চৌগাছা হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তদন্তের দাবি

বিজ্ঞাপন

ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম আর দুর্নীতির মাধ্যমে টাকা আত্নসাতসহ নানা অভিযোগ,
প্রায় ১০ লাখ টাকার ভুয়া বিল ভাউচার তৈরী,
চৌগাছা হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তার
বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তদন্তের দাবি

যশোরের চৌগাছায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম আর দুর্নীতির মাধ্যমে টাকা আত্নসাতসহ নানা অভিযোগ যার তথ্যে প্রমানও মিলেছে। তার শাসনামলে হাসপাতালের সুনাম হয়েছে ক্ষুন্ন, হাত ছাড়া হয়েছে বারবার মডেল হওয়ার গৌরব। সমুদয় ঘটনা তদন্তপূর্বক যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহনে সংশ্লিষ্ঠদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসি।

মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবায় একে একে ১৩ বার দেশসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করে চৌগাছা ৫০ শয্যা সরকারী হাসপাতাল। বর্তমানে মডেল হওয়া তো দুরের কথা মিলছেনা কাংখিত সেবা, হাসপাতালে এসে প্রসুতি মায়েদের পড়তে হচ্ছে নানা বিড়াম্বনায়। চিকিৎসক, সেবিকা, কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছে সমন্বয়ের অভাব। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. লুৎফুন্নাহার এখানে যোগদানের পর থেকেই সেবারমান তলানিতে পৌছায় আর হুহু করে বেড়েছে ব্যয়খাত।

করোনার এই সংকটময় কালে তিনি ভুয়া বিল ভাউচার তৈরী করে উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসে সম্প্রতি প্রায় ১০ লাখ টাকার বিল জমা দেন। বিষয়টি গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝে জানাজানি হলে সেই ভাউচার দ্রুত ফেরত নেয়। পরে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার বিল জমা দিয়ে টাকা উত্তোলন করেন।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি যে ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকার বিল উত্তোলন করেছেন সেখানেও রয়েছে অনিয়ম। ওই কর্মকর্তা যশোর আল মদিনা সার্জিক্যাল ২৩ জুন ২০২১ সালের তারিখে ১৫৮৩ নং ভাউচারে স্টোরাইল গ্লাবস ২০০ পিচ ৭০ টাকা দরে ১৪ হাজার টাকা, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ৩০ পিচ ২’শ ৫০ এমএল ২০০টাকা দরে ৬ হাজার টাকা, ১৫৮৫ নং ভাউচারে স্টোরাইল গ্ল্যাবস ২৮৫ পিচ ১৯ হাজার ৯শ পঞ্চাশ টাকা, ১৫৮৪ নং ভাউচারে স্টোরাইল গ্লাবস ২৫০ পিজ ১৭ হাজার ৫’শ টাকা, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ১২ পিচ ২’শ ৫০ এমএল ২ হাজার ৪শ টাকা, যশোর একতা ষ্টোর থেকে ৯০ কেজি ব্লিচিং পাউডার ১০ হাজার ৫’শ টাকা ও হাসপাতালের পরিচ্ছন্ন কর্মীর ২০ দিনের দৈনিক মজুরী ৫’শ টাকা হারে ১০ হাজার টাকা প্রদান করে সর্বমোট ৮০ হাজার ৩৫০ টাকার বিল দেন। একই দিনে এক দোকান থেকে তিনটি ভাউচারে সর্বমোট ৫৯ হাজার ৮শ ৫০ টাকার স্টোরাইল গ্লাবস ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।

কর্মচারীরা জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের করোনায় সুরক্ষার জন্য কোনো সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেন নাই। তাহলে এতো টাকার মালামাল কোথায় গেলো এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আর বাকি ৫৯ হাজার ৬’শ ৫০ টাকার কোনো হিসাব দেখাতে পারেননি ওই কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা জানান, যে হিসাব দেখিয়েছেন সেটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। যতসামান্য স্টোরাইল গ্লাবস ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার তিনি হাসপাতালে জমাদেন। বাজারে একটি স্টোরাইল গ্লাবসের দাম ২৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪২ টাকা। অথচ ৭০ টাকা দরে গ্লাবস কেনা হয়েছে। তিনি নিজের ইচ্ছে মতো বিল ভাউচার তৈরী করে টাকা উত্তোলন করেছেন, যা দৃশ্যমান।

আরো পড়ুন:
চিত্রনায়িকা পরীমনি আটক
রাজশাহী জেলা পুলিশের উদ্যোগে অসহায় ও দুঃস্থ তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ
পরী মনির বাসায় র‌্যাবের অভিযান
সড়কের বেহাল দশা : হাজারো মানুষের চরম দুর্ভোগ

এছাড়া ভুয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে তিনি মটরসাইকেলের তেলের প্রায় লাখ টাকা আত্নসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই কর্মকর্তার জন্য সরকারি ১টি মটরসাইকেলের বরাদ্দ থাকলেও যোগদানের পর থেকে কোনো দিনই সেটি ব্যবহার করেননি বলে জানান স্থানীয়রা। অথচ ২০২০ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২১ সালের মে মাস পর্যন্ত তিনি ২’শ ৭০ লিটার পেট্রোল উত্তোলন করেছেন। যার মূল্য ২৩ হাজার ২’শ ৭৪ টাকা, মটরসাইকেলের মবিল উত্তোলন ৫ লিটার যার বিল ভাউচার করেছেন ২ হাজার ২’শ ৫০ টাকা। এছাড়া মটরসাইকেল মেরামত ব্যয় দেখিয়ে বাজারের সোহেল মটরসাইকেল সার্ভিসিং সেন্টারের ভাউচারে ৮ হাজার ৮’শ ৭০ টাকার বিল উত্তোলন করেছেন। মটরসাইকেল মেরামতের বিষয়ে সোহেল সার্ভিসিং সেন্টারের মালিক সোহেলের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, তিনি হাসপাতালের কোন মটরসাইকেল মেরামত করেননি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার প্রতিষ্ঠান হতে ভাউচার নিয়ে নিজের ইচ্ছামত বিল তৈরী করেছেন, ভাউচারের স্বাক্ষরও জাল করা হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ লুৎফুন্নাহারের কাছে জানতে চাইলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে ১০ লাখ টাকার করোনা বিল হিসাবরক্ষণ অফিসে জমাদানের বিষয়ে তিনি বলেন, বিলটি জমাদানের সময় ভুল ছিল। পরে ভুল সংশোধন করা হয়েছে।

আগষ্ট ০৪.২০২১ at ১৮:২৬:০০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/মমই/জআ