পাইকগাছায় আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও ঘেরের মাছ লুটের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

 পাইকগাছায় আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন।
বিজ্ঞাপন

খুলনার পাইকগাছায় আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি ও পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সমীরণ সাধুর বিরুদ্ধে মৎস্য ঘেরে লুটপাট ও জমি দখলের অভিযোগে রবিবার দুপুরে পাইকগাছা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে।

উপজেলার হিতামপুর গ্রামের আ. হামিদ মোড়লের ছেলে মো. মাকছুদুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে তার লিখিত বক্তব্যে পুরাইকাটী গ্রামের মৃত অধীর সাধুর ছেলে উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি ও পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সমিরন কুমার সাধুকে ধনাঢ্য, পরসম্পদলোভী ও প্রভাবশালী আখ্যা দিয়ে নিজেকে সর্বদা ধর্মীয় ও সরকার দলীয় নেতা পরিচয়ে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ করেন।

ধর্মীয় ও ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কপোতক্ষের চর দখল করে অবৈধভাবে ইট ভাটা নির্মাণ ও প্রস্তুত করেছেন। মাত্র ক’য়েক বছর আগেও একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থাকলেও রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

এসময় মাকছুদুর রহমান উপজেলার হিতামপুর মৌজার এস, এ ৩৭৮ খতিয়ানের ১৭৭ দাগসহ অন্যান্য দাগে মোট ১২ বিঘা জমিতে খরিদা ও ডিডমুলে প্রায় ৬ বছর যাবত শান্তিপুর্ণভাবে মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। কিন্তু উক্ত সমীরণ সাধুর ইট ভাটা সংলগ্ন এলাকায় তার ঘেরটি হওয়ায় বেশ কিছু যাবৎ তার ঘেরের উপর তার কূ-নজর পড়ে। গত আগস্টে তার ঘেরটি দখল করতে তার পিতাসহ তাকে বিভিন্ন ধরণের হুমকি দিতে থাকে।

যার প্রেক্ষিতে তিনি গত ১৬ আগষ্ট/২১ পাইকগাছা থানায় একটি জিডি করেন। যার নং- ৯৪০। তবে জিডির ঘটনায় সমিরন সাধু তার উপর আরো ক্ষিপ্ত হয়ে নানাবিধ হুমকি দিতে থাকে। এরফলে তিনি গত ২২ আগষ্ট ২১’ পাইকগাছা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে সমিরণ সাধুকে প্রধান করে একটি দেওয়ানী মামলা করেন। যার নং- ২৫৮/২১। মামলায় তাকে শো কজ হওয়ায় আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তিনি। এতে এক প্রকার নিরুপায় হয়ে তার পিতা জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে পাইকগাছা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ১০৭ ও ১১৭ ধারায় আরো একটি মামলা করেন। মামলায় আদালত সমিরণ সাধুকে আগামী ১২ অক্টোবর ২১’ স্বশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার সমন দেন।

আরো পড়ুন:
মদনে সেই ঝুমন দাসের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন
চৌগাছায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি সহ গ্রেফতার ২

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তাদের আশংকা সত্যি করে গত শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সমিরন সাধুর নেতৃত্বে তার ভাই বিষ্ণু সাধু, কৃষ্ণ সাধু, বিশ্বজিত সাধু ও মুকুল মোড়লসহ অজ্ঞাতনামা ২৫/৩০ জন ভাড়াটিয়া গুন্ডা বাহিনী দেশীয় অস্ত্রসহ তার মৎস্য ঘেরটি দখলে হানা দেয়। এসময় তার নির্দেশে গুন্ডা বাহিনী মৎস্য ঘেরে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরতে থাকে। এ সময় তারা ঘেরের নেট-পাটা কেটে প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিসাধন করে। প্রায় ৪ বিঘা জমির মধ্যে তান্ডব চালিয়ে ঘেরা-বেড়া, নেট ও মাটির বাঁধ দিতে থাকে।

বিষয়টি থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন আনে। এঘটনায় তিনি গত ৪ সেপ্টেম্বর পাইকগাছা থানায় একটি এজাহার দাখিল করেন।

এসময় তিনি তার লিখিত বক্তব্যে আরো দবি করেন, সমিরণ সাধুর কারণে এঅঞ্চলে বড় কোন শিক্ষা বা সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় স্থানীয় সূধিজনদের সাথে নিয়ে সাবেক জন প্রশাসন সচিব, ইউসুফ হারুনের মাধ্যমে স্থানীয় শেখ রুহুল কুদ্দুস, শেখ ফারুক আহম্মেদ, পিযুষ সাধু, সুবোল সাধুসহ সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জমি ক্রয়সহ সাবেক সচিব ইউসুফ হারুনের মায়ের নামে প্রস্তাবিত আকলিমা খাতুন ভোকেশনাল টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট কলেজ প্রতিষ্ঠা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এরপর তিনিসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকীর উপস্থিতিতে নির্ধারিত সস্থানে ‘প্রস্তাবিত আকলিমা খাতুন ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট কলেজের’’ নাম ফলকের একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করেন। সেই থেকেই সমিরন সাধু তার ও তার পরিবারের ক্ষতি সাধন করতে বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করতে থাকে। কেননা তার ধারণা, সেখানে কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলে পাশাপাশি তার অবৈধ ইটভাটা থাকবে না। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সমিরণ সাধুর ব্যাপারে প্রশাসন ও রাজনৈতিক উর্দ্ধতন নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মাকছুদুর রহমান।

সেপ্টেম্বর ০৫.২০২১ at ১৮:১৪:০০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/শনশ/জআ