েছেন। আর নার্সের ৩৮১টি পদের মধ্যে ৩৩২ জন আছেন।

এ ছাড়া সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৮ জন চিকিৎসকের বিপরীতে আছেন ৭ জন। কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ৪২টি চিকিৎসক পদের মধ্যে আছেন ১৭ জন, ১৬৬টি পদের মধ্যে নার্স আছেন ১৫১ জন। নাগেশ্বরীতে ১৮টির মধ্যে ৮ জন চিকিৎসক রয়েছেন, নার্সের ৩৩টির মধ্যে আছেন ৩০ জন। ভূরুঙ্গামারীতে ১৯টির মধ্যে ১১ জন চিকিৎসক আছেন, ২৭টি পদের মধ্যে আছেন ২৪ জন নার্স।

ফুলবাড়ীতে ১৬টি পদের বিপরীতে চিকিৎসক আছেন ৮ জন, নার্স আছেন ২৫টির বিপরীতে ২০ জন। রাজারহাটে আছেন ১৫ জনের বিপরীতে ৯ জন চিকিৎসক, নার্স আছেন ২৬টি পদের মধ্যে ২২ জন। উলিপুরে ২৭টির মধ্যে ১৩ জন এবং চিলমারীতে ২৬টির মধ্যে আছেন ৯ জন চিকিৎসক। এই দুই উপজেলার ২৬টি নার্সের পদে ২৬ জন আছেন। রৌমারীতে চিকিৎসক আছেন ১৪ জনের মধ্যে ৭ জন, নার্স ২৭ জনের মধ্যে ১৫ জন এবং রাজিবপুরে চিকিৎসক আছেন ৩ জন ১১টি পদের মধ্যে, নার্স আছেন ২৩টির মধ্যে ১৭ জন।

কুড়িগ্রামে ২২ লাখ জনসংখ্যার অনুপাতে প্রায় ২৪ হাজার মানুষের জন্য ১ জন করে চিকিৎসক এবং ৭ হাজার মানুষের জন্য ১ জন করে নার্স সেবাদানে নিয়োজিত রয়েছেন। চিকিৎসক সংকটের কারণে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা।

আরো পড়ুন :
নরসিংদীতে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী ২৮ বছর পর গ্রেফতার
দেশের কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না : প্রধানমন্ত্রী

চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের বাসিন্দা ঠকেরহাট ফইলমারী গ্রামের বাসিন্দা নজির হোসেন বলেন, ‘হাঁপানি, হাড়ের সমস্যা, ডায়াবেটিস রোগে ভুগবার নাগছং বাহে মেলা দিন থাকি। উপজেলার হাসপাতালে ভর্তি আছং সাত/আট দিন হইল। সারা দিনে ডাক্তার খালি একবার আইসে। হাসপাতালত যে খাবার সেগলা খাওন যায় না।’

সদরের পৌর এলাকার ভেলাকোপা গ্রামের বাসিন্দা সেকেন্দার আলী বলেন, ‘কদিন থাকি গায়ত জ্বর। প্যাটের মধ্যে গ্যাসের ব্যথাও আছে। টেকা খরচ করি হাসপাতাল আসি ওষুধ পাই না। ডাক্তারও ঠিকমতো বইসে না। হামার গরিব মাইনষের অসুখ হইলে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নাই।’

সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের চাঁকেন্দা খানপাড়ার বাসিন্দা মোজাম্মেল হক বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে গেইলে ডাক্তারও নাই ওষুধও নাই। হামার চর থাকি টাকা খরচ করি যায়া ডাক্তার পাই না।’

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি আহসান হাবীব নীলু বলেন, ‘পিছিয়ে পড়া উত্তরের জনগোষ্ঠীর জন্য হাসপাতালের শয্যা বাড়ানো হলেও সে তুলনায় চিকিৎসকসহ জনবল বাড়েনি। করোনার প্রাদুর্ভাবের পর কিছু চিকিৎসক রোগী দেখা কমিয়ে দেওয়ার কারণেও অন্যান্য রোগী সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’

কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন হাবিবুর রহমান সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘নার্স সংকট তুলনামূলক রয়েছে। হাসপাতালগুলোতে রোগীর চিকিৎসা দিতে গিয়ে চিকিৎসকদের বেগ পেতে হয়। চিকিৎসক বৃদ্ধি এবং জনবল বাড়ানোর কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে সমস্যা কমে আসবে।’

অক্টোবর ০৪.২০২১ at ১০:৫৫:০০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/নদা/রারি