আমদানি-রপ্তানী বাণিজ্য বৃদ্ধি , বেনাপোল বন্দরে তীব্র যানজট

বিজ্ঞাপন

বেনাপোল বন্দরে বেড়েই চলেছে রপ্তানী পণ্যবাহী ট্রাকের সারি। সৃষ্টি হয়েছে স্মরণকালের ভয়াবহ যানজট। ভারতে প্রবেশের অপেক্ষায় গত ২৫ দিন ধরে রপ্তানি পণ্যবোঝাই ৫ সহস্রাধিক ট্রাক অবস্থান করছে যশোর-কোলকাতা সড়কের শার্শা-শ্যামলাগাছী হয়ে বেনাপোল বন্দর এলাকাসহ সকল শাখা সড়কে। বন্দর অভ্যন্তরে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় স্থান সংকুলানে প্রধান সড়কসহ সকল সংকীর্ণ সড়কে ট্রাক রেখে দেওয়ায় বন্দর এলাকায় জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বেনাপোল স্থলবন্দরের অভ্যন্তর, চেকপোস্ট, রপ্তানি গেট, টার্মিনাল, বেনাপোল পৌর টার্মিনাল, কাস্টমস এলাকা, বাজারসহ যশোর-বেনাপোল প্রধান সড়ক হয়ে শার্শা উপজেলার শামলাগাছী পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়কে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বেনাপোলসহ ভারতে যাওয়া পরিবহনের যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে বেনাপোল ছাড়া প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে পৌরগেট বা আমড়াখালী এলাকায়। সেখান থেকে প্রতিদিনই পথচারি হয়ে রাস্তার পাশ দিয়ে হেটে আসতে সময় লাগছে ১ থেকে দেড় ঘন্টা। সেসাথে ব্যাগ-ব্যাগেজ বহনের ক্ষমতা হারিয়ে অনেকে রাস্তার পাশেই বসে পড়ছেন ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত হয়ে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী, নারী ও শিশুরা। মুমূর্ষু রোগী নিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্সও যাওয়ার উপায় নেই। তেমনি দুর্ভোগে পড়ছেন ভারত যাতায়াতকারি পাসপোর্ট যাত্রীরা।

জানা যায়, ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে জায়গা সঙ্কটের কারণ দেখিয়ে বেনাপোল বন্দর দিয়ে রপ্তানি পণ্যবাহী ট্রাক কম প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বেনাপোল কাস্টমস ও পেট্রাপোল বন্দরের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে রপ্তানি বাণিজ্যের সময় রাত ১১টা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। তাতে সমস্যার কোন সুরাহা হচ্ছেনা।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এই সঙ্কট কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হচ্ছে। এ বন্দর দিয়ে ভারত প্রতিদিন ৩৫০ থেকে ৫০০ ট্রাক পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানি করছে। কিন্তু বাংলাদেশি পণ্য নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা বরাবরই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

তারা আরও জানান, এর আগে ভারত ১৫০ থেকে ২০০ ট্রাক রপ্তানি পণ্য গ্রহণ করলেও বর্তমানে নিচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ ট্রাক। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চলতে থাকলেও স্থানীয় যাটযট সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের অবাধ সুবিধা আদায়ের কারণে তা নিরশন করা সম্ভব হচ্ছেনা বলে জানিয়েছেন নাম না প্রকাশে পুলিশ-প্রশাসনের অনেক কর্তারা।

সংশ্লিষ্ঠ বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তা-কর্মচারিরা জানান, দফায় দফায় আলোচনা করেও কোনো সুরাহা করা যায়নি যানজটের। প্রতিদিন একেকটি ট্রাককে পণ্য পরিবহনের ভাড়ার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ গুনতে হচ্ছে ১৬০০ টাকা করে। সময়মতো গন্তব্যে যেতে না পারায় লাখ লাখ টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন এদেশের রপ্তানিকারকরা।

বেনাপোল বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ভারতে রপ্তানীবাহী ট্রাকের ড্রাইভার-হেলপাররা জানান, বেনাপোল বন্দর এলাকায় টয়লেট ও সুপেয় পানির পর্যাপ্ত কোন ব্যবস্থা না থাকায় তাদের খুব কষ্ট হচ্ছে।

জানা যায়, যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের ওপর পণ্যবোঝাই প্রায় পাঁচ হাজার ট্রাক ভারতে প্রবেশের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। জায়গার অভাবে বেনাপোল বন্দরের অভ্যন্তরে ট্রাকগুলো যেমন রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তেমনি জায়গা না থাকায় ভারতের পেট্রাপোল স্থলবন্দর থেকে আমদানি পণ্যবোঝাই ট্রাকও বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারছে না। যানজট নিরসনের জন্য জরুরী ভিত্তিতে বেনাপোলে স্থায়ী ট্রাফিক পুলিশ নিয়োগ ও ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণসহ স্থানীয় যানযট সৃষ্টিকারি সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠন।

আরো পড়ুন:
চৌগাছায় প্রধানমন্ত্রীর ৭৫তম জন্মদিন পালিত
কাহালু উপজেলা আ’লীগ সম্পাদকের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর জন্মবার্ষিকী পালিত

বেনাপোল ট্রাক-লরি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শাহীন জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে সয়াবিনের ভূষি, পাট, পাটজাত দ্রব্য, গার্মেন্টস সামগ্রী, সাবান, ব্যাটারি, গার্মেন্টস ঝুট ভারতে রপ্তানি হচ্ছে। প্রতিদিন এসব পণ্য নিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ২০০-২৫০ ট্রাক ভারতে প্রবেশের জন্য বেনাপোল বন্দরে আসছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ মাত্র ১০০ ট্রাক গ্রহণ করছে। এতে প্রতিদিনই ১০০ থেকে ১৫০টি ট্রাক থেকে যাচ্ছে বেনাপোল বন্দর এলাকায়। রপ্তানি পণ্যের এসব ট্রাক রাখার মতো টার্মিনাল বা স্থান বেনাপোল বন্দরে নেই। তাই বন্দরের আশপাশের শাখা সড়কসহ প্রধান সড়কে দাঁড়িয়ে আছে ট্রাকগুলো। তাছাড়া বেনাপোল বন্দরে রপ্তানি পণ্যের ট্রাক রাখার জন্য কোনো টার্মিনালও নেই।

বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার জানান, ভারতের পেট্রাপোল বন্দর হয়ে পণ্য আমদানি বাড়ার পাশাপাশি পণ্য রপ্তানিও বেড়েছে দ্বিগুণ। হাজার হাজার পণ্য বোঝাই ট্রাক ভারতে প্রবেশের অপেক্ষায় বেনাপোল বন্দর, বন্দরের আশেপাশে ও প্রধান সড়কে অবস্থান করছে। এতে বন্দর এলাকায় আমদানি-রপ্তানি পণ্য খালাসেও মারাত্বকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, রপ্তানি বাণিজ্য আরও গতিশীল করতে স¤প্রতি ভারতের পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু ওপারের টার্মিনালে জায়গা না থাকায় তারা বেশি ট্রাক নিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।

বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার আজিজুর রহমান বলেন, বেনাপোল বন্দর এলাকায় স্মরণকালের ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ফলে আমদানি-রপ্তানী বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ্য হচ্ছে। ব্যহত হচ্ছে রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়ায়ও।

সেপ্টেম্বর ২৮.২০২১ at ২১:০২:০০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/শকউ/জআ