পরীমণির জামিন ও হাইকোর্টের ঐতিহাসিক নির্দেশনা

বিজ্ঞাপন

আল্লাহ যা করেন তা ভালোর জন্য করেন। বাংলাদেশে নারী নির্যাতন ও নারীর অবমাননা প্রতিরোধ এক নতুন যুগে প্রবেশ করতে চলেছে। হাইকোর্টের এক নির্দেশ জারির ফলে বাংলাদেশের মানুষের মনে অবশ্যই এই আশা জাগ্রত হবে। বলছিলাম আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্য করেন।

পরীমণি জেল খেটেছেন সাতাশ দিন। বিনা বিচারে পুলিশের ঔদ্ধত্যের কারণে এই জেল খাটা অবশ্যই কষ্টকর। কিন্তু তার এই কষ্ট সার্থক হয়েছে পুলিশ ও নিম্ন আদালতের একশ্রেণির বিচারকের সংবিধানবিরোধী কার্যকলাপ উন্মোচনে।

পরীমণি আমার নাতনির বয়সী। তাকে আরও একটি কারণে অভিনন্দন জানাই, বাংলাদেশে বহু নারী কিছু নব্য ধনীর দ্বারা নির্যাতিত হয়েছেন। আত্মসম্মানের ভয়ে তারা মুখ ফুটে কখনও এই সমাজশত্রুদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাননি।

পরীমণি সাহস করে মুখ খুলেছেন এবং এই নব্য ধনীদের বিকৃত রুচির পুরুষতন্ত্র এবং তাদের সহযোগী রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামার সাহস দেখানোর ফলে বাংলাদেশে নারী নির্যাতন বন্ধ করার ক্ষেত্রে পরীমণি এক ইতিহাস সৃষ্টি করে দিলেন। এখন এই সংগ্রামে যোগ দিতে অনেক নারী সাহস পাবেন।

পশ্চিমা দেশে হলিউডের মতো বিখ্যাত ফিল্মি জগতে নারী নির্যাতন চলছিল বছরের পর বছর। বিখ্যাত সব নায়িকা অগাধ অর্থের মালিক ওয়েস্টিনের লালসার শিকারে পরিণত হয়েছেন। কেউ আত্মসম্মান রক্ষার জন্য, কেউ শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারবেন না- এই ভয়ে এতদিন মুখ খোলেননি।

কেউ কেউ মুখ খুলতে চেয়েছিলেন কিন্তু ওয়েস্টিন তার অর্থবলের সাহায্যে তাদের ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দিয়েছেন। এক নায়িকা বলেছেন, ‘ওয়েস্টিনের শয্যাসঙ্গিনী হতে রাজি না হওয়ার পর কোনো ছবিতে অভিনয় করার জন্য আর তাকে ডাকা হয়নি।’

আরেক বিখ্যাত নায়িকা বলেছেন, ‘তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ নিয়ে গেলেও পুলিশ তাকে পাত্তা দেয়নি।’ এরপরই শুরু হয়েছে তার চরিত্র নিয়ে টানাটানি। প্রমাণ করার চেষ্টা হয়েছে অর্থের বিনিময়ে তিনি বহু পুরুষের শয্যাসঙ্গী হয়েছেন।

ওয়েস্টিনের এই নারী শিকারের সহযোগী ছিলেন বহু ধনাঢ্য ব্যক্তি। এমনকি ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্যের নামও তাতে যুক্ত হয়েছে। ওয়েস্টিনের বিরুদ্ধে যে নারী প্রথম মুখ খোলার সাহস দেখান, তাকেও ‘রাতের রানী’ প্রমাণ করার জন্য ওয়েস্টিন, তার প্রতাপশালী বন্ধুরা, এমনকি একশ্রেণির মিডিয়া পাগল হয়ে উঠেছিল।

কিন্তু নারীসমাজের সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে ওয়েস্টিন ও ধনীচক্রের চক্রান্ত সফল হয়নি। হলিউড ও হলিউডের বাইরের রূপসীরা একযোগে ‘#মি টু’ আন্দোলন শুরু করেন। ওয়েস্টিন দু’হাতে টাকা খরচ করেছেন নিজেকে রক্ষা করার জন্য কিন্তু পারেননি। তিনি এখন জেলে।

বাংলাদেশে একশ্রেণির নব্য ধনী এবং তাদের সহযোগী পুলিশের একটি অংশ পরীমণিকে নিয়ে যে খেলা শুরু করেছিল তাকে ‘নারী মৃগয়া’ বলা চলে। ফেসবুক লাইভে তার ‘আমাকে বাঁচাও’ এই আর্তধ্বনি ‘আমার দরজায় কারা যেন আঘাত করছে, পরিচয় দিচ্ছে না’ এই চিৎকার শুনে তার প্রতি আমার সহানুভূতি জন্মে। লন্ডনে বসে আমার কিছুই করার ছিল না।

আরো পড়ুন :
ময়মনসিংহে র‌্যাবের সঙ্গে গোলাগুলি, অস্ত্রসহ ৪ জঙ্গি গ্রেপ্তার
রাজশাহীতে অটো গ্যারেজের নৈশপ্রহরী খুন: গ্রেফতার-৪

তারপর চোখের সামনেই দেখলাম অভিযান পরিচালনাকারী পুলিশ ও র‌্যাবের বাড়াবাড়ি। হলিউডের ছবিতে দুর্ধর্ষ দস্যু ডাকাত ধরার জন্য প্যারামিলিটারি অভিযান চালায়, সেটারই অভিনয় পরীমণির বাসায় চলছিল বলে মনে হচ্ছিল।

সেপ্টেম্বর  ০৪.২০২১ at ১৬:০০:০০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/সম/রারি