তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে পোশাক কারখানার উৎপাদন ব্যহত

বিজ্ঞাপন

ঢাকার সাভার আশুলিয়া ও ধামরাইয়ে তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। কারখানাগুলোতে সময়মত গ্যাস না আসায় উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তৈরি পোশাক কারখানার মালিকরা। গ্যাস সংকটের কারণে সময় মতো পণ্য ডেলিভারি দিতে পারছে না কারখানা কর্তৃপক্ষ। এতে করে কোটি কোটি ডলারের রপ্তানি আদেশ বাতিল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, সাভার, আশুলিয়া ও ঢাকার ধামরাইয়ে প্রায় পনের’শর বেশী ছোট বড় মিলিয়ে তৈরি পোশাক কারখানা রয়েছে। এসব পোশাক কারখানায় কাজ করেন কয়েক লক্ষ নারী ও পুরুষ শ্রমিক। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে এসব পোশাক কারখানায় তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে।

গ্যাস সংকটের কারণে কারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। যার ফলে সময়মত শিপমেন্টের পোশাক রপ্তানী করতে পারছে না অনেক কারখানা কর্তৃপক্ষ। এর কারণে ধুকে ধুকে চলছে গ্যাসচালিত মেশিনের কারখানাগুলো। কারখানা কর্তৃপক্ষ বলছেন, জরুরি রপ্তানি কাজের জন্য করোনা ভাইরাসের মধ্যে ও বিশেষ বিবেচনায় পোশাক কারখানা খোলা হয়েছে।

এখন যদি গ্যাসের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়, তাহলে পোশাক রপ্তানিও ব্যাপকভাবে ব্যহত হবে। সময় মতো পণ্য ডেলিভারি দিতে না পারলে কোটি কোটি ডলারের রপ্তানি আদেশ বাতিল হয়ে যাবে। কারখানা মালিকরা দ্রুত গ্যাস সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

অরুনিমা স্পোর্টস ওয়্যাল লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক হারুনুর রশিদ বলেন, গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক সময় শ্রমিকরা অলস সময় কাটান। স্ট্রিম গরম না হওয়ায় গ্যাস চালিত সেকশনগুলোতে পোশাকের ফিনিশিংও ভাল আসেনা। এ নিয়ে চরম আশঙ্কায় আছি।

এবিষয়ে সাভার তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিষ্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেডের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আবু সাদাৎ মোহাম্মদ সায়েম বলেন, গ্যাস সংকট নিরসনে তারা কাজ করে যাচ্ছেন।

তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে গ্যাস সংকটের কথা স্বীকার করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা.এনামুর রহমান এমপি বলেন, দ্রুতই গ্যাস সংকট নিরসন হবে এবং কারখানাগুলোতে উৎপাদন স্বাভাবিক হবে। গ্যাসের নতুন কুপ দ্রুতই চালু হয়ে যাচ্ছে। এরপরেই শতভাগ গ্যাসে সাফল্য আসবে।

আরো পড়ুন :
প্রাথমিকের শিক্ষকদের ১১ দফা নির্দেশনা
যেভাবে ফিরে পাবেন চুরি হওয়া স্মার্টফোন

এদিকে এলাকাবাসীর দাবি সাভার,আশুলিয়া ও ঢাকার ধামরাইয়ে বিভিন্ন বাসা বাড়িতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়ার কারণে কারনাগুলোতে গ্যাসের চাপ কমেছে। সাভার তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এসব বাড়ির অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিছিন্ন করলেও একটি চক্র রাতের আধারে আবারও অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেন।

যার ফলে বৈধ গ্রাহকরা গ্যাস সংকটে ভুগছেন। কারখানার পাশাপাশি বিভিন্ন বাসা বাড়িতেও গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। চলতি বছরে সাভার ও আশুলিয়ায় কয়েক হাজার বাড়ির অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিছিন্ন করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। এসব এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়ার অভিযোগে মামলা দেওয়া হয় সাভার ও আশুলিয়া থানায় কয়েক’শ ব্যক্তির বিরুদ্ধে। মামলা হওয়ার পরে অবৈধ গ্রাহকরা আবারও জামিনে এসে রাষ্ট্রের এই সম্পদ চুরি করে রাতের আঁধারে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে।

সেপ্টেম্বর  ২২.২০২১ at ১৬:২০:০০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/সাহো/রারি