থানচিতে সাংঙ্গু নদীর উপর”মেলাবন্ধন সেতু”

বিজ্ঞাপন

বান্দরবানে থানচিতে নেটওর্য়াক বিহীন দুর্গম এলাকায় মিয়ানমার সীমান্তে রেমাক্রী ইউনিয়নের বড় মদকের পার্বত্য জেলা পরিষদ উদ্যোগে নির্মাণ করেছে সাংঙ্গু নদীতে ঝুলন্ত সেতু। সাংঙ্গু নদীর ওপার- এপার দুইপারের গ্রামাঞ্চল মানুষের মেলাবন্ধন ও পর্যটনকে একধাপ এগিয়েছে নতুন এই ঝুলন্ত সেতু বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ক্যশৈহ্লা এর প্রচেষ্টা ও পার্বত্য জেলা পরিষদের অর্থায়নে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৯-২১ অর্থবছরে এই সেতুর নির্মান কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

এদিকে এলাকার স্থানীয়রা জানান, পর্যটক ও বড় মদক বাজারের লোকজনের যাতায়াতে জন্য সাংঙ্গু নদীর এপার- ওপারের ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ করেছে পার্বত্য জেলা পরিষদ। ওপার-এপার দুইপারের মানুষের মেলাবন্ধন ও পর্যটক শিল্পের বিকাশের একধাপে এগিয়ে দৃষ্টিনন্দন সবচেয়ে বড় ঝুলন্ত সেতু তৈরী হয়েছে। এই ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের ফলে দুর্গম বড় মদক অঞ্চলে একটি মাত্র সরকারী প্রাইমারী স্কুলের ওপারের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করার আগ্রহসহ সুযোগ পাচ্ছে।

তারা আরো বলেন, থানচি উপজেলা পর্যটক শিল্পের বিকাশ একধাপ এগিয়ে যাবে। সাংগু নদীতে পূর্বপারে বড় মদক বাজার পশ্চিম পারে মানুষের বসবাসরত ১২টি পাড়া রয়েছে। নদীর পারাপারে নৌকার বিকল্প নেই। এবার ওপার এপার পারাপারের জন্য সরকার একটি ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ করার পার্বত্য মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এলাকাবাসীরা।

বড় মদক বাজারের বাসিন্দা উবামং মারমা বলেন, ওপারে প্রুসাঅং কারবারী পাড়া, উসামং পাড়া, ঙাসালাং পাড়া, উসাথোয়াই পাড়া, জুগিরাং পাড়া, চাইশৈউ পাড়া, বাসিংঅং পাড়া, পাতোয়া ম্রো পাড়া, অংগি খুমী পাড়া, ঙারেসা পাড়া, য়ংনং ম্রো পাড়াসহ প্রায় ৩০ টি পাড়ার লোকজন বর্ষাকালে সাংঙ্গু নদীতে পানি বেশী থাকলে এপারে আসতে অনেক কষ্ট হয়েছিল। সুতরাং এই ঝুলন্ত সেতু হবে দুই পারের ৫ হাজারো বেশি মানুষের সেতুবন্ধন।

সেতুটিতে নির্মাণের শ্রমিক ম্রাক্য মারমা জানান, এই ঝুলন্ত সেতু শুভ উদ্ভোধনের জন্য নির্ধারিত সময় ও তারিখের আগেই নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করবো। তবে আগামী ৩০ সেপ্তেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর (উশৈসিং) এমপি এলাকার দৃষ্টিনন্দন এই ঝুলন্ত সেতুটি উদ্ধোধন করে জনসাধারণ ও পর্যটকের জন্য উন্মুক্ত করা কথা রয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে রেমাক্রী (ইউপি) চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা বলেন, থানচি উপজেলা নেটওর্য়াক বিহীন দুর্গম সীমান্তে বিনোদন, পর্যটন ও ওপার- এপার পারাপারে জন্য এই ঝুলন্ত সেতুটি অনেক উপকারে আসবে। সাংঙ্গু নদীর দুইপারের মানুষের মেলাবন্ধনের বর্ষা মৌসুমসহ যে কোন সময়ে পারাপারে সুযোগ পাবে সীমান্তে বসবাসরত মানুষ।

আরো পড়ুন :
যেভাবে ফিরে পাবেন চুরি হওয়া স্মার্টফোন
রাতে ঘুমানোর আগে যা খেলে দ্রুত কমবে ওজন

পার্বত্য বান্দরবান জেলা পরিষদের প্রকৌশল বিভাগের উপ-সহকারী প্রকোশলী থোয়াইচ মং মারমা জানান, রেমাক্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা ও আমাদের প্রকৌশল বিভাগ সকলের অনেক কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করে বড় মদকবাসীদের দাবীর একটি ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ করতে পেরেছি। এটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লাে’র নির্দেশক্রমে ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছিল।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতাউল গনি ওসমানী বলেন, বান্দরবানে থানচি উপজেলা হচ্ছে পর্যটন কেন্দ্র। এখানে বড় পাথর, ঙাফাঃখুমসহ ছোট বড় অসংখ্য দৃষ্টিনন্দন পর্যটন স্পট রয়েছে। এই ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের পর্যটকের মেলাবন্ধনের আগের চেয়ে অবশ্যই পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে।

তিনি আরো বলেন, আগামী ২৯ ও ৩০ দুই দিনের থানচিতে সফর আসছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী মহোদয়। তিনি বড় মদকের এই ঝুলন্ত সেতুর শুভ উদ্ভোধন করা হবে বলে জানান তিনি।

সেপ্টেম্বর  ২২.২০২১ at ১৬:২৫:০০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/চিঅমা/রারি